নিউজিল্যান্ডে টাইগারদের দুর্ভাগ্য মোচনের মিশন

নিউজিল্যান্ডে টাইগারদের দুর্ভাগ্য মোচনের মিশন

টি-টোয়েন্টিতে বড্ড দুর্বল বাংলাদেশ দল। এই সংস্করণকে এখনো ঠিকমতো রপ্তই করতে পারেনি তারা। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বলার মতো কোনো সাফল্য নেই টাইগারদের। দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়া। সেখানকার কন্ডিশনে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের কঠিন পরীক্ষায় দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন অনেকটা একই রকম। বিশ্বকাপের আগে তাই নিউজিল্যান্ড যাচ্ছে দল। সেখানে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেবেন সাকিবরা।

অবশ্য বাংলাদেশ দল ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার কাজটা শুরু করে দিয়েছে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সংস্করণে মরুর দেশে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ খেলেছে। সেখানে সাফল্য নেই তাদের। আফগানিস্তান ও শ্রীলংকার কাছে হেরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এর পর মিরপুরে শ্রীরাম তিন দিনের (১২-১৪ সেপ্টেম্বর) বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলেন। সেটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর ক্রিকেটারদের বায়না মেটাতে দুবাইতে অনুশীলন ক্যাম্প ও দুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করেছিল বিসিবি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ২-০ তে জিতেছে। তবে জয়টা সহজ ছিল না। কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। আমিরাত সিরিজ শেষে দেশে ফেরা বাংলাদেশ দলের সামনে এবার নিউজিল্যান্ড মিশন। সেখানেই স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেই নিজেদের শানিয়ে নেবেন সাকিবরা। আগামীকালই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন টাইগাররা।

আগামী ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ১৪ অক্টোবর আসরের ফাইনাল। ত্রিদেশীয় সিরিজের সব ম্যাচই ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে টাইগাররা যাবেন বিশ^কাপের আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়ায়। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই। তার আগে বিশ্বকাপের দুটি অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেবে বাংলাদেশ। আগামী ১৭ অক্টোবর আফগানিস্তান ও ১৯ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে টাইগারদের। সাকিবরা ম্যাচ দুটি খেলবেন অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে। আগামী ১৬ অক্টোবর শ্রীলংকা ও নামিবিয়া ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মূলপর্বের লড়াই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘২’- এ থাকা বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে ২৪ অক্টোবর। হোবার্ট, সিডনি, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডে ম্যাচ খেলবেন সাকিবরা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেছেন নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া সাকিব। তিনি দলের সঙ্গে আমিরাত যাননি; খেলেননি সিরিজও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে ব্যস্ত আছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তিনি দলের সঙ্গে সরাসরি নিউজিল্যান্ডে যোগ দেবেন। সাকিব জানিয়েছেন, এই সংস্করণে দল কতটা উন্নতি করেছে তা বোঝা যাবে বিশ^কাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স দেখে। বিসিবিও এ সংস্করণে দলের কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা করছে। এ জন্য ক্রিকেটারদের প্রস্তুতির জন্য সব ধরনের চেষ্টাই করেছে। সাকিবকে অধিনায়ক করা হয়েছে; শ্রীরামকে টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দিলেও বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনিই টি-টোয়েন্টি দলের ‘হেড কোচ’।

এ ছাড়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য মিরপুরে বিসিবি একাডেমি মাঠে দুটি কংক্রিটের উইকেট বানিয়েছে। যদিও সেখানে খেলোয়াড়রা খুব একটা অনুশীলন করেননি। এ ছাড়া আমিরাত সিরিজ ও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার ব্যবস্থা করেছে। দুবাই থেকে গতকাল দেশে ফেরার পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান বলেন, ‘শেষ কিছু দিন ধরে আমরা ক্লোজ কিছু ম্যাচ হারছিলাম। এটি ভালো অভ্যাস আমরা জয়ের ধারায় ফিরেছি। এ আত্মবিশ্বাস নিউজিল্যান্ড এবং বিশ্বকাপে কাজে দেবে।’ মেহেদী মিরাজ বলেন, ‘আমরা যেখানে অনুশীলন করেছি, সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি তা অনেক ভালো ছিল। আমরা যে ম্যাচ দুটি খেলেছি, বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে প্রত্যেকটা প্লেয়ারের জন্য আত্মবিশ্বাস হিসেবে কাজ করবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − twelve =