-1777139769269-934408114.jpg&w=1920&q=75)
সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলেও এর একটি বড় অংশের বিপরীতে দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঋণকে প্রচলিত অর্থে খেলাপি না বলে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের বিপরীতে সাধারণত সম্পদ থাকে, যা ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে আংশিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রকৃত আদায়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান দাবি করেন, মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা ‘ছাপানো টাকা’ হিসেবে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়ার তথ্য কোনোভাবেই সত্য নয়। এর কোনো অস্তিত্ব নেই।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ নামে একটি হিসাব রয়েছে, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নগদ চাহিদা পূরণ করা হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং বিশ্বব্যাপী প্রচলিত।
তিনি জানান, এ হিসাবের একটি নির্ধারিত সীমা রয়েছে, যা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজনে এর বাইরে অস্থায়ীভাবে ওভারড্রাফট সুবিধার মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই হিসাবের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমে এসেছে।
গভর্নর বলেন, ‘এটি নতুন করে টাকা ছাপানোর বিষয় নয়; বরং সরকারের আয়-ব্যয়ের স্বাভাবিক নগদ ব্যবস্থাপনার অংশ। আজ টাকা নেওয়া হচ্ছে, কাল রাজস্ব এলে তা সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে।’
এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এতে দেশের ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
সভায় গভর্নর একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ব্যাংক এখনো সমন্বিত কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতায় আসেনি, ফলে আন্তঃশাখা সেবা ও তথ্য আদান-প্রদানে সমস্যা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুনঃমূলধনীকরণ, বেসরকারীকরণ বা একীভূতকরণের মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্টার্ট-আপ খাতের উন্নয়নে ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট’ নামে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার একটি তহবিল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান গভর্নর। আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি চালু হতে পারে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুনের পর বিকল্প কোনো কিউআর কোডের সময়সীমা বাড়ানো হবে না। এতে লেনদেনের আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
-1777139769269-934408114.jpg&w=1920&q=75)
সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলেও এর একটি বড় অংশের বিপরীতে দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঋণকে প্রচলিত অর্থে খেলাপি না বলে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের বিপরীতে সাধারণত সম্পদ থাকে, যা ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে আংশিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রকৃত আদায়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান দাবি করেন, মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা ‘ছাপানো টাকা’ হিসেবে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়ার তথ্য কোনোভাবেই সত্য নয়। এর কোনো অস্তিত্ব নেই।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ নামে একটি হিসাব রয়েছে, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নগদ চাহিদা পূরণ করা হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং বিশ্বব্যাপী প্রচলিত।
তিনি জানান, এ হিসাবের একটি নির্ধারিত সীমা রয়েছে, যা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজনে এর বাইরে অস্থায়ীভাবে ওভারড্রাফট সুবিধার মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই হিসাবের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমে এসেছে।
গভর্নর বলেন, ‘এটি নতুন করে টাকা ছাপানোর বিষয় নয়; বরং সরকারের আয়-ব্যয়ের স্বাভাবিক নগদ ব্যবস্থাপনার অংশ। আজ টাকা নেওয়া হচ্ছে, কাল রাজস্ব এলে তা সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে।’
এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এতে দেশের ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
সভায় গভর্নর একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ব্যাংক এখনো সমন্বিত কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতায় আসেনি, ফলে আন্তঃশাখা সেবা ও তথ্য আদান-প্রদানে সমস্যা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুনঃমূলধনীকরণ, বেসরকারীকরণ বা একীভূতকরণের মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্টার্ট-আপ খাতের উন্নয়নে ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট’ নামে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার একটি তহবিল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান গভর্নর। আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি চালু হতে পারে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুনের পর বিকল্প কোনো কিউআর কোডের সময়সীমা বাড়ানো হবে না। এতে লেনদেনের আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
-1777139769269-934408114.jpg&w=1920&q=75)
সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলেও এর একটি বড় অংশের বিপরীতে দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঋণকে প্রচলিত অর্থে খেলাপি না বলে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের বিপরীতে সাধারণত সম্পদ থাকে, যা ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে আংশিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রকৃত আদায়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান দাবি করেন, মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা ‘ছাপানো টাকা’ হিসেবে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়ার তথ্য কোনোভাবেই সত্য নয়। এর কোনো অস্তিত্ব নেই।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ নামে একটি হিসাব রয়েছে, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নগদ চাহিদা পূরণ করা হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং বিশ্বব্যাপী প্রচলিত।
তিনি জানান, এ হিসাবের একটি নির্ধারিত সীমা রয়েছে, যা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজনে এর বাইরে অস্থায়ীভাবে ওভারড্রাফট সুবিধার মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই হিসাবের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমে এসেছে।
গভর্নর বলেন, ‘এটি নতুন করে টাকা ছাপানোর বিষয় নয়; বরং সরকারের আয়-ব্যয়ের স্বাভাবিক নগদ ব্যবস্থাপনার অংশ। আজ টাকা নেওয়া হচ্ছে, কাল রাজস্ব এলে তা সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে।’
এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এতে দেশের ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
সভায় গভর্নর একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ব্যাংক এখনো সমন্বিত কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতায় আসেনি, ফলে আন্তঃশাখা সেবা ও তথ্য আদান-প্রদানে সমস্যা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুনঃমূলধনীকরণ, বেসরকারীকরণ বা একীভূতকরণের মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্টার্ট-আপ খাতের উন্নয়নে ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট’ নামে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার একটি তহবিল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান গভর্নর। আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি চালু হতে পারে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুনের পর বিকল্প কোনো কিউআর কোডের সময়সীমা বাড়ানো হবে না। এতে লেনদেনের আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
-1777139769269-934408114.jpg&w=1920&q=75)
সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলেও এর একটি বড় অংশের বিপরীতে দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঋণকে প্রচলিত অর্থে খেলাপি না বলে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের বিপরীতে সাধারণত সম্পদ থাকে, যা ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে আংশিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রকৃত আদায়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান দাবি করেন, মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা ‘ছাপানো টাকা’ হিসেবে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়ার তথ্য কোনোভাবেই সত্য নয়। এর কোনো অস্তিত্ব নেই।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ নামে একটি হিসাব রয়েছে, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নগদ চাহিদা পূরণ করা হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং বিশ্বব্যাপী প্রচলিত।
তিনি জানান, এ হিসাবের একটি নির্ধারিত সীমা রয়েছে, যা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজনে এর বাইরে অস্থায়ীভাবে ওভারড্রাফট সুবিধার মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই হিসাবের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমে এসেছে।
গভর্নর বলেন, ‘এটি নতুন করে টাকা ছাপানোর বিষয় নয়; বরং সরকারের আয়-ব্যয়ের স্বাভাবিক নগদ ব্যবস্থাপনার অংশ। আজ টাকা নেওয়া হচ্ছে, কাল রাজস্ব এলে তা সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে।’
এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এতে দেশের ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
সভায় গভর্নর একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ব্যাংক এখনো সমন্বিত কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতায় আসেনি, ফলে আন্তঃশাখা সেবা ও তথ্য আদান-প্রদানে সমস্যা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুনঃমূলধনীকরণ, বেসরকারীকরণ বা একীভূতকরণের মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্টার্ট-আপ খাতের উন্নয়নে ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট’ নামে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার একটি তহবিল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান গভর্নর। আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি চালু হতে পারে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুনের পর বিকল্প কোনো কিউআর কোডের সময়সীমা বাড়ানো হবে না। এতে লেনদেনের আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!