সময়ের মধ্যে বিল না দিলে তেল পাবে না বিমান

সময়ের মধ্যে বিল না দিলে তেল পাবে না বিমান

‘আকাশে শান্তির নীড়’- এ স্লোগান নিয়ে সেই ১৯৭২ সাল থেকে উড়ে বেড়াচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এবার যেন সেই ডানা কাটা পড়ার উপক্রম! কেননা নিয়মিত বিল পরিশোধ না করলে আর জ্বালানি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেল বিতরণ কোম্পানি পদ্মা অয়েল।

এ ছাড়া আগের বকেয়া বিল ২ হাজার ৮৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা তো পড়ে রয়েছেই। বারবার কথা দিয়েও সেই বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় বিমানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে জ্বালানি বিভাগ। সম্প্রতি এক বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিমানকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মা অয়েলের পাওনা ২ হাজার ১০৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। আর সেই বকেয়া আদায়ে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ নানা প্রচেষ্টায় বিমানের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও ব্যর্থ হয়েছে। বারবার কথা দিয়েও সেই বিল পরিশোধ করছে না বিমান। পরে জ্বালানি বিভাগের উদ্যোগে তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পূর্বের বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি বিমান চলতি তেলের বিলও পরিশোধ করবে।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানি জানায়, পূর্বের বকেয়া বিল থেকে বিমান এখন পর্যন্ত কেবল ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। এ ছাড়া রানিং বিলগুলোও ঠিকমতো পরিশোধ করছে না। তাই সর্বশেষ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিমানের বকেয়া আদায়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানেও বিমান কর্তৃপক্ষ বকেয়া এবং চলতি বিল পরিশোধের আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরে আর কথা রাখেনি।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠক অনুযায়ী পূর্বের বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি নিয়মিত নেওয়া জ্বালানির বিল প্রতিমাসে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিমান পূর্বের বকেয়া তো পরিশোধ করছেই না, ঠিকমতো চলতি মাসের বিলও দিচ্ছে না। যদিও কয়েক মাস ধরে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান জানিয়ে আসছিলেন যে, বিমান নিয়মিত বিল পরিশোধ করছে।

কিন্তু গত এপ্রিলের বৈঠকে পদ্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুপস্থিতিতে কোম্পানিটির জিএম (এইচআর) জ্বালানি বিভাগকে বলেন- বিমান তার বকেয়া পরিশোধ করছে না, এমনকি প্রতিমাসে নেওয়া তেলের বিলও আংশিক দিচ্ছে। এর ফলে নতুন করে বিশাল পরিমাণ বকেয়া টাকা জমে যাচ্ছে। এমন তথ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেন। সেই সঙ্গে নিয়মিত বিল পরিশোধ না করলে বিমানে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষকে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে বিমানকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি বৈঠকে নেওয়া মন্ত্রণায়ের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করার জন্যও বলেন।

জ্বালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন খাতে অনেক টাকা বকেয়া পড়ে আছে। সব খাতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি, এলপিজিসহ সব ধরনের জ্বালানির সংকট চলছে। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে আমদানি করতে হচ্ছে; অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন খাতে সরবরাহকৃত জ্বালানির বিল আদায় না হওয়ায় চরম সংকটের দিকে যাচ্ছে জ্বালানির বিভাগ। তাই সংকট উত্তরণে সব ধরনের বকেয়া বিল আদায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

eight + five =