• মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কিছু নেতিবাচক দিক জেনে নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
ছবি: বিবিসি বাংলা।

লবণ সাধারণত খাবারের স্বাদ বর্ধক হিসেবেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একই সাথে খাবার সংরক্ষণেও এর ব্যবহার রয়েছে। কারণ লবণ থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে না। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। কারণ লবণের একটি উপাদান হচ্ছে সোডিয়াম। যেটি অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় সব মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করে থাকে। পূর্ণ বয়স্ক একজন মানুষ দিনে প্রায় ৪৩১০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণ করে। যা ডাব্লিউএইচও নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

তবে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণত প্রাকৃতিক কিছু খাবার যেমন দুধ, মাংস এবং খোলসযুক্ত মাছ যেমন চিংড়ি, ঝিনুক ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। তবে প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম থাকে।

লবণ খাওয়ার পরিমাণ বয়স ভেদে ভিন্ন। এনএইচএস এর তথ্য অনুযায়ী, ১১ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়স্করা দিনে সর্বোচ্চ ৬ গ্রাম, ৭-১০ বছর বয়সীরা ৫ গ্রাম, ৪-৬ বছর বয়সীরা ৩গ্রাম, ১-৩ বছর বয়সীরা ২গ্রাম এবং এক বছরের কম বয়সীরা দিনে এক গ্রামের কম লবণ খেতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, শিশুদের লবণ খাওয়া ঠিক নয় কারণ তাদের কিডনি পুনর্গঠিত থাকে না বিধায় তারা লবণ হজম ও শোষণ করতে পারে না।

পুষ্টিবিদরা বলছেন- একজন মানুষের প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। প্রতিদিনের খাবার যেমন তরকারি থেকে এই পরিমাণ লবণ মানুষ খুব স্বাভাবিক ভাবেই পেয়ে থাকে। এর বাইরে প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ার কারণে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অতিরিক্ত সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ে। এছাড়া হৃদরোগ, গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার, স্থূলতা, অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়, মেনিয়ার ডিজিজ নামে এক ধরনের কানের রোগ, এবং কিডনি রোগ দেখা দিতে পারে।

কিছু পরামর্শের কথা বলে। এগুলো হচ্ছে-

১. প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া বাদ দিন। এর পরিবর্তে সতেজ খাবার খান। ২. লবণ খাওয়া কমাতে চাইলে প্রথমে খাবার টেবিল থেকে লবণ সরিয়ে ফেলুন। ৩. লবণের পরিবর্তে খাবারে ফ্লেভার বাড়াতে বিভিন্ন মশলা ব্যবহার করতে পারেন। যেমন কালো গোলমরিচ, রসুন, মরিচ বা লেবুর রস। ৪. রান্না ও খাওয়ার সময় কতটুকু লবণ ব্যবহার করবেন তার একটি সীমা ঠিক করুন। লবণ দেয়ার আগে খাবারটি একটু টেস্ট করুন বা স্বাদ নিয়ে দেখুন, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী লবণ ব্যবহার করুন।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ফলমূল, শাকসবজি বেশি করে থাকতে হবে। বিশেষ করে সাইট্রাস ফ্রুট বা টক জাতীয় খাবারে পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। এ ধরনের খাবার হার্টের রোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর