• রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ১১:২০ অপরাহ্ন
Notice
We are Updating Our Website

আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শান্তর সেঞ্চুরি, জয়ের হাফসেঞ্চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১৪ জুন, ২০২৩
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শান্তর সেঞ্চুরি, জয়ের হাফসেঞ্চুরি
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শান্তর সেঞ্চুরি, জয়ের হাফসেঞ্চুরি

শুরু থেকে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি তুলে নিলেন মাত্র ১১৮ বলে।প্রথম সেশনে নাজমুল হোসেন শান্তর পর দ্বিতীয় সেশনে ফিফটি তুলে নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়ও। জয় ১০২ বলে ৭ চারে পূর্ণ করেন ফিফটি। ১১২ বলে ৬০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন তিনি।এদিকে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে আছেন শান্ত। সেঞ্চুরি থেকে তিনি মাত্র ১ রান দূরে। দ্বিতীয় উইকেটে এ জুটি ইতোমধ্যে ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছে।

শুরুতে অভিষিক্ত নিজাত মাসুদ নিজের প্রথম বলে জাকির হাসানের উইকেট নিয়ে বোলিং তোপের আভাস দিয়েছিলেন। আফগানদের এটাই শুরু এটাই শেষ। নাজমুল হাসান শান্ত ক্রিজে এসে আক্রমণাত্বক খেলা খেলতে থাকেন। সঙ্গী মাহমুদুল হাসান জয় ছিলেন রক্ষণাত্বক। দুজনে শতরানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে প্রথম সেশন পার করে দেন। মধ্যাহ্ন বিরতির আগের জয় কিছুটা মেরে খেলার চেষ্টা করেন। শান্ত মাত্র ৫৮ বলে ফিফটি করেন। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান। শান্ত ৭৬ বলে ৬৪ ও জয় ৭০ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত আছেন। দুজনের জুটি থেকে আসে ১১০ রান। এই সেশনের ২৪ ওভারে বাউন্ডারি এসেছে ১৭টি। শান্ত হাঁকান ১১টি ও জয় হাঁকান ৬টি।

মাত্র ৫৮ বলে শান্ত টেস্টের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। জহির খানের শট বলে সুইপ করে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে শান্ত বল পাঠিয়ে দেন বাউন্ডারির বাইরে। ক্রিজে এসে শুরু থেকে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতে থাকা শান্ত পেয়ে যান ফিফটির দেখা। তার ফিফটির ইনিংসে চারের মার ছিল ১০টি। একই ওভারে জহির খানকে দুটি চার হাঁকান জয়। পরের ওভারে আমির হামজাকে চার হাঁকিয়ে ২০.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর তিন অঙ্কের ঘরে নিয়ে যান শান্ত। পূর্ণ হয় শান্ত-জয়ের শতরানের জুটির। ১২৬ বলে দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রান যোগ করেন।

জহির খানের ফুল বল ক্রিজ স্পর্শ কর‍তেই ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে সোজাসুজি ব্যাট চালান নাজমুল হোসেন শান্ত। মাটি গড়িয়ে বল সরাসরি বাউন্ডারিতে। তাতে ৮৯ বলে দ্বিতীয় উইকেটে ফিফটির জুটি পার করেন শান্ত-জয়। পরের বলে আবার একইভাবে চার হাঁকান এই বাঁহাতি ওপেনার। একপ্রান্তে শান্ত আক্রমণাত্ব খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত শান্তর রান ৫৩ বলে ৪২ অন্য দিকে জয়ের রান ৪৪ বলে ১১।

দলীয় ৬ রানে জাকিরা হাসান আউট হলে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গী হন নাজমুল হোসেন শান্ত। একপ্রান্তে দেয়াল হয়ে খেলছেন জয়, অন্যদিকে শান্ত খেলছেন কিছুটা আক্রমণাত্বক। ক্রিজে এসে শান্ত দ্বিতীয় ওভারে ইয়ামিনকে হাঁকান টানা দুই চার। তিনি স্ট্রাইক রোটেট করে খেলার চেষ্টা করছেন। দুজনের ২৭ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছে বাংলাদেশ।

নিজাত মাসুদের লেন্থ বল বেরিয়ে যাচ্ছিল। সোজা ব্যাটে ব্লক করতে চেয়েছিলেন জাকির হাসান। কিন্তু ভাগ্য ভালো ছিল না অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানো জাকিরের। খোঁচা লেগে যায় উইকেটের পেছনে। জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। আফগানিস্তান রিভিউ নেয়, তাতে আসে সাফল্য। ১ রানে ফিরলেন জাকির। ২২তম বোলার হিসেবে অভিষেক টেস্টের প্রথম বলে উইকেট নিলেন মাসুদ। ক্রিজে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্ত।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। বুধবার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় খেলাটি শুরু হবে। এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১২তম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে পথচলা শুরু হলো লিটন দাসের। তবে প্রথম ম্যাচে টসভাগ্য তার পক্ষে ছিল না। সবুজ উইকেটের সুবিধা লাগাতে আফগানিস্তান ফিল্ডিং নিয়েছে। লিটনও জানিয়েছেন টস জিতলে ফিল্ডিংয়ই নিতেন তিনি।

বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার দুই স্পিনার নিয়ে। তামিম ইকবাল ছিটকে যাওয়ায় ওপেনিং করবেন জাকির হাসান-মাহমুদুল হাসান জয়। একাদশে এসেছে তিন পরিবর্তন। তামিমের মতো ইনজুরির কারণে এই টেস্ট খেলছেন না সাকিব। বাদ পড়েছেন খালেদ আহমেদ। একাদশে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ, জাকির হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়।

একাদশে যারা, মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিমুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও শরিফুল ইসলাম।

৫ জন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটার নিয়ে টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। তাদের মধ্যে দুজনের অভিষেক হচ্ছে। প্রথমবারের মতো সাদাপোশাকে খেলবেন নিজাতুল্লাহ মাসুদ-করিম জানাত।

একাদশে যারা রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহিদী, ইব্রাহিম জাদরান,আব্দুল মালিক, নাসির জামাল, আফসার খান জাজাই, করিম জানাত, জহির খান, আমির হামজা, নিজাতুল্লাহ মাসুদ ও মোহাম্মদ ইয়ামিন।

দুই দলের সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল চার বছর আগে। লম্বা সময় পর সাদা বলের ক্রিকেটে খেলতে নেমে স্বাগতিকরা অতিথিদের একটু চমকেই দিয়েছে। হোম সিরিজ মানেই বাংলাদেশের স্পিন ট্র‌্যাক। কিন্তু এবার সবুজ ঘাসের উইকেট বানিয়েছে বাংলাদেশ। যা রীতিমত বিস্ময়কর।

আফগানদের টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম জয় এসেছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১৯ সালে। চার বছর পর চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে উড়িয়ে বিজয়ের কেতন উড়ায় রশিদ খানরা। সেই সুখস্মৃতি এখনো তরতাজা আফগানদের হৃদয়ে। সেই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন অতিথিরা।

হাশমতউল্লাহ শহীদি বলেছিলেন, ‘এটা (চট্টগ্রাম টেস্ট) আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। আমরা এখানে একটি মাত্রই টেস্ট খেলেছি এবং সেটা জিতেছি। যেটা আমাদেরকে প্রবলভাবে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। আমরা সেখান থেকেই শুরু করতে চাই। আমাদের লক্ষ‌্য থাকবে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা এবং শেষ ম‌্যাচ থেকে আত্মবিশ্বাস নেওয়া।’


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর