
দরোজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হবে ভোট গ্রহণ। এর পরের ধাপেই আসবে সরকার গঠন।বিগত সরকারের আমলে নিষিদ্ধ থাকার পর এবারের নির্বাচনে এগারো দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির চেয়ে পিছিয়ে নেই দলটি। এমনকি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের কথাও বলছেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। এ পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে, প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি কি পারবে এককভাবে সরকার গঠন করতে? নাকি হাঁটতে হবে কোয়ালিশন সরকার গঠনের পথে! এক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যমতের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কতটুকু? কেননা ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে জোট সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমাদের বিশ্বাস সরকার গঠনে বিএনপি একাই সক্ষম। জামায়াত কিংবা অন্য কোনো দলের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন পড়বে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন যুগ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে।যদিও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের তিনটি নির্বাচনের মধ্যে দুটোই বিএনপি অংশ নেয় নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোট গঠনের মাধ্যমে বিএনপি অংশ নিলেও নিশিরাতের ভোটে তারা প্রতারিত হয়েছে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগ জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কার্যক্রমে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে গত দেড় দশক দেশ শাসন করা দলটি এবার নির্বাচনের বাইরে। এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে, যারা ২০০১-০৬ মেয়াদে একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে।
জামায়াতের একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে কথা বলে রয়টার্স জানায়, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী জামায়াত। বিএনপি কি তাদের এই আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো জামায়াত। এ অবস্থায় আমোদের পক্ষে কিভাবে সম্ভব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করা, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’
বিএনপি চেযারম্যান বলেন, ‘আমরা জানি না তারা কয়টি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করি, তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে। আওয়ামী লীগ আমলের মতো সিট ভাগাভাগির পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিয়ে সরকার গঠনের অপরাজনীতিতে বিএনপি যাবে না।
সম্প্রতি বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনিী ইশতেহারে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে’ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠন করবে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা বলেছি, সরকার গঠন করতে পারলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের পাশে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার হবে। সেই অঙ্গীকার এখনো বহাল আছে। তবে যারা সেই সংগ্রামের অংশ ছিল না, তারা এই সরকারের অংশ হবে না।’
জামায়াতে ইসলামী সেই সরকারে জায়গা পাবে কি না–জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্যিকার অথে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সমঝোতা ছিল না। তারা স্বতন্ত্রভাবেই কাজ করেছে। কোনো ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে পরামর্শ বা সমঝোতায় আসার পদক্ষেপ নেয়নি। কাজেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো জাতীয় সরকারের অংশ হিসেবে জামায়াতকে রাখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন,আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।
ভোটের আগে প্রায় সব জরিপে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হচ্ছে। অভ্যুত্থনের ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিও ওই জোটে রয়েছে। কাজেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশের সমর্থন পাবে জামায়াত। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ছাত্র সংগঠন প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ছাত্র ও তরুণ ভোটাররা জামায়াতকে কিছুটা এগিয়ে দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্ররা। ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শীর্ষনেতারা। তবে দলের প্রধান আসন সংখ্যা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ছাত্র আন্দোলন দমন করতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। তাতে করে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিএনপি জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের বাংলাদেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমাদের স্লোগান হলো সবার আগে বাংলাদেশ। অবশ্য সবার আগে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টিই দেখবো। আমাদের বন্ধুত্ব বা ব্যবসা-বাণিজ্য হবে পারস্পরিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পক্ষপাতি আমরা না।বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার সন্তানরা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়টা আমরা জনগণের উপরই ছেড়ে দিতে চায়। যদি জনগণ তাদের সুযোগ দিতে চায়। মানুষ যদি মনে করে, তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত, তাহলে সেটা আটরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারি না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের শরিক দলের প্রার্থীরা।

দরোজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হবে ভোট গ্রহণ। এর পরের ধাপেই আসবে সরকার গঠন।বিগত সরকারের আমলে নিষিদ্ধ থাকার পর এবারের নির্বাচনে এগারো দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির চেয়ে পিছিয়ে নেই দলটি। এমনকি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের কথাও বলছেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। এ পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে, প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি কি পারবে এককভাবে সরকার গঠন করতে? নাকি হাঁটতে হবে কোয়ালিশন সরকার গঠনের পথে! এক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যমতের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কতটুকু? কেননা ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে জোট সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমাদের বিশ্বাস সরকার গঠনে বিএনপি একাই সক্ষম। জামায়াত কিংবা অন্য কোনো দলের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন পড়বে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন যুগ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে।যদিও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের তিনটি নির্বাচনের মধ্যে দুটোই বিএনপি অংশ নেয় নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোট গঠনের মাধ্যমে বিএনপি অংশ নিলেও নিশিরাতের ভোটে তারা প্রতারিত হয়েছে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগ জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কার্যক্রমে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে গত দেড় দশক দেশ শাসন করা দলটি এবার নির্বাচনের বাইরে। এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে, যারা ২০০১-০৬ মেয়াদে একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে।
