• বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর ‘আমার মানুষ’ ও কন্সপিরেন্সি থিয়োরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
বঙ্গবন্ধুর ‘আমার মানুষ’ ও কন্সপিরেন্সি থিয়োরি

উৎপল দত্ত: চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের প্রবণতা একালের নয়। নতুনও নয়। অনেক পুরনো। স্মরণাতীত ইতিহাসে এর নজির আছে। একটা থিয়োরি বা মতবাদ-সূত্রের মতোই তাকে বিবেচনা ও গ্রহণ ও প্রয়োগ করা হয় – কন্সপিরেন্সি থিয়োরি। এই কন্সপিরেন্সি থিয়োরি ষড়যন্ত্র প্রশমন ও প্রতিরোধের জন্য কার্যকর।

কূটকৌশল বা ষড়যন্ত্রের প্রবণতা একই সাথে উদ্দেশ্যমূলক, সংগঠিত এবং বিভ্রান্তিকর। ষড়যন্ত্র আবেগ ও প্রবৃত্তি নির্ভর প্রবণতা। ব্যক্তিচরিত্র ও সমাজের মধ্যেই এই প্রবণতার উপাদান আছে। কল্পনা, অতিকল্পনা, বাস্তব, অতিবাস্তব, যৌক্তিক, অযৌাক্তিক উপাদানকে অবলম্বন করে এই প্রবণতা অগ্রসর হয়।

দোষারোপ, নিন্দা, অপপ্রচার প্রায় সব জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যায়। অপপ্রচার খুব দ্রুত ছড়ায়। সত্য উদ্ঘাটনের আগেই দুর্ঘটনা ঘটায়। দুর্ঘটনা এড়াতে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে ষড়যন্ত্রজালের মধ্য থেকে সত্যকে উন্মোচন করা জরুরি।

আধুনিককালে মানুষ ও সমাজের এই প্রবণতাকে কন্সপিরেন্সি থিয়োরি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। চক্রান্তমূলক প্রচারণা কী ভাবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে ও দ্রুত প্রচার পায় এবং সাময়িক সময়ের জন্য হলেও তা বিশ্বাসযোগ্যতা পায় তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এর কারণ বিচিত্র ও বহুমুখী।

একটি প্রধান কারণ, যুক্তির চেয়েও প্রবৃত্তি-নির্ভর বিষয়গুলি মানুষকে আকৃষ্ট করে বেশি। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে সত্য বেরিয়ে আসে। বিপর্যয় এড়ানোর জন্য কন্সপিরেন্সি থিয়োরি কার্যকর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বহুবার পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রকারীদের অপকৌশল ধরতে পেরেছিলেন।

নিজের স্বভাবজাত স্বতঃস্ফূর্ত মেধা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে প্রয়োগ করে জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পেরেছিলেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানার অর্থ কী, অনেক আগেই তিনি তা বুঝতে পেরেছিলেন।

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। রাজনৈতিক গীতিকবিতার সাথেও তুলনা করা হয়। ২৫ মার্চ, ১৯৭১ এর রাত থেকে যা ঘটবে এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কী করতে হবে তার সবকিছুই বঙ্গবন্ধুর ভাষণে সুস্পষ্ট ছিলো। তার ‘প্রেডিকশন’ বা পূর্বাভাস পেয়ে মানুষ প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলো রক্তপাতের জন্য। যুদ্ধের জন্য। মুক্ত ও স্বাধীন হওয়ার জন্য।

সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য যিনি ষড়যন্ত্রের জাল উদঘাটন করে দিয়েছিলেন, স্বাধীন দেশে তাকেই ষড়যন্ত্রের মুখে প্রাণ দিতে হয়। জাতির পিতা নিহত হওয়ার মূল্য আজও দিতে হচ্ছে স্বাধীন দেশকে। তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রের জাল ছিড়ে ছিড়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, গণতন্ত্রকে সংহত করা, শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দেশকে প্রতিষ্ঠিত করা তার লক্ষ্য।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আল জাজিরার মিথ্যা, ভিত্তিহীন, রাষ্ট্র ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকা দেশবাসীরও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষদের বলতেন ‘আমার মানুষ’। এতোটা ভালোবেসেছিলেন তিনি তার মানুষকে, ঘাতক বুলেটের কথা তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। তার স্বপ্নের বাংলাদেশকে তিলে তিলে গড়ছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে তার কণ্ঠে উচ্চারিত ‘আমার মানুষ’ যেন জেগে থাকে।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর