
মুঠোফোন সেবা থেকে মোবাইল অপারেটররা যে আয় করে তার ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই সরকার কর ও ফি বাবদ নিয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতের সরকারগুলো টেলিযোগাযোগ খাতকে রাজস্ব আয়ের একটি বড় উপায়ে পরিণত করেছে। এর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অপারেটরগুলো সরকারকে টাকা দিয়ে এবং নিজেদের আয় ঠিক রাখতে গিয়ে সেবার মান উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ করে না। অতীতের সরকারগুলোও মুঠোফোন সেবার দাম কমানো এবং মানোন্নয়নে যথেষ্ট জোর না দিয়ে রাজস্ব আদায়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ রোববার দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল জীবনধারা: সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’।
দেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৬১ লাখ (অনেক ক্ষেত্রে একজনের একাধিক সিম থাকে)। দেশের মানুষের নানা সেবা, ব্যবসা, বিনোদনসহ সবকিছুর সঙ্গেই এখন মুঠোফোন সেবা যুক্ত। কিন্তু প্রতিবেশী ও সমপর্যায়ের অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে।
বিশ্লেষকেরা এ জন্য মূলত স্মার্টফোনের চড়া দাম ও মুঠোফোন সেবার বাড়তি মূল্যকে দায়ী করে থাকেন। অন্যদিকে অপারেটররা দায়ী করে উচ্চ কর ও ফির হারকে। দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা, ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, ডিজিটাল জীবনধারার প্রসার এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। এটি করা হলে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
টেলিযোগাযোগ খাত থেকে সরকার দুভাবে রাজস্ব পায়। একটি হলো কর, অন্যটি তরঙ্গসহ বিভিন্ন ফি।
অপারেটরদের তথ্য বলছে, বর্তমানে মুঠোফোন সেবায় ১৮ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট), ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয় গ্রাহককে। সব মিলিয়ে গ্রাহকের ঘাড়ে মোট করভার দাঁড়ায় ৩৯ শতাংশ। নতুন সিম কেনা অথবা হারিয়ে যাওয়া সিম ওঠাতে দিতে হয় ৩০০ টাকা। অপারেটরদের মুনাফার ওপরে করের হার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।
অপারেটরগুলোকে নিয়মিত উচ্চমূল্যে তরঙ্গ কিনতে হয় এবং তা নবায়ন করতে হয়। যেমন সর্বশেষ গ্রামীণফোন ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ কিনেছে মেগাহার্টজ-প্রতি ২৩৭ কোটি টাকা দিয়ে। মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা।
অপারেটরগুলোকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হয়। হার সাড়ে ৫ শতাংশ। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে দিতে হয় ১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে মোট আয়ের ৫৬ শতাংশ চলে যায় সরকারের তহবিলে। মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় ২২ শতাংশ। আর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় ২৫ শতাংশ।
মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের ওপর কার্যকর কর ও বাধ্যতামূলক পরিশোধের চাপ দাঁড়ায় ৬৮ থেকে ৭২ শতাংশ। এতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ খুব সীমিত হয়ে পড়ছে। ১৫ বছর ধরেই শিল্প খাতটি এ বাস্তবতার মুখোমুখি।
এদিকে এ বছরই সব অপারেটরকে আগে নেওয়া তরঙ্গ নবায়ন করতে হবে। নবায়ন ফি দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার মতো। এর ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে, যার পরিমাণ ১ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তরঙ্গ নবায়নের উচ্চ ব্যয় টেলিকম অপারেটরদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে।
জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় গ্রাহক কমেছে প্রায় এক কোটি। একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে ১ কোটি ৩৩ লাখ। সংগঠনটির ধারণা, সিমের ওপর উচ্চ কর এবং সেবার বাড়তি ব্যয় এর অন্যতম কারণ।
কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে টেলিযোগাযোগ সেবায় কর সমন্বয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো সব সমস্যা এই বাজেটে সমাধান করতে পারব না। তবে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের জন্য আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে পারব।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকার রাজস্ব আদায়ের একটি সহজ উপায় হিসেবে টেলিযোগাযোগকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের সেবার ওপর উচ্চ কর বিপাকে ফেলে নিম্ন আয়ের মানুষকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ব্যবসা পরিচালনা ও মুনাফা ধরে রাখতে অপারেটরগুলো সেবার দাম বাড়ায়। ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকারকে ডেটা ও ভয়েস সেবাকে সাশ্রয়ী করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো

মুঠোফোন সেবা থেকে মোবাইল অপারেটররা যে আয় করে তার ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই সরকার কর ও ফি বাবদ নিয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতের সরকারগুলো টেলিযোগাযোগ খাতকে রাজস্ব আয়ের একটি বড় উপায়ে পরিণত করেছে। এর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অপারেটরগুলো সরকারকে টাকা দিয়ে এবং নিজেদের আয় ঠিক রাখতে গিয়ে সেবার মান উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ করে না। অতীতের সরকারগুলোও মুঠোফোন সেবার দাম কমানো এবং মানোন্নয়নে যথেষ্ট জোর না দিয়ে রাজস্ব আদায়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ রোববার দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল জীবনধারা: সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’।
দেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৬১ লাখ (অনেক ক্ষেত্রে একজনের একাধিক সিম থাকে)। দেশের মানুষের নানা সেবা, ব্যবসা, বিনোদনসহ সবকিছুর সঙ্গেই এখন মুঠোফোন সেবা যুক্ত। কিন্তু প্রতিবেশী ও সমপর্যায়ের অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে।
বিশ্লেষকেরা এ জন্য মূলত স্মার্টফোনের চড়া দাম ও মুঠোফোন সেবার বাড়তি মূল্যকে দায়ী করে থাকেন। অন্যদিকে অপারেটররা দায়ী করে উচ্চ কর ও ফির হারকে। দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা, ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, ডিজিটাল জীবনধারার প্রসার এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। এটি করা হলে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
টেলিযোগাযোগ খাত থেকে সরকার দুভাবে রাজস্ব পায়। একটি হলো কর, অন্যটি তরঙ্গসহ বিভিন্ন ফি।
অপারেটরদের তথ্য বলছে, বর্তমানে মুঠোফোন সেবায় ১৮ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট), ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয় গ্রাহককে। সব মিলিয়ে গ্রাহকের ঘাড়ে মোট করভার দাঁড়ায় ৩৯ শতাংশ। নতুন সিম কেনা অথবা হারিয়ে যাওয়া সিম ওঠাতে দিতে হয় ৩০০ টাকা। অপারেটরদের মুনাফার ওপরে করের হার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।
অপারেটরগুলোকে নিয়মিত উচ্চমূল্যে তরঙ্গ কিনতে হয় এবং তা নবায়ন করতে হয়। যেমন সর্বশেষ গ্রামীণফোন ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ কিনেছে মেগাহার্টজ-প্রতি ২৩৭ কোটি টাকা দিয়ে। মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা।
অপারেটরগুলোকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হয়। হার সাড়ে ৫ শতাংশ। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে দিতে হয় ১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে মোট আয়ের ৫৬ শতাংশ চলে যায় সরকারের তহবিলে। মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় ২২ শতাংশ। আর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় ২৫ শতাংশ।
মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের ওপর কার্যকর কর ও বাধ্যতামূলক পরিশোধের চাপ দাঁড়ায় ৬৮ থেকে ৭২ শতাংশ। এতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ খুব সীমিত হয়ে পড়ছে। ১৫ বছর ধরেই শিল্প খাতটি এ বাস্তবতার মুখোমুখি।
এদিকে এ বছরই সব অপারেটরকে আগে নেওয়া তরঙ্গ নবায়ন করতে হবে। নবায়ন ফি দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার মতো। এর ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে, যার পরিমাণ ১ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তরঙ্গ নবায়নের উচ্চ ব্যয় টেলিকম অপারেটরদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে।
জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় গ্রাহক কমেছে প্রায় এক কোটি। একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে ১ কোটি ৩৩ লাখ। সংগঠনটির ধারণা, সিমের ওপর উচ্চ কর এবং সেবার বাড়তি ব্যয় এর অন্যতম কারণ।
কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে টেলিযোগাযোগ সেবায় কর সমন্বয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো সব সমস্যা এই বাজেটে সমাধান করতে পারব না। তবে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের জন্য আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে পারব।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকার রাজস্ব আদায়ের একটি সহজ উপায় হিসেবে টেলিযোগাযোগকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের সেবার ওপর উচ্চ কর বিপাকে ফেলে নিম্ন আয়ের মানুষকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ব্যবসা পরিচালনা ও মুনাফা ধরে রাখতে অপারেটরগুলো সেবার দাম বাড়ায়। ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকারকে ডেটা ও ভয়েস সেবাকে সাশ্রয়ী করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো

মুঠোফোন সেবা থেকে মোবাইল অপারেটররা যে আয় করে তার ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই সরকার কর ও ফি বাবদ নিয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতের সরকারগুলো টেলিযোগাযোগ খাতকে রাজস্ব আয়ের একটি বড় উপায়ে পরিণত করেছে। এর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অপারেটরগুলো সরকারকে টাকা দিয়ে এবং নিজেদের আয় ঠিক রাখতে গিয়ে সেবার মান উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ করে না। অতীতের সরকারগুলোও মুঠোফোন সেবার দাম কমানো এবং মানোন্নয়নে যথেষ্ট জোর না দিয়ে রাজস্ব আদায়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ রোববার দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল জীবনধারা: সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’।
দেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৬১ লাখ (অনেক ক্ষেত্রে একজনের একাধিক সিম থাকে)। দেশের মানুষের নানা সেবা, ব্যবসা, বিনোদনসহ সবকিছুর সঙ্গেই এখন মুঠোফোন সেবা যুক্ত। কিন্তু প্রতিবেশী ও সমপর্যায়ের অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে।
বিশ্লেষকেরা এ জন্য মূলত স্মার্টফোনের চড়া দাম ও মুঠোফোন সেবার বাড়তি মূল্যকে দায়ী করে থাকেন। অন্যদিকে অপারেটররা দায়ী করে উচ্চ কর ও ফির হারকে। দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা, ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, ডিজিটাল জীবনধারার প্রসার এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। এটি করা হলে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
টেলিযোগাযোগ খাত থেকে সরকার দুভাবে রাজস্ব পায়। একটি হলো কর, অন্যটি তরঙ্গসহ বিভিন্ন ফি।
অপারেটরদের তথ্য বলছে, বর্তমানে মুঠোফোন সেবায় ১৮ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট), ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয় গ্রাহককে। সব মিলিয়ে গ্রাহকের ঘাড়ে মোট করভার দাঁড়ায় ৩৯ শতাংশ। নতুন সিম কেনা অথবা হারিয়ে যাওয়া সিম ওঠাতে দিতে হয় ৩০০ টাকা। অপারেটরদের মুনাফার ওপরে করের হার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।
অপারেটরগুলোকে নিয়মিত উচ্চমূল্যে তরঙ্গ কিনতে হয় এবং তা নবায়ন করতে হয়। যেমন সর্বশেষ গ্রামীণফোন ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ কিনেছে মেগাহার্টজ-প্রতি ২৩৭ কোটি টাকা দিয়ে। মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা।
অপারেটরগুলোকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হয়। হার সাড়ে ৫ শতাংশ। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে দিতে হয় ১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে মোট আয়ের ৫৬ শতাংশ চলে যায় সরকারের তহবিলে। মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় ২২ শতাংশ। আর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় ২৫ শতাংশ।
মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের ওপর কার্যকর কর ও বাধ্যতামূলক পরিশোধের চাপ দাঁড়ায় ৬৮ থেকে ৭২ শতাংশ। এতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ খুব সীমিত হয়ে পড়ছে। ১৫ বছর ধরেই শিল্প খাতটি এ বাস্তবতার মুখোমুখি।
এদিকে এ বছরই সব অপারেটরকে আগে নেওয়া তরঙ্গ নবায়ন করতে হবে। নবায়ন ফি দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার মতো। এর ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে, যার পরিমাণ ১ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তরঙ্গ নবায়নের উচ্চ ব্যয় টেলিকম অপারেটরদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে।
জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় গ্রাহক কমেছে প্রায় এক কোটি। একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে ১ কোটি ৩৩ লাখ। সংগঠনটির ধারণা, সিমের ওপর উচ্চ কর এবং সেবার বাড়তি ব্যয় এর অন্যতম কারণ।
কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে টেলিযোগাযোগ সেবায় কর সমন্বয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো সব সমস্যা এই বাজেটে সমাধান করতে পারব না। তবে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের জন্য আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে পারব।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকার রাজস্ব আদায়ের একটি সহজ উপায় হিসেবে টেলিযোগাযোগকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের সেবার ওপর উচ্চ কর বিপাকে ফেলে নিম্ন আয়ের মানুষকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ব্যবসা পরিচালনা ও মুনাফা ধরে রাখতে অপারেটরগুলো সেবার দাম বাড়ায়। ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকারকে ডেটা ও ভয়েস সেবাকে সাশ্রয়ী করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো

মুঠোফোন সেবা থেকে মোবাইল অপারেটররা যে আয় করে তার ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই সরকার কর ও ফি বাবদ নিয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতের সরকারগুলো টেলিযোগাযোগ খাতকে রাজস্ব আয়ের একটি বড় উপায়ে পরিণত করেছে। এর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অপারেটরগুলো সরকারকে টাকা দিয়ে এবং নিজেদের আয় ঠিক রাখতে গিয়ে সেবার মান উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ করে না। অতীতের সরকারগুলোও মুঠোফোন সেবার দাম কমানো এবং মানোন্নয়নে যথেষ্ট জোর না দিয়ে রাজস্ব আদায়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ রোববার দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল জীবনধারা: সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’।
দেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৬১ লাখ (অনেক ক্ষেত্রে একজনের একাধিক সিম থাকে)। দেশের মানুষের নানা সেবা, ব্যবসা, বিনোদনসহ সবকিছুর সঙ্গেই এখন মুঠোফোন সেবা যুক্ত। কিন্তু প্রতিবেশী ও সমপর্যায়ের অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে।
বিশ্লেষকেরা এ জন্য মূলত স্মার্টফোনের চড়া দাম ও মুঠোফোন সেবার বাড়তি মূল্যকে দায়ী করে থাকেন। অন্যদিকে অপারেটররা দায়ী করে উচ্চ কর ও ফির হারকে। দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা, ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, ডিজিটাল জীবনধারার প্রসার এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। এটি করা হলে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
টেলিযোগাযোগ খাত থেকে সরকার দুভাবে রাজস্ব পায়। একটি হলো কর, অন্যটি তরঙ্গসহ বিভিন্ন ফি।
অপারেটরদের তথ্য বলছে, বর্তমানে মুঠোফোন সেবায় ১৮ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট), ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয় গ্রাহককে। সব মিলিয়ে গ্রাহকের ঘাড়ে মোট করভার দাঁড়ায় ৩৯ শতাংশ। নতুন সিম কেনা অথবা হারিয়ে যাওয়া সিম ওঠাতে দিতে হয় ৩০০ টাকা। অপারেটরদের মুনাফার ওপরে করের হার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।
অপারেটরগুলোকে নিয়মিত উচ্চমূল্যে তরঙ্গ কিনতে হয় এবং তা নবায়ন করতে হয়। যেমন সর্বশেষ গ্রামীণফোন ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ কিনেছে মেগাহার্টজ-প্রতি ২৩৭ কোটি টাকা দিয়ে। মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা।
অপারেটরগুলোকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হয়। হার সাড়ে ৫ শতাংশ। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে দিতে হয় ১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে মোট আয়ের ৫৬ শতাংশ চলে যায় সরকারের তহবিলে। মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় ২২ শতাংশ। আর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় ২৫ শতাংশ।
মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের ওপর কার্যকর কর ও বাধ্যতামূলক পরিশোধের চাপ দাঁড়ায় ৬৮ থেকে ৭২ শতাংশ। এতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ খুব সীমিত হয়ে পড়ছে। ১৫ বছর ধরেই শিল্প খাতটি এ বাস্তবতার মুখোমুখি।
এদিকে এ বছরই সব অপারেটরকে আগে নেওয়া তরঙ্গ নবায়ন করতে হবে। নবায়ন ফি দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার মতো। এর ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে, যার পরিমাণ ১ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তরঙ্গ নবায়নের উচ্চ ব্যয় টেলিকম অপারেটরদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে।
জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় গ্রাহক কমেছে প্রায় এক কোটি। একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে ১ কোটি ৩৩ লাখ। সংগঠনটির ধারণা, সিমের ওপর উচ্চ কর এবং সেবার বাড়তি ব্যয় এর অন্যতম কারণ।
কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে টেলিযোগাযোগ সেবায় কর সমন্বয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো সব সমস্যা এই বাজেটে সমাধান করতে পারব না। তবে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের জন্য আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে পারব।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকার রাজস্ব আদায়ের একটি সহজ উপায় হিসেবে টেলিযোগাযোগকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের সেবার ওপর উচ্চ কর বিপাকে ফেলে নিম্ন আয়ের মানুষকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ব্যবসা পরিচালনা ও মুনাফা ধরে রাখতে অপারেটরগুলো সেবার দাম বাড়ায়। ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকারকে ডেটা ও ভয়েস সেবাকে সাশ্রয়ী করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!