জামায়াতের একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে কথা বলে রয়টার্স জানায়, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী জামায়াত। বিএনপি কি তাদের এই আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো জামায়াত। এ অবস্থায় আমোদের পক্ষে কিভাবে সম্ভব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করা, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’
বিএনপি চেযারম্যান বলেন, ‘আমরা জানি না তারা কয়টি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করি, তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে। আওয়ামী লীগ আমলের মতো সিট ভাগাভাগির পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিয়ে সরকার গঠনের অপরাজনীতিতে বিএনপি যাবে না।
সম্প্রতি বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনিী ইশতেহারে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে’ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠন করবে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা বলেছি, সরকার গঠন করতে পারলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের পাশে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার হবে। সেই অঙ্গীকার এখনো বহাল আছে। তবে যারা সেই সংগ্রামের অংশ ছিল না, তারা এই সরকারের অংশ হবে না।’
জামায়াতে ইসলামী সেই সরকারে জায়গা পাবে কি না–জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্যিকার অথে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সমঝোতা ছিল না। তারা স্বতন্ত্রভাবেই কাজ করেছে। কোনো ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে পরামর্শ বা সমঝোতায় আসার পদক্ষেপ নেয়নি। কাজেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো জাতীয় সরকারের অংশ হিসেবে জামায়াতকে রাখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন,আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।
ভোটের আগে প্রায় সব জরিপে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হচ্ছে। অভ্যুত্থনের ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিও ওই জোটে রয়েছে। কাজেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশের সমর্থন পাবে জামায়াত। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ছাত্র সংগঠন প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ছাত্র ও তরুণ ভোটাররা জামায়াতকে কিছুটা এগিয়ে দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্ররা। ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শীর্ষনেতারা। তবে দলের প্রধান আসন সংখ্যা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ছাত্র আন্দোলন দমন করতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। তাতে করে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিএনপি জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের বাংলাদেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমাদের স্লোগান হলো সবার আগে বাংলাদেশ। অবশ্য সবার আগে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টিই দেখবো। আমাদের বন্ধুত্ব বা ব্যবসা-বাণিজ্য হবে পারস্পরিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পক্ষপাতি আমরা না।বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার সন্তানরা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়টা আমরা জনগণের উপরই ছেড়ে দিতে চায়। যদি জনগণ তাদের সুযোগ দিতে চায়। মানুষ যদি মনে করে, তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত, তাহলে সেটা আটরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারি না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের শরিক দলের প্রার্থীরা।

দরোজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হবে ভোট গ্রহণ। এর পরের ধাপেই আসবে সরকার গঠন।বিগত সরকারের আমলে নিষিদ্ধ থাকার পর এবারের নির্বাচনে এগারো দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির চেয়ে পিছিয়ে নেই দলটি। এমনকি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের কথাও বলছেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। এ পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে, প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি কি পারবে এককভাবে সরকার গঠন করতে? নাকি হাঁটতে হবে কোয়ালিশন সরকার গঠনের পথে! এক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যমতের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কতটুকু? কেননা ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে জোট সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমাদের বিশ্বাস সরকার গঠনে বিএনপি একাই সক্ষম। জামায়াত কিংবা অন্য কোনো দলের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন পড়বে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন যুগ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে।যদিও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের তিনটি নির্বাচনের মধ্যে দুটোই বিএনপি অংশ নেয় নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোট গঠনের মাধ্যমে বিএনপি অংশ নিলেও নিশিরাতের ভোটে তারা প্রতারিত হয়েছে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগ জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কার্যক্রমে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে গত দেড় দশক দেশ শাসন করা দলটি এবার নির্বাচনের বাইরে। এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে, যারা ২০০১-০৬ মেয়াদে একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে।
জামায়াতের একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে কথা বলে রয়টার্স জানায়, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী জামায়াত। বিএনপি কি তাদের এই আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো জামায়াত। এ অবস্থায় আমোদের পক্ষে কিভাবে সম্ভব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করা, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’
বিএনপি চেযারম্যান বলেন, ‘আমরা জানি না তারা কয়টি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করি, তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে। আওয়ামী লীগ আমলের মতো সিট ভাগাভাগির পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিয়ে সরকার গঠনের অপরাজনীতিতে বিএনপি যাবে না।
সম্প্রতি বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনিী ইশতেহারে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে’ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠন করবে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা বলেছি, সরকার গঠন করতে পারলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের পাশে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার হবে। সেই অঙ্গীকার এখনো বহাল আছে। তবে যারা সেই সংগ্রামের অংশ ছিল না, তারা এই সরকারের অংশ হবে না।’
জামায়াতে ইসলামী সেই সরকারে জায়গা পাবে কি না–জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্যিকার অথে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সমঝোতা ছিল না। তারা স্বতন্ত্রভাবেই কাজ করেছে। কোনো ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে পরামর্শ বা সমঝোতায় আসার পদক্ষেপ নেয়নি। কাজেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো জাতীয় সরকারের অংশ হিসেবে জামায়াতকে রাখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন,আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।
ভোটের আগে প্রায় সব জরিপে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হচ্ছে। অভ্যুত্থনের ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিও ওই জোটে রয়েছে। কাজেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশের সমর্থন পাবে জামায়াত। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ছাত্র সংগঠন প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ছাত্র ও তরুণ ভোটাররা জামায়াতকে কিছুটা এগিয়ে দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্ররা। ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শীর্ষনেতারা। তবে দলের প্রধান আসন সংখ্যা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ছাত্র আন্দোলন দমন করতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। তাতে করে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিএনপি জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের বাংলাদেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমাদের স্লোগান হলো সবার আগে বাংলাদেশ। অবশ্য সবার আগে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টিই দেখবো। আমাদের বন্ধুত্ব বা ব্যবসা-বাণিজ্য হবে পারস্পরিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পক্ষপাতি আমরা না।বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার সন্তানরা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়টা আমরা জনগণের উপরই ছেড়ে দিতে চায়। যদি জনগণ তাদের সুযোগ দিতে চায়। মানুষ যদি মনে করে, তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত, তাহলে সেটা আটরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারি না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের শরিক দলের প্রার্থীরা।

দরোজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হবে ভোট গ্রহণ। এর পরের ধাপেই আসবে সরকার গঠন।বিগত সরকারের আমলে নিষিদ্ধ থাকার পর এবারের নির্বাচনে এগারো দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির চেয়ে পিছিয়ে নেই দলটি। এমনকি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের কথাও বলছেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। এ পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে, প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি কি পারবে এককভাবে সরকার গঠন করতে? নাকি হাঁটতে হবে কোয়ালিশন সরকার গঠনের পথে! এক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যমতের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কতটুকু? কেননা ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে জোট সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমাদের বিশ্বাস সরকার গঠনে বিএনপি একাই সক্ষম। জামায়াত কিংবা অন্য কোনো দলের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন পড়বে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন যুগ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে।যদিও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের তিনটি নির্বাচনের মধ্যে দুটোই বিএনপি অংশ নেয় নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোট গঠনের মাধ্যমে বিএনপি অংশ নিলেও নিশিরাতের ভোটে তারা প্রতারিত হয়েছে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগ জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কার্যক্রমে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে গত দেড় দশক দেশ শাসন করা দলটি এবার নির্বাচনের বাইরে। এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে, যারা ২০০১-০৬ মেয়াদে একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে।
জামায়াতের একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে কথা বলে রয়টার্স জানায়, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী জামায়াত। বিএনপি কি তাদের এই আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো জামায়াত। এ অবস্থায় আমোদের পক্ষে কিভাবে সম্ভব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করা, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’
বিএনপি চেযারম্যান বলেন, ‘আমরা জানি না তারা কয়টি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করি, তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে। আওয়ামী লীগ আমলের মতো সিট ভাগাভাগির পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিয়ে সরকার গঠনের অপরাজনীতিতে বিএনপি যাবে না।
সম্প্রতি বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনিী ইশতেহারে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে’ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠন করবে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা বলেছি, সরকার গঠন করতে পারলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের পাশে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার হবে। সেই অঙ্গীকার এখনো বহাল আছে। তবে যারা সেই সংগ্রামের অংশ ছিল না, তারা এই সরকারের অংশ হবে না।’
জামায়াতে ইসলামী সেই সরকারে জায়গা পাবে কি না–জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্যিকার অথে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সমঝোতা ছিল না। তারা স্বতন্ত্রভাবেই কাজ করেছে। কোনো ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে পরামর্শ বা সমঝোতায় আসার পদক্ষেপ নেয়নি। কাজেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো জাতীয় সরকারের অংশ হিসেবে জামায়াতকে রাখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন,আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।
ভোটের আগে প্রায় সব জরিপে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হচ্ছে। অভ্যুত্থনের ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিও ওই জোটে রয়েছে। কাজেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশের সমর্থন পাবে জামায়াত। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ছাত্র সংগঠন প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ছাত্র ও তরুণ ভোটাররা জামায়াতকে কিছুটা এগিয়ে দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্ররা। ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শীর্ষনেতারা। তবে দলের প্রধান আসন সংখ্যা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ছাত্র আন্দোলন দমন করতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। তাতে করে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিএনপি জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের বাংলাদেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমাদের স্লোগান হলো সবার আগে বাংলাদেশ। অবশ্য সবার আগে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টিই দেখবো। আমাদের বন্ধুত্ব বা ব্যবসা-বাণিজ্য হবে পারস্পরিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পক্ষপাতি আমরা না।বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার সন্তানরা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়টা আমরা জনগণের উপরই ছেড়ে দিতে চায়। যদি জনগণ তাদের সুযোগ দিতে চায়। মানুষ যদি মনে করে, তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত, তাহলে সেটা আটরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারি না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের শরিক দলের প্রার্থীরা।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!