• বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

ঈগল সম্পর্কে ৩০টি আকর্ষণীয় তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
ঈগল সম্পর্কে ৩০টি আকর্ষণীয় তথ্য

ঈগল সম্পর্কে মানুষের অনেক আগ্রহ কাজ করে। আবার ঈগলের শিকার ধরা সরাসরি দেখা মানুষের জন্য এক বিরল মুহুর্ত। তবে এই পাখি সম্পর্কে আপনি আসলে কতটা জানেন?

আজ দৈনিক এইদিনের পাঠকেদের কাছে ঈগল সম্পর্কে ৩০টি আকর্ষণীয় তথ্য তুকে ধরার চেষ্টা করছি, যা আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে সহায়তা করবে।

১. পৃথিবীতে ৬০ টিরও বেশি প্রজাতির ঈগল রয়েছে যাদের বেশিরভাগ আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপে পাওয়া যায়!

২. বাড ঈগল আমেরিকার জাতীয় প্রতীক তবে এই জাতের ঈগলের মাত্র দুইটা প্রজাতি পৃথিবীতে টিকে রয়েছে!

৩. পাখি প্রজাতির মধ্যে ইগল সবচেয়ে শক্তিশালী যারা পায়ে করে ভারি বোঝা বহন করতে সক্ষম। এ পর্যন্ত ঈগলের ১৫ পাউন্ড (৬.৮ কেজি) শিকার পায়ে করে নেয়ার রেকর্ড রয়েছে!

৪. পরিবেশের উপর ঈগলের ডানা ও ওজনের বৃদ্ধি নির্ভর করে। যেসব ইগল বনাঞ্চলে থাকে তাদের ডানা ছোট ও ওজন কম হয় আবার যেসব ঈগল বনাঞ্চল বাদে মুক্ত পরিবেশে বসবাস করে তাদের ডানা ও ওজন বেশি হয়!

৫. দেখতে সুবিশাল ডানা সম্বলিত শক্তিশালী পূর্ণবয়স্ক একটি পুরুষ ঈগলের ওজন হয় মাত্র নয় পাউন্ড (৪.১ কেজি)!

৬. ৩.৫ ফিট (১.১ মিটার) উচ্চতা ও ৭.৫ ফিট (২.৩ মিটার) ডানা সম্বলিত বাড ঈগল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম পাখিদের মধ্যে অন্যতম!

৭. বাড ঈগলের চেহারা ও বর্ণ অন্য ইগল প্রজাতির চেয়ে আলাদা, এদের মাথার রঙ হয় সাদা আর শরীরের বাকী অংশের রঙ থাকে বাদামী!

৮. আকেরিকার মুদ্রায় যে বাড ঈগলের ছবি ব্যবহার হয়েছে সেই ঈগলটির বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে। এই ঈগলটির নাম ছিল পিটার, এটি আমেরিকার ফিন্যান্সিয়াল মিনেস্ট্রির ছাঁদে বাসা বানিয়ে বসবাস করতো। ১৮৩৬ সালে ঈগলটির মৃত্যুর পর আমেরিকান ফিন্যান্সিয়াল মিনেস্ট্রির স্টাফ হিসেবে তার স্বীকৃতি মিলে এবং এখনো পর্যন্ত তার বাসাটি সংরক্ষণ করে দর্শনার্থীদের মাঝে প্রদর্শণ করা হয়!

৯. বেশ কিছু দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঈগলদের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া নেদারল্যান্ডে শত্রুপক্ষের ড্রোণ নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঈগল ব্যবহার করা হয়!

১০. ধারণা করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম ইগল নিউজিল্যান্ডে বাস করতো, এদের ডানাগুলি ৯.৮ ফুট (৩ মিটার) প্রশস্ত ছিলো!

১১. স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় একটি গাছে কয়েকটি ঈগল ভারি বাসা বানানোর কারণে গাছটি ভেঙে পড়ে!

১২. বাড ঈগলেরা আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় সঙ্গীর সাথে মিলিত হয়!

১৩. ঈগলের নখরে কেরাটিন থাকে, একারণে মানুষের চুল ও নখের মত ঈগলের নখ বাড়তে থাকে। নখ বেশি বড় হলে পাথর বা গাছে নখ ঘসে ঈগলেরা বাড়তি নখ ভেঙে ফেলে!

১৪. বিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমেরিকায় স্যামন মাছ শিল্পের জন্য হুমকি মনে করে প্রায় ১ লাখ বাড ঈগল হত্যা করা হয়েছিলো!

১৫. সুপ্রাচীন কাল থেকে ঈগল সব পাখিদের রাজা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে!

১৬. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঈগলকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়, একারণে নানান দেশের পতাকায় সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ঈগলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে!

১৭. একটি মা ঈগল সাধারণত দুটি ডিম দেয়, যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশু ঈগলগুলির মধ্যে যে বাচ্চাটি শক্তিশালী সে দুর্বলটিকে হত্যা করে খেয়ে ফেলে!

১৮. ঈগল অন্য সব প্রাণীর মধ্যে সতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য বহন করে, যেমন এর নখর প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং এদের চোখের দৃষ্টিশক্তি খুবই প্রখর। এই চোখের সাহার্য্যে অনেক দূরের শিকার এরা দেখতে পারে এবং এদের নখর শিকারের জন্য প্রচণ্ড নির্মম হয়ে থাকে!

১৯. একটি শিশু ঈগল পূর্ণবয়স্ক ও শিকার ধরার মত সক্ষম হতে বেশ কয়েকবছর সময় লাগে!

২০. সাধারনত একটি ঈগল ৭০ বছর অবধি বেঁচে থাকতে পারে, তবে সব ঈগলের ক্ষেত্রে এমন হয় না, কারণ একটি বিশেষ সময় পর এদের নখ ও ঠোঠ শিকার ধরার কার্যক্ষমতা হারায়। এ সময় পাথর বা শক্ত ডালের সাথে প্রচণ্ড শক্তি দিয়ে দুর্বল নখ ও ঠোঠ ভেঙে নতুন করে গজিয়ে নিতে না পারলে এরা ৫০ বছরের বেশি বাঁচতে পারে না!

২১. ঈগল তাদের চোখ অক্ষিকোঠরের মধ্যে জিরো ডিগ্রিতে ঘোরাতে পারে, একারণে এরা নিজ মাথার অর্ধাংশ দেখতে পারে। এ ক্ষমতা তাদের শিকারকে খুবই ভালভাবে দেখতে সহায়তা করে!

২২. ঈগল সাধারণত আজীবন এক সঙ্গীর সাথে বসবাস করে এবং একই স্থানে বাসা বানায়। একারণে ঈগলদের ‘ক্রিয়েচার অফ হ্যাবিট’ বলা হয়!

২৩. মা ঈগল ডিম দেয়ার পর টানা প্রায় ৩৫ দিন ডিমে তা দেয়, এ সময় পুরুষ ঈগলটি খাদ্য সরবরাহের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করে!

২৪. প্রজাতি ভেদে ঈগলের খাদ্যাভাস ভিন্ন হয়ে থাকে। কিছু ঈগল শুধুমাত্র মাছ শিকার করে খায়, কিছু ঈগল নিজ প্রজাতিদের শিকার করে খায় আবার কিছু প্রজাতি অন্য প্রাণীদের শিকার করে খায়!

২৫. সাধারণত চার বছর বয়স পর্যন্ত ঈগলের পালক থাকে ধূসর বর্ণের, এরপর আস্তে আস্তে বাদামি ও সাদা রঙের পালক জন্মে!

২৬. ১৯৬৭ সালে গাড ঈগল প্রজাতি অতি বিপন্নের কাতারে পড়েছিলো, তখন সারা পৃথিবীতে এই প্রজাতির মাত্র ৫০০ ঈগল অবশিষ্ট ছিলো। এর ৫০ বছর পর ২০০৭ সালে অতি বিপন্ন তালিকা থেকে এদের বাদ দিয়ে সুরক্ষিত ক্যাটাগরিতে এদের রাখা হয়!

২৭. পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ও বিরল প্রজাতির ঈগল হচ্ছে সার্পেন্ট ঈগল, এদেরকে দক্ষিন নিকোবারে পাওয়া যায়। এদের ওজন মাত্র এক পাউন্ড (০.৪৫ কেজি), তবে ঈগল প্রজাতির মধ্যে এরা সবচেয়ে দ্রুতগামী।

২৮. বৃহত্তম প্রজাতির বাচ্চা ঈগলের ওজন অল্পদিনের মধ্যে ৮-৯ পাউন্ড (৩.৫-৪ কেজি) হয়ে যায়!

২৯. একটি মার্শাল প্রজাতির ঈগল একটি ৮২ পাউন্ড (৩৭ কেজি) ওজনের হরিণ শিকার করেছিলো, যেখানে ওই প্রজাতির ঈগলের গড় ওজন হয় মাত্র ১০-১২ পাউন্ড!

৩০. উত্তর আমেরিকা জুড়ে ঈগলের পালকের উচ্চ চাহিদার কারণে অবৈধভাবে প্রচুর ঈগল শিকার করা হয়!


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর