উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক কনসার্টে গান পরিবেশন করেছেন। একই অনুষ্ঠানে বাংলা গানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংগীতসন্ধ্যায় দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মিলনায়তন পূর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঞ্চে ওঠেন রুনা লায়লা। দাঁড়িয়ে অভিবাদন ও দীর্ঘ করতালির মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া দেশের সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, রুনা লায়লার গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছে। শিল্পকলা একাডেমিতে তার প্রথম একক কনসার্ট আয়োজন প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রুনা লায়লা শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি সংগীতকে সাধনায় পরিণত করেছেন। তার দীর্ঘ সংগীতজীবন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার পর্ব। বাংলা গানের বিকাশ এবং ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন রুনা লায়লা। এরপর তিনি পরিবেশন করেন ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল’সহ তার জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান। পরিচিত গানগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান দর্শকরাও।
প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় আধুনিক, চলচ্চিত্র ও দেশাত্মবোধক গান মিলিয়ে প্রায় ১০টি গান পরিবেশন করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। প্রতিটি গানের পরই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুভূতি প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেন, সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা গান ও সংগীতের স্মৃতিগুলো পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে কয়েকবার গান গাইলেও একক কনসার্টে এবারই প্রথম অংশ নিলেন। দর্শকদের ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।
শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, এ অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে, যা পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একই ধরনের সম্মাননা ও একক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে। এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় ফিরছেন রুনা লায়লা। চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন। সেখানে একাধিক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য গান পরিবেশন করবেন।
উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক কনসার্টে গান পরিবেশন করেছেন। একই অনুষ্ঠানে বাংলা গানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংগীতসন্ধ্যায় দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মিলনায়তন পূর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঞ্চে ওঠেন রুনা লায়লা। দাঁড়িয়ে অভিবাদন ও দীর্ঘ করতালির মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া দেশের সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, রুনা লায়লার গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছে। শিল্পকলা একাডেমিতে তার প্রথম একক কনসার্ট আয়োজন প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রুনা লায়লা শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি সংগীতকে সাধনায় পরিণত করেছেন। তার দীর্ঘ সংগীতজীবন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার পর্ব। বাংলা গানের বিকাশ এবং ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন রুনা লায়লা। এরপর তিনি পরিবেশন করেন ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল’সহ তার জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান। পরিচিত গানগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান দর্শকরাও।
প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় আধুনিক, চলচ্চিত্র ও দেশাত্মবোধক গান মিলিয়ে প্রায় ১০টি গান পরিবেশন করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। প্রতিটি গানের পরই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুভূতি প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেন, সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা গান ও সংগীতের স্মৃতিগুলো পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে কয়েকবার গান গাইলেও একক কনসার্টে এবারই প্রথম অংশ নিলেন। দর্শকদের ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।
শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, এ অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে, যা পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একই ধরনের সম্মাননা ও একক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে। এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় ফিরছেন রুনা লায়লা। চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন। সেখানে একাধিক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য গান পরিবেশন করবেন।
উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক কনসার্টে গান পরিবেশন করেছেন। একই অনুষ্ঠানে বাংলা গানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংগীতসন্ধ্যায় দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মিলনায়তন পূর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঞ্চে ওঠেন রুনা লায়লা। দাঁড়িয়ে অভিবাদন ও দীর্ঘ করতালির মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া দেশের সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, রুনা লায়লার গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছে। শিল্পকলা একাডেমিতে তার প্রথম একক কনসার্ট আয়োজন প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রুনা লায়লা শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি সংগীতকে সাধনায় পরিণত করেছেন। তার দীর্ঘ সংগীতজীবন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার পর্ব। বাংলা গানের বিকাশ এবং ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন রুনা লায়লা। এরপর তিনি পরিবেশন করেন ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল’সহ তার জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান। পরিচিত গানগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান দর্শকরাও।
প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় আধুনিক, চলচ্চিত্র ও দেশাত্মবোধক গান মিলিয়ে প্রায় ১০টি গান পরিবেশন করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। প্রতিটি গানের পরই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুভূতি প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেন, সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা গান ও সংগীতের স্মৃতিগুলো পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে কয়েকবার গান গাইলেও একক কনসার্টে এবারই প্রথম অংশ নিলেন। দর্শকদের ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।
শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, এ অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে, যা পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একই ধরনের সম্মাননা ও একক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে। এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় ফিরছেন রুনা লায়লা। চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন। সেখানে একাধিক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য গান পরিবেশন করবেন।
উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক কনসার্টে গান পরিবেশন করেছেন। একই অনুষ্ঠানে বাংলা গানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংগীতসন্ধ্যায় দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মিলনায়তন পূর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঞ্চে ওঠেন রুনা লায়লা। দাঁড়িয়ে অভিবাদন ও দীর্ঘ করতালির মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া দেশের সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, রুনা লায়লার গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছে। শিল্পকলা একাডেমিতে তার প্রথম একক কনসার্ট আয়োজন প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রুনা লায়লা শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি সংগীতকে সাধনায় পরিণত করেছেন। তার দীর্ঘ সংগীতজীবন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার পর্ব। বাংলা গানের বিকাশ এবং ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন রুনা লায়লা। এরপর তিনি পরিবেশন করেন ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল’সহ তার জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান। পরিচিত গানগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান দর্শকরাও।
প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় আধুনিক, চলচ্চিত্র ও দেশাত্মবোধক গান মিলিয়ে প্রায় ১০টি গান পরিবেশন করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। প্রতিটি গানের পরই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুভূতি প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেন, সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা গান ও সংগীতের স্মৃতিগুলো পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে কয়েকবার গান গাইলেও একক কনসার্টে এবারই প্রথম অংশ নিলেন। দর্শকদের ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।
শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, এ অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে, যা পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একই ধরনের সম্মাননা ও একক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে। এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় ফিরছেন রুনা লায়লা। চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন। সেখানে একাধিক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য গান পরিবেশন করবেন।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!