• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

পুলিশ কনস্টেবল শামীম হত্যা, রিজভীসহ ৭ জনের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৩

রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকায় পুলিশবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেছেন আদালত। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন আনোয়ার হোসেন টিপু, আব্দুস সাত্তার, রফিক আকন্দ, আলফাজ ইলিয়াস ওরফে আব্বাস, শাহ আলম মজিদ। এদের মধ্যে আসামি আনোয়ার হোসেন টিপু পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রিজভীসহ অন্যান্যরা আদালতে হাজির ছিলেন। তারা আদালতের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক বিলকিস আক্তার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেন।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের টানা ১২তম দিনের অবরোধ চলাকালীন রাত পৌনে ৯টার দিকে মৎস্য ভবন এলাকায় ৩০/৪০ জন পুলিশ সদস্যবাহী একটি বাসে দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় কনস্টেবল শামীম, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, কনস্টেবল শিপন, মোরশেদ, বদিয়ারসহ পুলিশের ১৩ সদস্য আহত হন। পরে কনস্টেবল শামীম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

ওই ঘটনার পর মোহাম্মাদ হোসেন, আব্দুস সত্তর, মো. রফিক আকন্দ ও আলফাজ ওরফে আব্বাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। স্বীকারোক্তিতে তারা হাবিবুন নবী খান সোহলের নির্দেশে এই পেট্রলবোমা হামলা চালায় বলে উল্লেখ করেন।

ওই বছর ১৯ মে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির এসআই দিপক কুমার দাস মামলাটিতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিবুন নবী খান সোহল, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মাদ হোসেন, আবদুস সাত্তার, রফিক আকন্দ, আলফাস ওরফে আব্বাস ও মো. শাহ আলমকে অভিযুক্ত করা হয়।

আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার (মরহুম), রহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, আব্দুল আওয়াল মিন্টু, আজিজুল বারী হেলাল, রুহুল কবির তালুকদার দুলু, বরকতউল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, আব্দুস সালাম ও মীর শরাফাত আলী সফুসহ ৩১ জনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।

পরে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজির ভিত্তিতে মামলা পুনঃতদন্তে যায়। পুনঃতদন্তে রিজভীকেও অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আসামি আনোয়ার হোসেন টিপু ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য এবং আসামি মোহাম্মদ হোসেন নিউমার্কেট থানার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হওয়ার জন্য এবং আসামি সাত্তার নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার জন্য ২০ দলীয় জোটের অবরোধ বেগবান করার উদ্দেশ্যে দলের হাইকমান্ডের কাছে অবস্থান সুসংহত করতে বিভিন্ন প্রকার নাশকতার পরিকল্পনা করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় তাদের কর্মসূচির মধ্যে নাশকতা সৃষ্টি করে পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর আক্রমণ করে গাড়ি পোড়ানোসহ বিভিন্ন প্রকার সহিংসতা আরম্ভ করেন। যার ফলে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামি হোসেন, সাত্তার, রফিক ও আলফাজ- চারজন শাহবাগে একত্রিত হয়। সেখানে চা পান করে তারা শিশুপার্কের দিকে হাঁটতে থাকেন।

পার্কের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পর আসামি হোসেন ও সাত্তার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের দিকে হাঁটতে থাকেন। তাদের দেখে আসামি রফিক ও আল আমিন একই দিকে হাঁটতে থাকেন। রমনা পার্কের রমনা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বসে পরিকল্পনা করে সাত্তার সেখানে টিপুকে আসতে বলেন। আলোচনার সময় টিপু ও শাহ আলম মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন।

তখন শপিংব্যাগ নিয়ে টিপু বসেছিলেন এবং শাহ আলম মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। আসামি মোটরসাইকেল থেকে নেমে তাদের চারজনের সঙ্গে কথা বলার ৫/১০ মিনিট পর খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের নুরুজ্জামান জনি সেখানে আসেন। তারপর আলফাজ ও শাহ আলমকে বাইরে রেখে অপর পাঁচজন আলোচনা করেন। গাড়ি পোড়ানো ও বিস্ফোরণে কাজের ব্যবহারের জন্য আসামি হোসেনকে বোমা সরবরাহ করতে বললে তিনি রাজি হন।

আলোচনার পর আসামি টিপু ব্যাগ থেকে বোমা বের করে রফিকের কাছে দেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশের গাড়ি আসলে আসামি সাত্তার সংকেত দেন। আসামি টিপু, নুরুজ্জামান ও রফিককে সিগন্যাল দিলে প্রথমে টিপু পরপর দুটি পেট্রলবোমা পুলিশের গাড়ির সামনের গেটের ভেতরে মারেন এবং রফিক ৩/৪টি ককটেল বোমা গাড়িতে মারেন। এর পর তারা পালিয়ে যান।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর