খান হাসিব: জরিপে দেখা গেছে মেরু ভালুকেরা সাদা এবং শীতল স্থানে বাস করে, এই তথ্যের বাহিরে বেশিরভাগ মানুষ এদের সম্পর্কে আর বিশেষ কিছু জানে না। এই তথ্য যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এদের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য আছে যা আপনাকে অবাক হতে বাধ্য করবে।
এদের জীবন আসলে কতটা জটিল এবং পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বছরের পর বছর ধরে নিজেদের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে তা জেনে আপনার বিস্ময় বাড়তেই থাকবে। আজ দৈনিক এইদিনের পাঠকদের জন্য মেরু ভালুক সম্পর্কে শেষ পর্বে দুর্দান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করছি, যা আপনার জ্ঞানের পরিধি সমৃদ্ধ করতে পারে…
১. মেরু ভালুকেরা প্রায় ৯.৮ ফুট (৩ মিটার) পর্যন্ত দীর্ঘ হয়, এ কারণে এদেরকে স্থলভাগের বৃহত্তম মাংসাশী প্রাণী বলা হয়!
২. পুরুষদের তুলনায় নারী মেরু ভালুকেরা আকারে অর্ধেক হয়!
৩. মেরু ভালুকদের গন্ধ ও শ্রবণ শক্তি খুবই প্রচণ্ড হয়, এরা প্রায় ১ কিলোমিটার (০.৬ মাইল) দূর থেকে শিকারের গন্ধ শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া এরা বরফের অভ্যন্তরে থাকা প্রাণীদের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দও শনাক্ত করতে পারে!
৪. মেরু ভালুকদের ধৈর্যশক্তিও খুবই প্রচণ্ডরকম হয়। এরা সীলদের বাসা শনাক্তের পর লাগাতার সেখানে অপেক্ষা করে থাকে যতক্ষণ না তারা সেখান থেকে বের হয়ে না আসে!
৫. বরফের উপর ৩ ফুটের বেশি বরফ জমে থাকলেও এরা নিচে থাকা সীলদের উপস্থিতি বুঝতে পারে!
৬. যখন প্রয়োজন হয় এরা খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিকারকে এরা ৫০-১০০ ফুট দূর থেকে প্রায় ২৫ মাইল বেগে (৪০ কিলোমিটার) আক্রমণ করে থাকে!
৭. দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, স্যান্ডি মেরু ভালুক ছিল অতীতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের প্রথম প্রজাতি। আবার বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা এরাই সবচেয়ে বেশি হুমকিতে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৩০ শতাংশে নেমে আসবে!
৮. আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাণীদের ট্র্যাক করার অনেক উপায় আছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে 'বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর' বরফের উপর পায়ের ছাপ দেখে মেরু ভালুকদের ডিএনএ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্পাইজেন ডিএনএ বিশেষজ্ঞ/বিজ্ঞানীরা তুষার থেকে এদের ডিএনএ আলাদা করে তুলে নিতে সক্ষম!
৯. বাচ্চার গঠনে সমস্যা তৈরি করায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়ও গর্ভবতী মেরু ভালুকেরা শীত নিদ্রায় যায় না। এই শীত নিদ্রাকে 'মাংসাশী অলসতা' বলা হয়। এই বৈশিষ্ট্য এদেরকে অন্য ভালুক প্রজাতি থেকে স্বতন্ত্র করেছে।
১০. ১৯৬০ সালে উত্তর-পশ্চিম আলাস্কায় রেকর্ড বৃহৎ মেরু ভালুকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। উদ্ধারকৃত সেই ভালুকটির ওজন ছিল ২,২০৯ পাউন্ড ((১,০০২ কেজি)!
ভালুক প্রজাতির মধ্যে মেরু ভালুক হচ্ছে একটি অনন্য প্রজাতি। অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য এদেরকে প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য নানাভাবে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করেছে। দুর্ভাগ্যবশত গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু ভালুকের উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তারা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই এদেরকে বিলুপ্ত প্রাণীতে পরিণত করতে পারে!
আশার বিষয় হচ্ছে 'বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর'র কিছু সংরক্ষণ প্রকল্পের কিছু অঞ্চলে মেরু ভালুকের জনসংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। তবে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কমাতে সবার প্রচেষ্টায় কেবল পারে মেরু ভালুকদের প্রকৃতিতে টিকে থাকতে। এদেরকে বাঁচাতে সাহায্য করতে আমরা কি পারি না গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতে!
০
মেরু ভালুক সম্পর্কে দুর্দান্ত কিছু তথ্য যা আপনার জানা উচিৎ- শেষ পর্ব
খান হাসিব: জরিপে দেখা গেছে মেরু ভালুকেরা সাদা এবং শীতল স্থানে বাস করে, এই তথ্যের বাহিরে বেশিরভাগ মানুষ এদের সম্পর্কে আর বিশেষ কিছু জানে না। এই তথ্য যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এদের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য আছে যা আপনাকে অবাক হতে বাধ্য করবে।
এদের জীবন আসলে কতটা জটিল এবং পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বছরের পর বছর ধরে নিজেদের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে তা জেনে আপনার বিস্ময় বাড়তেই থাকবে। আজ দৈনিক এইদিনের পাঠকদের জন্য মেরু ভালুক সম্পর্কে শেষ পর্বে দুর্দান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করছি, যা আপনার জ্ঞানের পরিধি সমৃদ্ধ করতে পারে…
১. মেরু ভালুকেরা প্রায় ৯.৮ ফুট (৩ মিটার) পর্যন্ত দীর্ঘ হয়, এ কারণে এদেরকে স্থলভাগের বৃহত্তম মাংসাশী প্রাণী বলা হয়!
২. পুরুষদের তুলনায় নারী মেরু ভালুকেরা আকারে অর্ধেক হয়!
৩. মেরু ভালুকদের গন্ধ ও শ্রবণ শক্তি খুবই প্রচণ্ড হয়, এরা প্রায় ১ কিলোমিটার (০.৬ মাইল) দূর থেকে শিকারের গন্ধ শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া এরা বরফের অভ্যন্তরে থাকা প্রাণীদের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দও শনাক্ত করতে পারে!
৪. মেরু ভালুকদের ধৈর্যশক্তিও খুবই প্রচণ্ডরকম হয়। এরা সীলদের বাসা শনাক্তের পর লাগাতার সেখানে অপেক্ষা করে থাকে যতক্ষণ না তারা সেখান থেকে বের হয়ে না আসে!
৫. বরফের উপর ৩ ফুটের বেশি বরফ জমে থাকলেও এরা নিচে থাকা সীলদের উপস্থিতি বুঝতে পারে!
৬. যখন প্রয়োজন হয় এরা খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিকারকে এরা ৫০-১০০ ফুট দূর থেকে প্রায় ২৫ মাইল বেগে (৪০ কিলোমিটার) আক্রমণ করে থাকে!
৭. দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, স্যান্ডি মেরু ভালুক ছিল অতীতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের প্রথম প্রজাতি। আবার বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা এরাই সবচেয়ে বেশি হুমকিতে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৩০ শতাংশে নেমে আসবে!
৮. আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাণীদের ট্র্যাক করার অনেক উপায় আছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে 'বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর' বরফের উপর পায়ের ছাপ দেখে মেরু ভালুকদের ডিএনএ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্পাইজেন ডিএনএ বিশেষজ্ঞ/বিজ্ঞানীরা তুষার থেকে এদের ডিএনএ আলাদা করে তুলে নিতে সক্ষম!
৯. বাচ্চার গঠনে সমস্যা তৈরি করায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়ও গর্ভবতী মেরু ভালুকেরা শীত নিদ্রায় যায় না। এই শীত নিদ্রাকে 'মাংসাশী অলসতা' বলা হয়। এই বৈশিষ্ট্য এদেরকে অন্য ভালুক প্রজাতি থেকে স্বতন্ত্র করেছে।
১০. ১৯৬০ সালে উত্তর-পশ্চিম আলাস্কায় রেকর্ড বৃহৎ মেরু ভালুকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। উদ্ধারকৃত সেই ভালুকটির ওজন ছিল ২,২০৯ পাউন্ড ((১,০০২ কেজি)!
ভালুক প্রজাতির মধ্যে মেরু ভালুক হচ্ছে একটি অনন্য প্রজাতি। অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য এদেরকে প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য নানাভাবে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করেছে। দুর্ভাগ্যবশত গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু ভালুকের উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তারা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই এদেরকে বিলুপ্ত প্রাণীতে পরিণত করতে পারে!
আশার বিষয় হচ্ছে 'বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর'র কিছু সংরক্ষণ প্রকল্পের কিছু অঞ্চলে মেরু ভালুকের জনসংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। তবে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কমাতে সবার প্রচেষ্টায় কেবল পারে মেরু ভালুকদের প্রকৃতিতে টিকে থাকতে। এদেরকে বাঁচাতে সাহায্য করতে আমরা কি পারি না গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতে!
০
খান হাসিব: জরিপে দেখা গেছে মেরু ভালুকেরা সাদা এবং শীতল স্থানে বাস করে, এই তথ্যের বাহিরে বেশিরভাগ মানুষ এদের সম্পর্কে আর বিশেষ কিছু জানে না। এই তথ্য যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এদের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য আছে যা আপনাকে অবাক হতে বাধ্য করবে।
এদের জীবন আসলে কতটা জটিল এবং পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বছরের পর বছর ধরে নিজেদের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে তা জেনে আপনার বিস্ময় বাড়তেই থাকবে। আজ দৈনিক এইদিনের পাঠকদের জন্য মেরু ভালুক সম্পর্কে শেষ পর্বে দুর্দান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করছি, যা আপনার জ্ঞানের পরিধি সমৃদ্ধ করতে পারে…
১. মেরু ভালুকেরা প্রায় ৯.৮ ফুট (৩ মিটার) পর্যন্ত দীর্ঘ হয়, এ কারণে এদেরকে স্থলভাগের বৃহত্তম মাংসাশী প্রাণী বলা হয়!
২. পুরুষদের তুলনায় নারী মেরু ভালুকেরা আকারে অর্ধেক হয়!
৩. মেরু ভালুকদের গন্ধ ও শ্রবণ শক্তি খুবই প্রচণ্ড হয়, এরা প্রায় ১ কিলোমিটার (০.৬ মাইল) দূর থেকে শিকারের গন্ধ শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া এরা বরফের অভ্যন্তরে থাকা প্রাণীদের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দও শনাক্ত করতে পারে!
৪. মেরু ভালুকদের ধৈর্যশক্তিও খুবই প্রচণ্ডরকম হয়। এরা সীলদের বাসা শনাক্তের পর লাগাতার সেখানে অপেক্ষা করে থাকে যতক্ষণ না তারা সেখান থেকে বের হয়ে না আসে!
৫. বরফের উপর ৩ ফুটের বেশি বরফ জমে থাকলেও এরা নিচে থাকা সীলদের উপস্থিতি বুঝতে পারে!
৬. যখন প্রয়োজন হয় এরা খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিকারকে এরা ৫০-১০০ ফুট দূর থেকে প্রায় ২৫ মাইল বেগে (৪০ কিলোমিটার) আক্রমণ করে থাকে!
৭. দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, স্যান্ডি মেরু ভালুক ছিল অতীতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের প্রথম প্রজাতি। আবার বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা এরাই সবচেয়ে বেশি হুমকিতে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৩০ শতাংশে নেমে আসবে!
৮. আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাণীদের ট্র্যাক করার অনেক উপায় আছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে 'বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর' বরফের উপর পায়ের ছাপ দেখে মেরু ভালুকদের ডিএনএ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্পাইজেন ডিএনএ বিশেষজ্ঞ/বিজ্ঞানীরা তুষার থেকে এদের ডিএনএ আলাদা করে তুলে নিতে সক্ষম!
৯. বাচ্চার গঠনে সমস্যা তৈরি করায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়ও গর্ভবতী মেরু ভালুকেরা শীত নিদ্রায় যায় না। এই শীত নিদ্রাকে 'মাংসাশী অলসতা' বলা হয়। এই বৈশিষ্ট্য এদেরকে অন্য ভালুক প্রজাতি থেকে স্বতন্ত্র করেছে।
১০. ১৯৬০ সালে উত্তর-পশ্চিম আলাস্কায় রেকর্ড বৃহৎ মেরু ভালুকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। উদ্ধারকৃত সেই ভালুকটির ওজন ছিল ২,২০৯ পাউন্ড ((১,০০২ কেজি)!
ভালুক প্রজাতির মধ্যে মেরু ভালুক হচ্ছে একটি অনন্য প্রজাতি। অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য এদেরকে প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য নানাভাবে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করেছে। দুর্ভাগ্যবশত গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু ভালুকের উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তারা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই এদেরকে বিলুপ্ত প্রাণীতে পরিণত করতে পারে!
আশার বিষয় হচ্ছে 'বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর'র কিছু সংরক্ষণ প্রকল্পের কিছু অঞ্চলে মেরু ভালুকের জনসংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। তবে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কমাতে সবার প্রচেষ্টায় কেবল পারে মেরু ভালুকদের প্রকৃতিতে টিকে থাকতে। এদেরকে বাঁচাতে সাহায্য করতে আমরা কি পারি না গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতে!
মেরু ভালুক সম্পর্কে দুর্দান্ত কিছু তথ্য যা আপনার জানা উচিৎ- শেষ পর্ব
খান হাসিব: জরিপে দেখা গেছে মেরু ভালুকেরা সাদা এবং শীতল স্থানে বাস করে, এই তথ্যের বাহিরে বেশিরভাগ মানুষ এদের সম্পর্কে আর বিশেষ কিছু জানে না। এই তথ্য যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এদের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য আছে যা আপনাকে অবাক হতে বাধ্য করবে।
এদের জীবন আসলে কতটা জটিল এবং পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বছরের পর বছর ধরে নিজেদের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে তা জেনে আপনার বিস্ময় বাড়তেই থাকবে। আজ দৈনিক এইদিনের পাঠকদের জন্য মেরু ভালুক সম্পর্কে শেষ পর্বে দুর্দান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করছি, যা আপনার জ্ঞানের পরিধি সমৃদ্ধ করতে পারে…
১. মেরু ভালুকেরা প্রায় ৯.৮ ফুট (৩ মিটার) পর্যন্ত দীর্ঘ হয়, এ কারণে এদেরকে স্থলভাগের বৃহত্তম মাংসাশী প্রাণী বলা হয়!
২. পুরুষদের তুলনায় নারী মেরু ভালুকেরা আকারে অর্ধেক হয়!
৩. মেরু ভালুকদের গন্ধ ও শ্রবণ শক্তি খুবই প্রচণ্ড হয়, এরা প্রায় ১ কিলোমিটার (০.৬ মাইল) দূর থেকে শিকারের গন্ধ শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া এরা বরফের অভ্যন্তরে থাকা প্রাণীদের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দও শনাক্ত করতে পারে!
৪. মেরু ভালুকদের ধৈর্যশক্তিও খুবই প্রচণ্ডরকম হয়। এরা সীলদের বাসা শনাক্তের পর লাগাতার সেখানে অপেক্ষা করে থাকে যতক্ষণ না তারা সেখান থেকে বের হয়ে না আসে!
৫. বরফের উপর ৩ ফুটের বেশি বরফ জমে থাকলেও এরা নিচে থাকা সীলদের উপস্থিতি বুঝতে পারে!
৬. যখন প্রয়োজন হয় এরা খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিকারকে এরা ৫০-১০০ ফুট দূর থেকে প্রায় ২৫ মাইল বেগে (৪০ কিলোমিটার) আক্রমণ করে থাকে!
৭. দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, স্যান্ডি মেরু ভালুক ছিল অতীতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের প্রথম প্রজাতি। আবার বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা এরাই সবচেয়ে বেশি হুমকিতে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৩০ শতাংশে নেমে আসবে!
৮. আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাণীদের ট্র্যাক করার অনেক উপায় আছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে 'বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর' বরফের উপর পায়ের ছাপ দেখে মেরু ভালুকদের ডিএনএ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্পাইজেন ডিএনএ বিশেষজ্ঞ/বিজ্ঞানীরা তুষার থেকে এদের ডিএনএ আলাদা করে তুলে নিতে সক্ষম!
৯. বাচ্চার গঠনে সমস্যা তৈরি করায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়ও গর্ভবতী মেরু ভালুকেরা শীত নিদ্রায় যায় না। এই শীত নিদ্রাকে 'মাংসাশী অলসতা' বলা হয়। এই বৈশিষ্ট্য এদেরকে অন্য ভালুক প্রজাতি থেকে স্বতন্ত্র করেছে।
১০. ১৯৬০ সালে উত্তর-পশ্চিম আলাস্কায় রেকর্ড বৃহৎ মেরু ভালুকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। উদ্ধারকৃত সেই ভালুকটির ওজন ছিল ২,২০৯ পাউন্ড ((১,০০২ কেজি)!
ভালুক প্রজাতির মধ্যে মেরু ভালুক হচ্ছে একটি অনন্য প্রজাতি। অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য এদেরকে প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য নানাভাবে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করেছে। দুর্ভাগ্যবশত গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু ভালুকের উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তারা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই এদেরকে বিলুপ্ত প্রাণীতে পরিণত করতে পারে!
আশার বিষয় হচ্ছে 'বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর'র কিছু সংরক্ষণ প্রকল্পের কিছু অঞ্চলে মেরু ভালুকের জনসংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। তবে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কমাতে সবার প্রচেষ্টায় কেবল পারে মেরু ভালুকদের প্রকৃতিতে টিকে থাকতে। এদেরকে বাঁচাতে সাহায্য করতে আমরা কি পারি না গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতে!