• মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

একুশে ফেব্রুয়ারি : পলাশের রঙ, ঝরাপাতা ও দ্রোহের ভাষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
একুশে ফেব্রুয়ারি : পলাশের রঙ, ঝরাপাতা ও দ্রোহের ভাষা

উৎপল দত্ত: কে জানে কী মন্ত্র আর জাদু আছে পলাশ গুচ্ছের মধ্যে! এই ফাগুনে এ দেশের মানুষ বার বার দ্রোহী হয়ে ওঠে।

বাঙালির জীবনে ফাল্গুনের উৎসবের রঙটি বাদ দিলে ধরা পড়ে আরেকটি রঙ। জেগে ওঠার রঙ- দ্রোহ।

ফাল্গুনের বাতাসে মন আলুথালু করার কপট ঝাপট আছে। মনে হয় একটু আগে ঠিক এখানে, খুব কাছেই একটা কিছু ছিল, এখন আর নেই। ঝরে গেছে।

পাতা ঝরার পর যখন পত্র-পল্লবে প্রকৃতি আবার হরিৎ হয়ে যায়। একটি চেনা-অচেনা অনন্ত হরিয়ালের মতো কপট বিষন্নতা তখন পালায়। মুখর হয়ে ওঠে প্রাণ।

ছোপছোপ লাল রঙের পলাশ, হলদে শাড়িতে নারী, বইমেলা, পঞ্চকবির পদাবলি, কবিতার পংক্তি, বাউলের প্রাণহরা অধ্যাত্ম সুর বসন্তকে ভরিয়ে দেয়। যদিও মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলি থেকে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত সাহিত্য আর সঙ্গীতে বসন্তের চেয়ে বর্ষা প্রভাব ও প্রাবল্য দুই দিক থেকেই বেশি।

ইতিহাস ফিরে আসে। ফিরে আসে পরিহাসের মতো। তখন তাকে বলি ‘আয়রনি অব হিস্টোরি’।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। আর ইতিহাস কথা কয়। ইতিহাসের পাতায় যার মহান ব্যক্তিত্ব, তারা এসব কথা বলে গেছেন। আমরা শুনিনি। বি-স্মরণের জাতি বলে আমাদের কিছুটা হলেও অখ্যাতি আছে। এই দুর্নাম ঘোচানো প্রয়োজন। আমাদের জাতির জন্য, সংস্কৃতি আর আত্মপরিচয় সংরক্ষণের জন্য।

মাত্র কয়েক দশক আগে জহির রায়হান লিখেছিলেন ‘আরেক ফাল্গুন’। রঙ, উত্তাপ আর মুখর ধ্বনিপুঞ্জ নিয়ে ফিরে এলো আরেক ফাল্গুন। আমাদের অতীত বিস্মৃতি আর জাতির জন্য প্রয়োজনীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অসম্পূর্ণতা নিয়ে আমরা দ্বিধগ্রস্থ এবং ব্যাধিগ্রস্থ। রুগ্ন কোষ-কলার মতো আমাদের সারাদেহে ছড়িয়ে পড়েছে তা। দায়মোচনের অঙ্গীকার নিয়ে এলো এই ফাল্গুন।

সিকান্‌দার আবু জাফর লিখেছিলেন, জনতার সংগ্রাম চলবেই। নিরন্ন, নিরক্ষর আর নিরন্তর খেটে খাওয়া মানুষ যখন নিজভূমে পরবাসী হয়ে যায়, তার পরিচয় খুঁজে পায় না, তখন সে পথে নেমে আসে। সোচ্চার হয় তার ন্যূনতম অধিকার আর আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে।

বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে তাই ঘটেছিল।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর