
ইসলাম দুর্বল, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। কেননা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ ইসলামের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম। তাই তো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে ঘোষণা করে বলেন, তিন শ্রেণির লোক আছে, কিয়ামতের দিন যাদের বিরুদ্ধে আমি নিজেই প্রতিপক্ষ হবো— ১. যে ব্যক্তি আমার নামে কোনো অঙ্গীকার বা চুক্তি করে, তারপর তা ভঙ্গ করে। ২. যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। ৩. এবং যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করে, তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে, কিন্তু তার পারিশ্রমিক প্রদান করে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২২৭)
আল্লাহ তাআলা সব জালিম ও অন্যায়কারীর বিরোধী হলেও এই হাদিসে তিনি বিশেষভাবে এই তিন শ্রেণির মানুষের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা প্রত্যেকে সরাসরি আল্লাহর অধিকার লঙ্ঘন করে।
প্রথমত, সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নামে কোনো চুক্তি বা অঙ্গীকার করেছিল, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছে—এর অর্থ হলো সে আল্লাহ তাআলার নামে কোনো অঙ্গীকার করেছিল অথবা তাঁর নামে শপথ করেছিল, তারপর সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে কিংবা সে আল্লাহ তাআলার নামে বা তাঁর শরিয়তের নির্ধারিত বিধানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বা আশ্রয় প্রদান করেছিল, পরে সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা সংযুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। ’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭)
আর বিশ্বাসঘাতকতা কখনোই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করো। আল্লাহকে জামিন করে শপথ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯১)
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তির জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে, এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৩৫)
বিশ্বাসঘাতকতা এমন একটি কাজ, যা সুস্থ বিবেক, যুক্তি ও স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি দ্বারা ঘৃণিত। এর কুপ্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা ব্যক্তিজীবন থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
দ্বিতীয়ত, ওই ব্যক্তি, যে একজন স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য আত্মসাৎ করে। আল্লাহ একজন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রি করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন এবং একে মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
এমন ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে, কারণ সে আল্লাহ তাআলার এক মহান অধিকার লঙ্ঘন করেছে, আর তা হলো মানুষের স্বাধীনতার অধিকার।
তৃতীয়ত, সেই ব্যক্তি, যে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ সেবা গ্রহণ করে, কিন্তু তাকে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করে না। রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তাকে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৪৩)
এই হাদিসে শ্রমিকের মজুরি দ্রুত পরিশোধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত বিলম্ব না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ মজুরি প্রদানে বিলম্ব করাও এক ধরনের জুলুম, যা আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭১)
রাসুল (সা.)-এর ১০ বছরের খাদেম আনাস (রা.) বলেন, “আমি ১০ বছর আল্লাহর রাসুল (সা.)ু-এর খিদমত করেছি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে কখনো ‘উফ’ পর্যন্ত বলেননি; কখনো বলেননি, ‘তুমি এটা কেন করলে?’ বা ‘এটা কেন করনি?’।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩০৯)
আর ইসলামে অন্যায় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। প্রকৃত পক্ষে সব ধর্ম ও সভ্যতায় অন্যায়কে ঘৃণিত ও নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ অন্যায়ের মধ্যে রয়েছে অন্যের অধিকারের ওপর আগ্রাসন, শরিয়তের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন এবং কোনো বিষয়কে তার যথাযথ ও ন্যায়সংগত অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া। অতএব, ইসলামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, মানুষের স্বাধীনতা হরণ এবং শ্রমিকের অধিকার অস্বীকার—এসব এমন গুরুতর অপরাধ, যার কারণে অপরাধীকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার মোকাবেলায় দাঁড়াতে হবে।

ইসলাম দুর্বল, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। কেননা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ ইসলামের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম। তাই তো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে ঘোষণা করে বলেন, তিন শ্রেণির লোক আছে, কিয়ামতের দিন যাদের বিরুদ্ধে আমি নিজেই প্রতিপক্ষ হবো— ১. যে ব্যক্তি আমার নামে কোনো অঙ্গীকার বা চুক্তি করে, তারপর তা ভঙ্গ করে। ২. যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। ৩. এবং যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করে, তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে, কিন্তু তার পারিশ্রমিক প্রদান করে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২২৭)
আল্লাহ তাআলা সব জালিম ও অন্যায়কারীর বিরোধী হলেও এই হাদিসে তিনি বিশেষভাবে এই তিন শ্রেণির মানুষের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা প্রত্যেকে সরাসরি আল্লাহর অধিকার লঙ্ঘন করে।
প্রথমত, সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নামে কোনো চুক্তি বা অঙ্গীকার করেছিল, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছে—এর অর্থ হলো সে আল্লাহ তাআলার নামে কোনো অঙ্গীকার করেছিল অথবা তাঁর নামে শপথ করেছিল, তারপর সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে কিংবা সে আল্লাহ তাআলার নামে বা তাঁর শরিয়তের নির্ধারিত বিধানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বা আশ্রয় প্রদান করেছিল, পরে সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা সংযুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। ’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭)
আর বিশ্বাসঘাতকতা কখনোই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করো। আল্লাহকে জামিন করে শপথ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯১)
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তির জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে, এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৩৫)
বিশ্বাসঘাতকতা এমন একটি কাজ, যা সুস্থ বিবেক, যুক্তি ও স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি দ্বারা ঘৃণিত। এর কুপ্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা ব্যক্তিজীবন থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
দ্বিতীয়ত, ওই ব্যক্তি, যে একজন স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য আত্মসাৎ করে। আল্লাহ একজন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রি করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন এবং একে মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
এমন ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে, কারণ সে আল্লাহ তাআলার এক মহান অধিকার লঙ্ঘন করেছে, আর তা হলো মানুষের স্বাধীনতার অধিকার।
তৃতীয়ত, সেই ব্যক্তি, যে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ সেবা গ্রহণ করে, কিন্তু তাকে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করে না। রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তাকে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৪৩)
এই হাদিসে শ্রমিকের মজুরি দ্রুত পরিশোধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত বিলম্ব না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ মজুরি প্রদানে বিলম্ব করাও এক ধরনের জুলুম, যা আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭১)
রাসুল (সা.)-এর ১০ বছরের খাদেম আনাস (রা.) বলেন, “আমি ১০ বছর আল্লাহর রাসুল (সা.)ু-এর খিদমত করেছি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে কখনো ‘উফ’ পর্যন্ত বলেননি; কখনো বলেননি, ‘তুমি এটা কেন করলে?’ বা ‘এটা কেন করনি?’।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩০৯)
আর ইসলামে অন্যায় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। প্রকৃত পক্ষে সব ধর্ম ও সভ্যতায় অন্যায়কে ঘৃণিত ও নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ অন্যায়ের মধ্যে রয়েছে অন্যের অধিকারের ওপর আগ্রাসন, শরিয়তের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন এবং কোনো বিষয়কে তার যথাযথ ও ন্যায়সংগত অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া। অতএব, ইসলামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, মানুষের স্বাধীনতা হরণ এবং শ্রমিকের অধিকার অস্বীকার—এসব এমন গুরুতর অপরাধ, যার কারণে অপরাধীকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার মোকাবেলায় দাঁড়াতে হবে।

ইসলাম দুর্বল, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। কেননা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ ইসলামের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম। তাই তো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে ঘোষণা করে বলেন, তিন শ্রেণির লোক আছে, কিয়ামতের দিন যাদের বিরুদ্ধে আমি নিজেই প্রতিপক্ষ হবো— ১. যে ব্যক্তি আমার নামে কোনো অঙ্গীকার বা চুক্তি করে, তারপর তা ভঙ্গ করে। ২. যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। ৩. এবং যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করে, তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে, কিন্তু তার পারিশ্রমিক প্রদান করে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২২৭)
আল্লাহ তাআলা সব জালিম ও অন্যায়কারীর বিরোধী হলেও এই হাদিসে তিনি বিশেষভাবে এই তিন শ্রেণির মানুষের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা প্রত্যেকে সরাসরি আল্লাহর অধিকার লঙ্ঘন করে।
প্রথমত, সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নামে কোনো চুক্তি বা অঙ্গীকার করেছিল, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছে—এর অর্থ হলো সে আল্লাহ তাআলার নামে কোনো অঙ্গীকার করেছিল অথবা তাঁর নামে শপথ করেছিল, তারপর সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে কিংবা সে আল্লাহ তাআলার নামে বা তাঁর শরিয়তের নির্ধারিত বিধানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বা আশ্রয় প্রদান করেছিল, পরে সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা সংযুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। ’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭)
আর বিশ্বাসঘাতকতা কখনোই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করো। আল্লাহকে জামিন করে শপথ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯১)
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তির জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে, এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৩৫)
বিশ্বাসঘাতকতা এমন একটি কাজ, যা সুস্থ বিবেক, যুক্তি ও স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি দ্বারা ঘৃণিত। এর কুপ্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা ব্যক্তিজীবন থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
দ্বিতীয়ত, ওই ব্যক্তি, যে একজন স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য আত্মসাৎ করে। আল্লাহ একজন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রি করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন এবং একে মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
এমন ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে, কারণ সে আল্লাহ তাআলার এক মহান অধিকার লঙ্ঘন করেছে, আর তা হলো মানুষের স্বাধীনতার অধিকার।
তৃতীয়ত, সেই ব্যক্তি, যে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ সেবা গ্রহণ করে, কিন্তু তাকে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করে না। রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তাকে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৪৩)
