
সংগৃহীত ছবি
লক্ষ্মীপুরে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দপ্তরের প্রধানকে ঘিরে এক মাসে ঘটেছে একের পর এক প্রশাসনিক রদবদল। ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডারবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত, কাউকে স্ট্যান্ড রিলিজ এবং কাউকে বদলি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব দপ্তরের প্রধানদের ধারাবাহিক বিদায়ে উন্নয়নকাজে প্রশাসনিক শূন্যতা ও স্থবিরতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের মধ্যেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকলে দুর্নীতির প্রকৃত বিচার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সরকারি চাকরিসংক্রান্ত আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও তা চূড়ান্ত শাস্তি নয়।
সচেতন মহলের ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বদলি করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—মূল অপরাধের বিচার করবে কে? তাঁদের মতে, বদলি শাস্তি নয়; অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সূত্র: বাংলাট্রিাবউন।
ঘুষের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পিডিবির প্রকৌশলী
গত দুই মাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেন লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন। বকেয়া বিল ও মালামালসংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘২ কোটি টাকার নিচে নেবো না!’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে পিডিবি। ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি।
পৌরসভার প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেনকে তলব করে দুদক। এ পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে খাগড়াছড়িতে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারের বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৩৮৯টি বিনামূল্যের টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ এবং ৫৬ কোটি টাকার ওয়াশ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও তদারকিতে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
এর আগে গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে তাঁকেও লক্ষ্মীপুর ছাড়তে হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে এক সপ্তাহেই পরিবর্তন
মেঘনা উপকূলীয় কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় নদীর তীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজের গতি ও মান নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল। কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খানকে বদলি করা হয়।
এরপর নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে দপ্তরটিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. নুরুল ইসলাম।
দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগে বদলি ইইডির প্রকৌশলী
অনিয়মের অভিযোগে সর্বশেষ আলোচনায় এসেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রাবণী চক্রবর্ত্তী। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরকারি দরপত্র নীতিমালা উপেক্ষা করে সিলড কোটেশনের (এসএলডি) মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বদলি করা হয়।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করাই যথেষ্ট নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি প্রকল্পের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা (অডিট) করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বদলি ও সাময়িক বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপে দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

সংগৃহীত ছবি
লক্ষ্মীপুরে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দপ্তরের প্রধানকে ঘিরে এক মাসে ঘটেছে একের পর এক প্রশাসনিক রদবদল। ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডারবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত, কাউকে স্ট্যান্ড রিলিজ এবং কাউকে বদলি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব দপ্তরের প্রধানদের ধারাবাহিক বিদায়ে উন্নয়নকাজে প্রশাসনিক শূন্যতা ও স্থবিরতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের মধ্যেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকলে দুর্নীতির প্রকৃত বিচার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সরকারি চাকরিসংক্রান্ত আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও তা চূড়ান্ত শাস্তি নয়।
সচেতন মহলের ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বদলি করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—মূল অপরাধের বিচার করবে কে? তাঁদের মতে, বদলি শাস্তি নয়; অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সূত্র: বাংলাট্রিাবউন।
ঘুষের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পিডিবির প্রকৌশলী
গত দুই মাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেন লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন। বকেয়া বিল ও মালামালসংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘২ কোটি টাকার নিচে নেবো না!’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে পিডিবি। ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি।
পৌরসভার প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেনকে তলব করে দুদক। এ পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে খাগড়াছড়িতে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারের বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৩৮৯টি বিনামূল্যের টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ এবং ৫৬ কোটি টাকার ওয়াশ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও তদারকিতে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
এর আগে গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে তাঁকেও লক্ষ্মীপুর ছাড়তে হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে এক সপ্তাহেই পরিবর্তন
মেঘনা উপকূলীয় কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় নদীর তীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজের গতি ও মান নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল। কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খানকে বদলি করা হয়।
এরপর নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে দপ্তরটিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. নুরুল ইসলাম।
দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগে বদলি ইইডির প্রকৌশলী
অনিয়মের অভিযোগে সর্বশেষ আলোচনায় এসেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রাবণী চক্রবর্ত্তী। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরকারি দরপত্র নীতিমালা উপেক্ষা করে সিলড কোটেশনের (এসএলডি) মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বদলি করা হয়।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করাই যথেষ্ট নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি প্রকল্পের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা (অডিট) করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বদলি ও সাময়িক বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপে দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

সংগৃহীত ছবি
লক্ষ্মীপুরে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দপ্তরের প্রধানকে ঘিরে এক মাসে ঘটেছে একের পর এক প্রশাসনিক রদবদল। ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডারবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত, কাউকে স্ট্যান্ড রিলিজ এবং কাউকে বদলি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব দপ্তরের প্রধানদের ধারাবাহিক বিদায়ে উন্নয়নকাজে প্রশাসনিক শূন্যতা ও স্থবিরতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের মধ্যেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকলে দুর্নীতির প্রকৃত বিচার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সরকারি চাকরিসংক্রান্ত আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও তা চূড়ান্ত শাস্তি নয়।
সচেতন মহলের ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বদলি করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—মূল অপরাধের বিচার করবে কে? তাঁদের মতে, বদলি শাস্তি নয়; অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সূত্র: বাংলাট্রিাবউন।
ঘুষের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পিডিবির প্রকৌশলী
গত দুই মাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেন লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন। বকেয়া বিল ও মালামালসংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘২ কোটি টাকার নিচে নেবো না!’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে পিডিবি। ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি।
পৌরসভার প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেনকে তলব করে দুদক। এ পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে খাগড়াছড়িতে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারের বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৩৮৯টি বিনামূল্যের টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ এবং ৫৬ কোটি টাকার ওয়াশ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও তদারকিতে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
এর আগে গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে তাঁকেও লক্ষ্মীপুর ছাড়তে হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে এক সপ্তাহেই পরিবর্তন
মেঘনা উপকূলীয় কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় নদীর তীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজের গতি ও মান নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল। কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খানকে বদলি করা হয়।
এরপর নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে দপ্তরটিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. নুরুল ইসলাম।
দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগে বদলি ইইডির প্রকৌশলী
অনিয়মের অভিযোগে সর্বশেষ আলোচনায় এসেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রাবণী চক্রবর্ত্তী। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরকারি দরপত্র নীতিমালা উপেক্ষা করে সিলড কোটেশনের (এসএলডি) মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বদলি করা হয়।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করাই যথেষ্ট নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি প্রকল্পের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা (অডিট) করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বদলি ও সাময়িক বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপে দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

সংগৃহীত ছবি
লক্ষ্মীপুরে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দপ্তরের প্রধানকে ঘিরে এক মাসে ঘটেছে একের পর এক প্রশাসনিক রদবদল। ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডারবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত, কাউকে স্ট্যান্ড রিলিজ এবং কাউকে বদলি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব দপ্তরের প্রধানদের ধারাবাহিক বিদায়ে উন্নয়নকাজে প্রশাসনিক শূন্যতা ও স্থবিরতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের মধ্যেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকলে দুর্নীতির প্রকৃত বিচার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সরকারি চাকরিসংক্রান্ত আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও তা চূড়ান্ত শাস্তি নয়।
সচেতন মহলের ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বদলি করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—মূল অপরাধের বিচার করবে কে? তাঁদের মতে, বদলি শাস্তি নয়; অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সূত্র: বাংলাট্রিাবউন।
ঘুষের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পিডিবির প্রকৌশলী
গত দুই মাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেন লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন। বকেয়া বিল ও মালামালসংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘২ কোটি টাকার নিচে নেবো না!’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে পিডিবি। ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি।
পৌরসভার প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেনকে তলব করে দুদক। এ পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে খাগড়াছড়িতে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারের বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৩৮৯টি বিনামূল্যের টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ এবং ৫৬ কোটি টাকার ওয়াশ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও তদারকিতে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
এর আগে গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে তাঁকেও লক্ষ্মীপুর ছাড়তে হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে এক সপ্তাহেই পরিবর্তন
মেঘনা উপকূলীয় কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় নদীর তীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজের গতি ও মান নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল। কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খানকে বদলি করা হয়।
এরপর নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে দপ্তরটিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. নুরুল ইসলাম।
দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগে বদলি ইইডির প্রকৌশলী
অনিয়মের অভিযোগে সর্বশেষ আলোচনায় এসেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রাবণী চক্রবর্ত্তী। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরকারি দরপত্র নীতিমালা উপেক্ষা করে সিলড কোটেশনের (এসএলডি) মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বদলি করা হয়।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করাই যথেষ্ট নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি প্রকল্পের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা (অডিট) করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বদলি ও সাময়িক বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপে দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!