• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

এই নির্যাতনের শেষ কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১
এই নির্যাতনের শেষ কোথায়

সোনিয়া আক্তারঃ একজন মানুষ অন্য একজন মানুষকে কেন খুব বাজে ভাবে মানসিক নির্যাতন করে অথবা কিভাবে এমনটা করতে পারে? অথবা এতে তারা কি মজা পান?

আমাদের সমাজে অনেকেই এই নির্যাতনের স্বীকার। তবে যারা এই নির্যাতন করেন তারা কেন করেন সেটা হয়তোবা আমরা কেও জানিনা বা বুঝি না। যে কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে আত্মহত্যার মত জঘন্য ঘটনা। একটি আন্তর্জাতিক সাইক্রিয়াট্রি জার্নাল এ বলা হয়েছে, ছয় মাসের একটি গবেষণার ফলাফলে জানা গিয়েছে ছয় মাসের ব্যবধানে মোট ২১১ টি আত্মহত্যা মামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে ৬% ব্যক্তি ৩০ বছরের নিচে, ৫৮% মহিলা, ২৪% শিক্ষার্থী এবং ১৭% গৃহকর্মী। এদের সবাই মানসিক নির্যাতনের স্বীকার।

এখন প্রশ্ন হল কারা করেন এবং কেন করেন এই মানসিক নির্যাতন। উত্তর, অবমাননাকর ও বিষাক্ত মানসিকতার লোকজন। হ্যা, এই বিষাক্ত মন-মানসিকতার মানুষগুলোই এই ধরনের জঘন্য কাজগুলো কর থাকে।

*কিছু মানুষের নিজের জীবনে নির্যাতনের এমন কিছু ঘটনা থাকে যেগুলোর কোন বিচার তারা পায়নি। অন্যের উপর নির্যাতন করে তারা নিজের সাথে হওয়া অবিচারের একটা কাল্পনিক বিচার খুঁজে।

*অনেক সময় মানুষের শৈশবে ভালোবাসা, আদর, মায়া না পাওয়ায় তাদের মধ্যে একটা পাশবিক মাইন্ডসেট কাজ করে যেটার কারণে তারা কোন রকম অপরাধ ছাড়াই মানুষের উপর চড়াও হয়।

*মানুষের নিজস্ব আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার একটা স্বভাব থাকে। অন্যের উপর তার ক্ষমতা বা পাওয়ার খাটিয়ে নিজেকে সে আলফা করার চেষ্টা করে।

*মানুষ নিজে অনেক নিপীড়িত হলে এবং সেই ক্ষোভ-রাগ অন্য কোথায় প্রকাশ করার সুযোগ না থাকলে সে তার অধিনস্ত কেউ যেমন, স্বামী/স্ত্রী কিংবা সন্তান বা মা-বাবা অথবা অনলাইনে কারও উপর আক্রমণ করে প্রকাশ করার চেষ্টা করে।

*ব্যক্তিগত রাগ আর ক্ষোভ থেকে নির্যাতন করার ব্যাপারটা বলাই বাহুল্য।

*অন্য মানুষকে নিজের সম্পত্তি ভাবা শুরু করলে অনেকে যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার করে নিজের অধিকার চর্চার করার চেষ্টা করে। অনেকেই নিজের কর্মীদের কিংবা স্ত্রী স্বামীকে অথব স্বামী স্ত্রিকে নিজের সম্পত্তি ভেবে অহেতুক নির্যাতন করেন।

*মানুষের হাতে ক্ষমতা থাকলে সে অনেক সময় কোন কারণ ছাড়া সেটা অপব্যবহার করে। মানুষের আচরণ বা ব্যবহার বেশ আজব একটা জিনিস।

আমি খুবই অতিমাত্রার কিছু ব্যাখ্যা দিলাম। সাইকোলজি যারা জানেন তারা আরও ভালোভাবে ডিটেইলসসহ সবকিছু বলতে পারবেন। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের বিষাক্ত মানসিকতাকে বোঝার জন্য একটা বক্তৃতা আরম্ভ করা মাত্র। এগুলো আমার ব্যাক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং পাঠ্য বই থেকে গুছিয়ে বলা কথা মাত্র। তবে এ নির্যাতনের শেষ কোথায় কেউ বলতে পারবে না।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর