• বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

বছর শেষে নিট রিজার্ভ কত? আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৪

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের দেওয়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের শর্ত পূরণ করলো বাংলাদেশ। দেশের বেশিরভাগ ব্যাংক ডলার সংকটে থাকার পরও আইএমএফের শর্তানুযায়ী, রিজার্ভ সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছর শেষে ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট রিজার্ভ প্রায় ১৭.৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্তানুযায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ১৭.৪৮ বিলিয়ন ডলার নিট রিজার্ভ সংরক্ষণের কথা ছিল। সেই হিসাবে নিট রিজার্ভ সংরক্ষণে আইএমএফের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আইএমএফের ঋণের শর্ত পূরণে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ১৭.৭৮ বিলিয়ন ডলার নিট রিজার্ভ রাখার লক্ষ্য নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে ২৮ ডিসেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২১.৭ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভের সংকটের মধ্যেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকগুলোর কাছে ৬.৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিক্রি করেছিল ৭.৮ বিলিয়ন ডলার।

ব্যাংকাররা বলেন, তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি দায় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ রয়েছে। অন্যদিকে আইএমএফের ঋণের শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ ধরে রাখতে ভিন্ন উপায়ে ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করতে হয়েছে।

আইএমএফের পরামর্শে আরও যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—সুদের হার নির্ধারণে করিডোর সিস্টেম গ্রহণ, আইএমএফের বিপিএম-৬ সংজ্ঞা অনুসারে রিজার্ভের প্রতিবেদন প্রকাশ ও মুদ্রার বাজার-নির্ধারিত বিনিময় হার প্রবর্তন করা। ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কর্মপরিকল্পনা শেষ করার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন প্রকাশের কথা ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

সময়ভিত্তিক শর্ত পালনের অগ্রগতি দেখতে গত ৪ অক্টোবর আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি মিশন ঢাকায় আসে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বৈঠক করে এ মিশন। মিশনটি আসে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের আগে প্রথম পর্যালোচনা বৈঠক করতে।

বৈঠক শেষে আইএমএফের দল দেখতে পায় যে রিজার্ভ এবং রাজস্ব আয় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ।

ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হকও জানিয়েছিলেন—সরকার গত জুনের জন্য ৬টি শর্ত পূরণ করেছে। কিন্তু দুটি শর্ত পূরণ করতে পারেনি। বাংলাদেশকে দ্বিতীয় কিস্তির ঋণ ছাড় দেওয়ার আগে তিনি জানিয়েছিলেন—বেশ কিছু বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন থাকলেও দুটি বিষয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। সেগুলো হচ্ছে— নির্ধারিত রিজার্ভ সংরক্ষণ ও নির্ধারিত হারে ট্যাক্স রেভিনিউ অর্জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকগুলো থেকে ১.০৪ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। তবে আগের অর্থবছরে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার পরিমাণটা খুবই সীমিত ছিল।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ ব্যাংক ডলার সংকটে রয়েছে। তারপরও আইএমএফের শর্তানুযায়ী রিজার্ভ সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আইএমএফের শর্তানুযায়ী নিট রিজার্ভ বাড়াতে পেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিট রিজার্ভ হিসাব করার সময়ে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বকেয়া বিলসহ এক বছরের কম সময় মেয়াদের দায়গুলো বাদ দেয় আইএমএফ। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব করা গ্রস রিজার্ভ ও আইএমএফের কাছে দেওয়া নিট রিজার্ভের হিসাবে পার্থক্য থেকে যায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম কাজ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখনও ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করে, আবার কখনও ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনে।

ডলার সংকটের মধ্যেও কীভাবে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কিছু ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা আছে, কিন্তু ক্যাশ টাকার সংকট রয়েছে। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে পারে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাওনাও ডলারে মেটাতে পারে।’

গত ২৬ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংক থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ও অন্য তফসিলি ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার মিলি মোট ৩০০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করে চলেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬২ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫৮ ডলার বিক্রি করা হয় আমদানি বিল পরিশোধের জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর