
রাত তখন সাড়ে ৩টা। রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা আতাউর রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য শাহবাগের একটি ফিলিং স্টেশন।
কয়েকদিন আগেও যেখানে রাতভর অপেক্ষা করেও সিরিয়ালের শেষ দেখা যেত না, সেই জায়গায় পৌঁছে তিনি যেন ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন। হাতিরপুল মোতালেব প্লাজা পেরিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বিএসএমএমইউ) এলাকার কাছাকাছি গিয়ে সারিতে দাঁড়াতে হয় তাকে। সামনে তখন ১০০থেকে ১২০টি মোটরসাইকেল।
চারপাশে ভোরের নিস্তব্ধতা। কেউ মোটরসাইকেলের ওপর হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছেন, কেউ গেটের সামনে বসে ঝিমুচ্ছেন, আবার কেউ গল্পে মেতে আছেন। সবার অপেক্ষা একটাই- সকাল ৮টা, যখন শুরু হবে ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ।
আতাউর রহমান বললেন, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তেল নিয়ে বাসায় ফিরতে পেরেছি-যা কয়েকদিন আগেও ভাবা যেত না।
মাত্র একদিন আগেও একই পাম্পে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার জ্বালানি নিতে ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হতো। শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আর পিকআপ ভ্যানে ভরে যেত আশপাশের সড়ক।
বর্তমানে নতুন নিয়মে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। তেল নেওয়ার আগে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সংগ্রহ করে পাম্পে দেখাতে হচ্ছে- যা পুরো প্রক্রিয়াকে করেছে নিয়ন্ত্রিত ও দ্রুততর।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করেছে। এই পাস ছাড়া পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।
প্রাথমিকভাবে শাহবাগ, আসাদগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, নিকুঞ্জ ও মিরপুর এলাকার নির্বাচিত সাতটি পাম্পে কড়াকড়িভাবে নিয়মটি কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা,অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধ এবংভোগান্তি কমিয়ে সময় সাশ্রয় নিশ্চিত করা
ধানমন্ডি, শাহবাগ, রমনা ও তেজগাঁও ঘুরে দেখা গেছে- যেসব পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেখানে ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অপেক্ষার সময়ও কমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ভোর ৬টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের উল্টোদিকের একটি গলিতে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে আগের মতো বিশৃঙ্খল দীর্ঘ লাইন আর চোখে পড়েনি।
মোটরসাইকেল চালক আবু রাসেল বলেন, ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক হওয়ায় এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। অনেকটাই স্বস্তি এসেছে। তবে সবাই সমানভাবে উপকৃত নন।
তুহিন নামের এক যুবক জানান, ফুয়েল পাস সম্পর্কে না জানায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি তেল পাননি। তিনি বলেন, অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু দেয়নি। খারাপ লেগেছে। তবে নিয়মটা ভালো- সবাই মানলে সুবিধা হবে।
নীলক্ষেত এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি আগের তুলনায় অনেকটাই কম।
অনেকেই মনে করছেন, ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের সূচনা করেছে। যদিও শুরুতে সচেতনতার অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভোগান্তি রয়েছে, তবে সঠিক বাস্তবায়ন ও বিস্তৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইনের সংস্কৃতি অতীত হয়ে যেতে পারে।
তবে এই স্বস্তি স্থায়ী করতে হলে দরকার সচেতনতা, সমন্বয় এবং সঠিক বাস্তবায়ন।‘ফুয়েল পাস’ শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

রাত তখন সাড়ে ৩টা। রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা আতাউর রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য শাহবাগের একটি ফিলিং স্টেশন।
কয়েকদিন আগেও যেখানে রাতভর অপেক্ষা করেও সিরিয়ালের শেষ দেখা যেত না, সেই জায়গায় পৌঁছে তিনি যেন ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন। হাতিরপুল মোতালেব প্লাজা পেরিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বিএসএমএমইউ) এলাকার কাছাকাছি গিয়ে সারিতে দাঁড়াতে হয় তাকে। সামনে তখন ১০০থেকে ১২০টি মোটরসাইকেল।
চারপাশে ভোরের নিস্তব্ধতা। কেউ মোটরসাইকেলের ওপর হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছেন, কেউ গেটের সামনে বসে ঝিমুচ্ছেন, আবার কেউ গল্পে মেতে আছেন। সবার অপেক্ষা একটাই- সকাল ৮টা, যখন শুরু হবে ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ।
আতাউর রহমান বললেন, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তেল নিয়ে বাসায় ফিরতে পেরেছি-যা কয়েকদিন আগেও ভাবা যেত না।
মাত্র একদিন আগেও একই পাম্পে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার জ্বালানি নিতে ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হতো। শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আর পিকআপ ভ্যানে ভরে যেত আশপাশের সড়ক।