এই হাদিসে শ্রমিকের মজুরি দ্রুত পরিশোধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত বিলম্ব না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ মজুরি প্রদানে বিলম্ব করাও এক ধরনের জুলুম, যা আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭১)
রাসুল (সা.)-এর ১০ বছরের খাদেম আনাস (রা.) বলেন, “আমি ১০ বছর আল্লাহর রাসুল (সা.)ু-এর খিদমত করেছি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে কখনো ‘উফ’ পর্যন্ত বলেননি; কখনো বলেননি, ‘তুমি এটা কেন করলে?’ বা ‘এটা কেন করনি?’।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩০৯)
আর ইসলামে অন্যায় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। প্রকৃত পক্ষে সব ধর্ম ও সভ্যতায় অন্যায়কে ঘৃণিত ও নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ অন্যায়ের মধ্যে রয়েছে অন্যের অধিকারের ওপর আগ্রাসন, শরিয়তের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন এবং কোনো বিষয়কে তার যথাযথ ও ন্যায়সংগত অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া। অতএব, ইসলামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, মানুষের স্বাধীনতা হরণ এবং শ্রমিকের অধিকার অস্বীকার—এসব এমন গুরুতর অপরাধ, যার কারণে অপরাধীকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার মোকাবেলায় দাঁড়াতে হবে।

ইসলাম দুর্বল, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। কেননা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ ইসলামের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম। তাই তো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে ঘোষণা করে বলেন, তিন শ্রেণির লোক আছে, কিয়ামতের দিন যাদের বিরুদ্ধে আমি নিজেই প্রতিপক্ষ হবো— ১. যে ব্যক্তি আমার নামে কোনো অঙ্গীকার বা চুক্তি করে, তারপর তা ভঙ্গ করে। ২. যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। ৩. এবং যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করে, তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে, কিন্তু তার পারিশ্রমিক প্রদান করে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২২৭)
আল্লাহ তাআলা সব জালিম ও অন্যায়কারীর বিরোধী হলেও এই হাদিসে তিনি বিশেষভাবে এই তিন শ্রেণির মানুষের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা প্রত্যেকে সরাসরি আল্লাহর অধিকার লঙ্ঘন করে।
প্রথমত, সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নামে কোনো চুক্তি বা অঙ্গীকার করেছিল, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছে—এর অর্থ হলো সে আল্লাহ তাআলার নামে কোনো অঙ্গীকার করেছিল অথবা তাঁর নামে শপথ করেছিল, তারপর সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে কিংবা সে আল্লাহ তাআলার নামে বা তাঁর শরিয়তের নির্ধারিত বিধানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বা আশ্রয় প্রদান করেছিল, পরে সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা সংযুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। ’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭)
আর বিশ্বাসঘাতকতা কখনোই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করো। আল্লাহকে জামিন করে শপথ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯১)
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তির জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে, এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৩৫)
বিশ্বাসঘাতকতা এমন একটি কাজ, যা সুস্থ বিবেক, যুক্তি ও স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি দ্বারা ঘৃণিত। এর কুপ্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা ব্যক্তিজীবন থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
দ্বিতীয়ত, ওই ব্যক্তি, যে একজন স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য আত্মসাৎ করে। আল্লাহ একজন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রি করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন এবং একে মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
এমন ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে, কারণ সে আল্লাহ তাআলার এক মহান অধিকার লঙ্ঘন করেছে, আর তা হলো মানুষের স্বাধীনতার অধিকার।
তৃতীয়ত, সেই ব্যক্তি, যে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ সেবা গ্রহণ করে, কিন্তু তাকে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করে না। রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তাকে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৪৩)
এই হাদিসে শ্রমিকের মজুরি দ্রুত পরিশোধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত বিলম্ব না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ মজুরি প্রদানে বিলম্ব করাও এক ধরনের জুলুম, যা আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭১)
রাসুল (সা.)-এর ১০ বছরের খাদেম আনাস (রা.) বলেন, “আমি ১০ বছর আল্লাহর রাসুল (সা.)ু-এর খিদমত করেছি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে কখনো ‘উফ’ পর্যন্ত বলেননি; কখনো বলেননি, ‘তুমি এটা কেন করলে?’ বা ‘এটা কেন করনি?’।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩০৯)
আর ইসলামে অন্যায় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। প্রকৃত পক্ষে সব ধর্ম ও সভ্যতায় অন্যায়কে ঘৃণিত ও নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ অন্যায়ের মধ্যে রয়েছে অন্যের অধিকারের ওপর আগ্রাসন, শরিয়তের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন এবং কোনো বিষয়কে তার যথাযথ ও ন্যায়সংগত অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া। অতএব, ইসলামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, মানুষের স্বাধীনতা হরণ এবং শ্রমিকের অধিকার অস্বীকার—এসব এমন গুরুতর অপরাধ, যার কারণে অপরাধীকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার মোকাবেলায় দাঁড়াতে হবে।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!