• বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা ভাসানচরে, সেনা অভ্যুত্থান মিয়ানমারে (পর্ব ২)

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
রোহিঙ্গা-ভাসানচরে-সেনা-অভ্যুত্থান-মিয়ানমারে-পর্ব-০২-দৈনিক-এইদিন-700x375

উৎপল দত্ত: বাংলাদেশ উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে, উন্নয়নের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে। সারাবিশ্ব অবাক হয়ে দেখছে তা।

ঝড়-জল, বন্যাা-খরা উপেক্ষা করে বাংলদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘসহ সারাবিশ্ব দেখেছে ও শুনেছে, কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

সম্প্রতি ভাসানচরে রোহিঙ্গা পাঠানো নিয়ে সরব হয়েছে অনেকে। অথচ এই সময়ই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার আবাসন প্রকল্প সফল করেছেন। গৃহহীনদের ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অর্থহীন সমালোচনা যতোটা হয়েছে, সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার উপায় নিয়ে ততোটা হয়নি। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি, সহিষ্ণুতা দেখিয়েছেন, তাড়িয়ে দেয়নি। ভাসানচরে হলেও আশ্রয় দিয়েছে, তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের কথা বলেছেন। রোহিঙ্গাদের দায় কেউ নেয়নি, নিচ্ছে না। জনসংখ্যা বহুল একটি দেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের চাপ বাংলাদেশ কী করে সামলে উঠবে!

তবু সংকট মোকাবেলাার চেষ্টা করছে সরকার। সহিষ্ণুতার সাথেই জাতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি অনুসরণ করে পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ঠিক তখনই মায়ানমারে সেনাশাসন, জরুরী অবস্থা ঘোষণা।

ঘটনা এখন কোন দিকে গড়াবে! এই মুহুর্তে দুই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কারো মতে, রোহিঙ্গা সমস্যাা সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে গেল। অন্যাপক্ষ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাদের মতে পরিবর্তিত পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের মাায়ানমারে ফেরত পাঠানোর পক্ষে নতুন পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে সচেতন নাগরিকদের কপালে প্রশ্নের ভাঁজ – মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কী তাদের ভাবমূর্তি পুনুরুদ্ধার করার জন্য রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে নাকি নতুন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে পারে যা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য করবে?

পৃথিবীর ইতিহাসে বিপর্যয়কর অতিমারির কালে সেই স্বপ্ন দেখা যায় কী! বাংলাদেশের সমাজে ‘ঘোলাজলে মাছ স্বীকার’ বলে একটি কথা আছে। করোনা সারাবিশ্বের জল ঘোলা করে দিয়েছে। এই ঘোলা জলে কে কোথায় মাছ শিকার করছে বা করবে তা কে জানে?

তবে বাংলাদেশ নিজের দেশে উদ্ভট উটের পিঠ থেকে নেমে এখন সম্মান নিয়ে উন্নয়নের সড়কে সটান হাঁটছে। অন্যের চাপানো উদ্ভট উটের পিঠে ওঠার ইচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের নেই। সরকারও তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশি ও বন্ধু দেশে উল্লেখ করে মিয়ানমারে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চেয়েছে।

স্থিতিশীল পরিবেশে রোহিঙ্গাদের স্বতঃপ্রণোদিত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়। রোহিঙ্গা সমস্যাা নিয়ে ভাসানচরে বাংলাদেশ চিরকাল ভাসবে, এমন মনে করারও কোন কারণ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর