চোখ উঠলে যেসব খাবার খাবেন

চোখ ওঠার সমস্যা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। এই সমস্যার কারণে চোখ লাল হয়ে যাওয়াসহ ব্যথা ও খচখচে ভাব থাকে। চোখ দিয়ে অনবরত পানিও পড়তে থাকে। এটি হতে পারে ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার কারণে। অপরিষ্কার জীবনযাপনই এর জন্য দায়ী। কনজাঙ্কটিভার রক্তনালিগুলো প্রদাহের কারণে ফুলে বড় হয়ে যায়। যে কারণে বেড়ে যায় রক্তপ্রবাহ। ফলে চোখ ওঠা সমস্যা দেখা দেয়।

চোখ ওঠার লক্ষণ

* ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ আঠালো লাগা

* চোখের ভেতর কিছু একটা পড়েছে এমন অনুভূতি

* চোখ চুলকানো এবং জ্বালাপোড়া

* আলোর দিকে তাকালে অস্বস্তি

* সবকিছু ঘোলা দেখা

* চোখ দিয়ে পানি পড়া

* চোখের কোণে ময়লা জমা

* চোখ ফুলে যাওয়া।

চোখ ওঠার সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে পারলে সবচেয়ে ভালো। তবে শুধু ওষুধ নয়, সেরে ওঠার জন্য কিছু খাবারও খেতে হবে। আমাদের পরিচিত কিছু খাবার আছে যেগুলো চোখ ওঠাসহ চোখের নানা সমস্যায় উপকারী। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক চোখ ওঠা সমস্যায় কোন খাবারগুলো উপকারী-

বিট লবণ

চোখ ভালো রাখতে বিশেষভাবে কাজ করে এই লবণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিট লবণ চোখের জন্য ভালো। এই লবণে আছে এমন কিছু উপাদান যা চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে কাজ করে। তাই চোখ ওঠার সমস্যা দেখা দিলে খাবারে বিট লবণ যোগ করতে পারেন। তবে তা অতিরিক্ত খাবেন না। কারণ অতিরিক্ত লবণ খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

​ত্রিফলা

ত্রিফলা মানে তিন ফল। আমলকী, হরীতকী ও বহেরা থাকে এতে। এই ত্রিফলা নানা রোগ দূরে রাখতে কার্যকরী। চোখ ওঠাসহ চোখের আরও অনেক সমস্যা দূর করতে কাজ করে এটি। এর সঙ্গে সম পরিমাণ মধু ও ঘি মিশিয়ে খাবেন। তবে ত্রিফলা চূর্ণ করে বেশিদিন রেখে খাবেন না।

​আমলকী

মুখের স্বাদ বাড়ানো থেকে শুরু করে আরও অনেক কাজে লাগে আমলকী। এই ফলে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি। চোখ ওঠা থেকে শুরু করে রেটিনার কোষ ঠিক করে দিতে পারে এই ফল। তাই শুধু চোখ ওঠা সমস্যায়ই নয়, নিয়মিত খান আমলকী। এতে সব সময়ই উপকারিতা পাবেন।

​মধু ও ঘি

মধু কিংবা ঘিয়ের স্বাদ পছন্দ করেন না এমন মানুষ কমই আছে। এই দুই খাবারই চোখের জন্য ভীষণ উপকারী। চোখ ওঠা সমস্যায় এই দুই খাবার দ্রুত কাজ করে। মধুতে থাকে প্রয়োজনীয় অনেক ভিটামিন ও মিনারেল যা চোখকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। সেইসঙ্গে ঘি খেলেও উপকার মেলে দ্রুত।

​কিশমিশ

কিশমিশে থাকে পর্যাপ্ত পলিফেনলস। নিয়মিত কিশমিশ খেলে তা শরীর থেকে ফ্রি র্যাডিকেলস দূর করে। সেইসঙ্গে এটি চোখের মাসলের উন্নতিতেও সাহায্য করে। চোখ ভালো রাখতে চাইলে তাই নিয়মিত কিশমিশ খেতে হবে। রাতে কিশমিশ ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি খেলেও উপকার পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 6 =