বর্তমানে নতুন নিয়মে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। তেল নেওয়ার আগে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সংগ্রহ করে পাম্পে দেখাতে হচ্ছে- যা পুরো প্রক্রিয়াকে করেছে নিয়ন্ত্রিত ও দ্রুততর।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করেছে। এই পাস ছাড়া পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।
প্রাথমিকভাবে শাহবাগ, আসাদগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, নিকুঞ্জ ও মিরপুর এলাকার নির্বাচিত সাতটি পাম্পে কড়াকড়িভাবে নিয়মটি কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা,অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধ এবংভোগান্তি কমিয়ে সময় সাশ্রয় নিশ্চিত করা
ধানমন্ডি, শাহবাগ, রমনা ও তেজগাঁও ঘুরে দেখা গেছে- যেসব পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেখানে ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অপেক্ষার সময়ও কমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ভোর ৬টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের উল্টোদিকের একটি গলিতে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে আগের মতো বিশৃঙ্খল দীর্ঘ লাইন আর চোখে পড়েনি।
মোটরসাইকেল চালক আবু রাসেল বলেন, ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক হওয়ায় এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। অনেকটাই স্বস্তি এসেছে। তবে সবাই সমানভাবে উপকৃত নন।
তুহিন নামের এক যুবক জানান, ফুয়েল পাস সম্পর্কে না জানায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি তেল পাননি। তিনি বলেন, অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু দেয়নি। খারাপ লেগেছে। তবে নিয়মটা ভালো- সবাই মানলে সুবিধা হবে।
নীলক্ষেত এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি আগের তুলনায় অনেকটাই কম।
অনেকেই মনে করছেন, ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের সূচনা করেছে। যদিও শুরুতে সচেতনতার অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভোগান্তি রয়েছে, তবে সঠিক বাস্তবায়ন ও বিস্তৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইনের সংস্কৃতি অতীত হয়ে যেতে পারে।
তবে এই স্বস্তি স্থায়ী করতে হলে দরকার সচেতনতা, সমন্বয় এবং সঠিক বাস্তবায়ন।‘ফুয়েল পাস’ শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

রাত তখন সাড়ে ৩টা। রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা আতাউর রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য শাহবাগের একটি ফিলিং স্টেশন।
কয়েকদিন আগেও যেখানে রাতভর অপেক্ষা করেও সিরিয়ালের শেষ দেখা যেত না, সেই জায়গায় পৌঁছে তিনি যেন ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন। হাতিরপুল মোতালেব প্লাজা পেরিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বিএসএমএমইউ) এলাকার কাছাকাছি গিয়ে সারিতে দাঁড়াতে হয় তাকে। সামনে তখন ১০০থেকে ১২০টি মোটরসাইকেল।
চারপাশে ভোরের নিস্তব্ধতা। কেউ মোটরসাইকেলের ওপর হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছেন, কেউ গেটের সামনে বসে ঝিমুচ্ছেন, আবার কেউ গল্পে মেতে আছেন। সবার অপেক্ষা একটাই- সকাল ৮টা, যখন শুরু হবে ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ।
আতাউর রহমান বললেন, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তেল নিয়ে বাসায় ফিরতে পেরেছি-যা কয়েকদিন আগেও ভাবা যেত না।
মাত্র একদিন আগেও একই পাম্পে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার জ্বালানি নিতে ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হতো। শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আর পিকআপ ভ্যানে ভরে যেত আশপাশের সড়ক।
বর্তমানে নতুন নিয়মে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। তেল নেওয়ার আগে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সংগ্রহ করে পাম্পে দেখাতে হচ্ছে- যা পুরো প্রক্রিয়াকে করেছে নিয়ন্ত্রিত ও দ্রুততর।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করেছে। এই পাস ছাড়া পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।
প্রাথমিকভাবে শাহবাগ, আসাদগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, নিকুঞ্জ ও মিরপুর এলাকার নির্বাচিত সাতটি পাম্পে কড়াকড়িভাবে নিয়মটি কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা,অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধ এবংভোগান্তি কমিয়ে সময় সাশ্রয় নিশ্চিত করা
ধানমন্ডি, শাহবাগ, রমনা ও তেজগাঁও ঘুরে দেখা গেছে- যেসব পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেখানে ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অপেক্ষার সময়ও কমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ভোর ৬টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের উল্টোদিকের একটি গলিতে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে আগের মতো বিশৃঙ্খল দীর্ঘ লাইন আর চোখে পড়েনি।
মোটরসাইকেল চালক আবু রাসেল বলেন, ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক হওয়ায় এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। অনেকটাই স্বস্তি এসেছে। তবে সবাই সমানভাবে উপকৃত নন।
তুহিন নামের এক যুবক জানান, ফুয়েল পাস সম্পর্কে না জানায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি তেল পাননি। তিনি বলেন, অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু দেয়নি। খারাপ লেগেছে। তবে নিয়মটা ভালো- সবাই মানলে সুবিধা হবে।
নীলক্ষেত এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি আগের তুলনায় অনেকটাই কম।
অনেকেই মনে করছেন, ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের সূচনা করেছে। যদিও শুরুতে সচেতনতার অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভোগান্তি রয়েছে, তবে সঠিক বাস্তবায়ন ও বিস্তৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইনের সংস্কৃতি অতীত হয়ে যেতে পারে।
তবে এই স্বস্তি স্থায়ী করতে হলে দরকার সচেতনতা, সমন্বয় এবং সঠিক বাস্তবায়ন।‘ফুয়েল পাস’ শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

রাত তখন সাড়ে ৩টা। রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা আতাউর রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য শাহবাগের একটি ফিলিং স্টেশন।
কয়েকদিন আগেও যেখানে রাতভর অপেক্ষা করেও সিরিয়ালের শেষ দেখা যেত না, সেই জায়গায় পৌঁছে তিনি যেন ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন। হাতিরপুল মোতালেব প্লাজা পেরিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বিএসএমএমইউ) এলাকার কাছাকাছি গিয়ে সারিতে দাঁড়াতে হয় তাকে। সামনে তখন ১০০থেকে ১২০টি মোটরসাইকেল।
চারপাশে ভোরের নিস্তব্ধতা। কেউ মোটরসাইকেলের ওপর হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছেন, কেউ গেটের সামনে বসে ঝিমুচ্ছেন, আবার কেউ গল্পে মেতে আছেন। সবার অপেক্ষা একটাই- সকাল ৮টা, যখন শুরু হবে ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ।
আতাউর রহমান বললেন, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তেল নিয়ে বাসায় ফিরতে পেরেছি-যা কয়েকদিন আগেও ভাবা যেত না।
মাত্র একদিন আগেও একই পাম্পে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার জ্বালানি নিতে ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হতো। শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আর পিকআপ ভ্যানে ভরে যেত আশপাশের সড়ক।
বর্তমানে নতুন নিয়মে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। তেল নেওয়ার আগে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সংগ্রহ করে পাম্পে দেখাতে হচ্ছে- যা পুরো প্রক্রিয়াকে করেছে নিয়ন্ত্রিত ও দ্রুততর।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করেছে। এই পাস ছাড়া পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।
প্রাথমিকভাবে শাহবাগ, আসাদগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, নিকুঞ্জ ও মিরপুর এলাকার নির্বাচিত সাতটি পাম্পে কড়াকড়িভাবে নিয়মটি কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা,অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধ এবংভোগান্তি কমিয়ে সময় সাশ্রয় নিশ্চিত করা
ধানমন্ডি, শাহবাগ, রমনা ও তেজগাঁও ঘুরে দেখা গেছে- যেসব পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেখানে ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অপেক্ষার সময়ও কমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ভোর ৬টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের উল্টোদিকের একটি গলিতে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে আগের মতো বিশৃঙ্খল দীর্ঘ লাইন আর চোখে পড়েনি।
মোটরসাইকেল চালক আবু রাসেল বলেন, ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক হওয়ায় এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। অনেকটাই স্বস্তি এসেছে। তবে সবাই সমানভাবে উপকৃত নন।
তুহিন নামের এক যুবক জানান, ফুয়েল পাস সম্পর্কে না জানায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি তেল পাননি। তিনি বলেন, অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু দেয়নি। খারাপ লেগেছে। তবে নিয়মটা ভালো- সবাই মানলে সুবিধা হবে।
নীলক্ষেত এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি আগের তুলনায় অনেকটাই কম।
অনেকেই মনে করছেন, ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের সূচনা করেছে। যদিও শুরুতে সচেতনতার অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভোগান্তি রয়েছে, তবে সঠিক বাস্তবায়ন ও বিস্তৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইনের সংস্কৃতি অতীত হয়ে যেতে পারে।
তবে এই স্বস্তি স্থায়ী করতে হলে দরকার সচেতনতা, সমন্বয় এবং সঠিক বাস্তবায়ন।‘ফুয়েল পাস’ শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!