• মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশের যেসব বৈশিষ্ট্য আপনাকে অবাক করবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৪

বিশ্বের নিরাপদ দেশগুলোর তালিকায় শুরুতেই আছে আইসল্যান্ড। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ এবং বিজনেস ইনসাইডার ওয়েবসাইট অনুসারে, আইসল্যান্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গ্লোবাল পিস ইনডেক্সও এই দেশটিকে এক নম্বর নিরাপদ দেশের মর্যাদা দিয়েছে। তবে এছাড়াও এশিয়ার এমন একটি দেশ আছে যেখানে মানুষের জিনিসের নিরাপত্তা অনেক বেশি। রাস্তায় আপনার দামি জিনিস ফেলে এলেও সেটি ঠিকই ফেরত পাবেন।

দুনিয়ার যে কোনো দেশেই একবার যদি মোবাইল ফোন বা পার্স হারিয়ে যায়, তাহলে কখনোই তা ফিরে পাওয়ার কথা কেউ ভাবতেই পারে না। পৃথিবীর কোনো দেশে যদি হারিয়ে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা, অর্থাৎ, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সিস্টেম’ খুবই জোরদার হয়ে থাকে, তা রয়েছে এই দেশে। হারিয়ে গেলেও তাদের সিস্টেম সেটা খুঁজে পাবে এবং আপনাকে ফিরিয়ে দেবে।

সেই অদ্ভুত দেশটি হলো জাপান। জাপান এমন একটি দেশ যেখানে অনেক কিছুই বিস্ময়কর যে প্রতিটি দেশের কাছেই তা শিক্ষনীয়। জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয় সেখানকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। পাশাপাশি রয়েছে প্রচণ্ড শৃঙ্খলতা। জাপানের অনেক সিস্টেমই বিস্ময়কর। এর মধ্যে একটি হলো এর ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সিস্টেম’। এই সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করে জানেন কি?

ধরুন আপনি ভুল করে ট্যাক্সিতে আপনার ফোন ফেলে চলে এলেন বা আপনার ব্রিফকেস বা নোটে ভরা পার্স কোথাও ভুলে এলেন, জাপানে থাকলে আপনি জানবেন, সেগুলো আপনি একেবারে ঠিকভাবেই ফেরত পাবেন। প্রতি বছর ১২.৬ মিলিয়ন জাপানি তাদের কিছু না কিছু জিনিস হারান, আর তার বেশিরভাগ জিনিসই পুনরুদ্ধার করা হয়। এজন্য জাপানের সিস্টেম খুব ভালো কাজ করে।

জাপানের এই সিস্টেম শুরু হয় স্থানীয় ‘কোবান’ থেকে। ‘কোবান’ মূলত এক বা দু’কামরার ছোট্ট পুলিশ স্টেশন। এটাই জাপানের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ সিস্টেমের মূল একক। পুরো জাপানে ৬ হাজার ৩০০টি এই ধরনের কোবান বা ছোট পুলিশ স্টেশন রয়েছে। যাদের কাজই হারানো জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া।

যদি জাপানে কেউ কোনো জিনিস খুঁজে পান, তারা তা সঙ্গে সঙ্গে কোবানে নিয়ে আসেন। তখন কোবানের পক্ষ থেকে ছবিসহ সঙ্গে সঙ্গে তাদের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেওয়া হয়। তাই কেউ কিছু হারিয়ে ফেললে সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে খুঁজতেই পারেন।

তিন মাস পর্যন্ত জিনিসটির মালিক ওই ওয়েবসাইট বা নিকটবর্তী কোবানে তার হারিয়ে যাওয়া জিনিসের খোঁজ করতে পারেন। তবে তিন মাসের মধ্যেও কেউ যদি হারিয়ে যাওয়া জিনিসটি নিজের বলে দাবি না করেন, তাহলে তা প্রথম যিনি খুঁজে পেয়েছিলেন তাকে দিয়ে দেওয়া হয় বা নগরপালের দফতরে জমা দেওয়া হয়।

জাপানের রেলওয়ে স্টেশনও অত্যন্ত ব্যস্ত হয়৷ তাই হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র জমা দেওয়া বা নেওয়ার জন্য সেই সব স্টেশনেও আলাদা আলাদা থানার ব্যবস্থা করা থাকে। তবে এই পুরো ব্যবস্থার সাফল্যের পেছনে জাপানের মানুষের সার্বিক শিক্ষাও অনেকাংশেই দায়ী। কারণ, জাপানের শিশুদের ছোট থেকে শেখানো হয়, অন্যের জিনিস কুড়িয়ে পেলে তা সঙ্গে সঙ্গে বড়দের দিতে, তাই বড় হয়েও কেউ কিছু কুড়িয়ে পেলেই তা থানা বা কোবানে গিয়ে জমা দিয়ে দেন।

জাপানের সম্পত্তি আইনও দেশের হারানো জিনিস ফেরত দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এখন প্রশ্ন, শুধু এই মডেল অন্য দেশে চালু করলেই কি হারানো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? ব্যাপারটা কিন্তু একেবারেই তা নয়। কারণ এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তিটাই হলো সেখানকার জাতিগত নৈতিক শিক্ষা।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর