• রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
Notice
We are Updating Our Website

ভাস্কর্য নিয়ে সরকারের দুই পক্ষের খেলা হচ্ছে: বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০
ভাস্কর্য নিয়ে সরকারের দুই পক্ষের খেলা হচ্ছে: বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে এখন ভাস্কর্য ও মূর্তি ইস্যুতে চলছে চরম উত্তেজনা৷ এরইমধ্যে রাতের আঁধারে দুর্বত্তরা কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙেছে৷ ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে৷ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় দুই মাদ্রাসা ছাত্র ও দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ৷

কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো এই ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চুপ রয়েছে৷ এ নিয়ে তাদের দলীয় অবস্থান এখনো পরিস্কার নয়৷

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির মহাসচিব স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্য দিলেও ‘ষড়যন্ত্রের’ জন্য সরকারকেই দায়ী করেছেন৷ তবে ভাস্কর্য ভাঙ্গার পক্ষে বিপক্ষে কোন কথা বলেননি৷

অথচ হেফাজত এখন শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, জিয়াউর রহমানসহ আরো যাদের ভাস্কর্যসহ আছে সব ভেঙে ফেলা দাবি জানিয়েছে৷ শনিবার হেফাজতের ডাকে কওমি আলেমদের বৈঠকে ভাস্কর্য বিরোধী অবস্থানকেই আবারো তুলে ধরা হয়েছে৷

২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবিতে অবস্থান নিয়েছিল৷ তখন বিএনপি তাদের সমর্থন দিয়েছিল৷ সেই সমাবেশ থেকে ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড ও তাণ্ডব ঘটানো হয়৷

কিন্তু এবার বিএনপি হেফাজতের সমর্থন বা বিরোধিতা কোনোটাই করছে না৷ বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি এটাকে সরকারের ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখছে৷ কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের সাথে তার ‘বি টিমের খেলা’ চলছে৷ আবার কেউ মনে করছেন, দেশের গণতান্ত্রিক সংকটকে আড়াল করার জন্যই একটি ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে৷

বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন,‘‘সরকার দেশে এক ধরনের ‘কন্ট্রোলড ভায়োলেন্স’ টিকিয়ে রাখছে৷ তারা অ্যামেরিকাসহ বিশ্বকে এটা করে জানাতে চাইছে যে গণতন্ত্র নিয়ে পরে চিন্তা করা যাবে৷ আগে উগ্রবাদ থামাতে হবে৷”

আর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘‘দেশে গণতন্ত্র নাই৷ মানুষের ভোটাধিকার নাই৷ করোনায় মানুষের চাকরি নাই, কাজ নাই, খাবার নাই৷ মানুষ সংকটে আছে৷ আমাদের কাছে এগুলোই বড় সমস্যা৷ এইসব সমস্যার সমাধান হলে অপ্রয়োজনীয় ইস্যু থাকবেনা৷”

তার মতে, মূল সমস্যাকে আড়াল করার জন্য আনাকাঙ্খিত বিষয়গুলোকে সামনে আনা হচ্ছে৷‘‘যেখানে গণতন্ত্র থাকেনা, স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থাকে সেখানে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সামনে আসে,” বলেন তিনি৷

২০১৩ সালে শপলা চত্বরে হেফাজতকে সমর্থন দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘তারা তখন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন৷ বাংলাদেশের যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করি৷”

রুমিন ফারাহানা বলেন, ‘‘পুরো খেলাটাই হচ্ছে সরকারের৷ আগে আওয়ামী লীগ ছিলো মধ্যবাম৷ এখন মধ্যডানে পরিণত হয়েছে৷ এখন খেলাটা হচ্ছে সরকারে এ পার্টি বনাম বি পার্টি৷ তাদের এখন এমন একটা চূড়ান্ত ডান প্রতিপক্ষ দরকার যার মাধ্যমে তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে দেশে মোটামুটি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই৷ সে কারণেই আবার হেফাজতের উত্থান ঘটানো হয়েছে৷”

তিনি বলেন, ‘‘এই সরকার আগে হেফাজতকে সব সুবিধা দিয়েছে৷ তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে৷ কিছু দিন আগে তারা হেফাজতের দাবি মেনে ভাস্কর্য সরিয়েছে৷ পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন এনেছে৷ দাওরা হাদিসকে সর্বোচ্চ ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়েছে৷ তিনি কওমি মা হয়েছেন৷ আওয়ামী লীগের নেতারা শফী হুজুরের দোয়া নিয়েছেন৷ এখন হঠাৎ করে কী হলো? তাদের দুই পক্ষেরই বা এত হাকডাক কেন?”

তিনি দাবি করেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতকে সমর্থন দেয়নি বিএনপি৷ বিএনপির কোনো নেতা তাদের মঞ্চে যায়নি৷ বরং সরকার হেফাজতের দাবি মেনে নিয়েছিল৷ তাদের আন্দোলন সফল হয়েছিল৷ তিনি বলেন, ‘‘আজকে হেফাজতের এই উত্থানের জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ৷”

সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা

 


আপনার মতামত লিখুন :
এ জাতীয় আরও খবর