শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৮ শা'বান ১৪৪১

Beta Version
সর্বশেষ:
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন ৫ এপ্রিল তথ্য গোপন করে এই মহামারী এড়ানো যাবে না: রিজভী বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ ছাড়িয়ে, প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৪৮ হাজার করোনা সর্তকতায় আজ থেকে কঠোর অবস্থানে সেনাবাহিনী ঘর থেকে তুলে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা ঢাকা ছাড়লেন ৩২৭ জাপানি বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ সাধারণ ছুটিতে ব্যাংকে লেনদেনের সময় বাড়ল করোনায় মৃত ব্যক্তির থেকে ভাইরাস ছড়ায় না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি উপজেলা থেকে করোনার অন্তত দুজনের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে আরও দুজন করোনা রোগী শনাক্ত ,২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা যাননি কেউ: এমআইএস
১০৯৭

২৫ মার্চ রাতে মেঝেতে বিছানা করে শুতে হয়েছিলো গোলাগুলির ভয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৯  

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন : একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষক, মহসিন হল-এর সহকারী আবাসিক শিক্ষক। মহসিন হল-এ আমার ছোট একটি বাসা ছিলো। মহসিন হলে রাত সাড়ে দশটার একটু পরে খেতে বসেছি যখন তখন প্রথমে গোলাগুলির শব্দ পেলাম। গোলাগুলির শব্দটি ক্রমেই বাড়তে থাকলো। খাওয়াটা কোনোরকমে শেষ করেছি। সারারাত গোলাগুলি, ঘুম হলো না। মেঝেতে বিছানা করে শুতে হলো গোলাগুলির ভয়ে।

রাত আড়াইটার দিকে মহসিন হল-এর পাশ দিয়ে মাইকে কিছু প্রচার হলো, যা বুঝলাম সারাদিন সান্ধ্য আইন জারি থাকবে, ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। পরদিনও সারাদিন গোলাগুলি চললো। কোথায় হচ্ছে এই গোলাগুলি তখন বুঝিনি। পরে জেনেছি যে, ইপিআরের সদর দপ্তর পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গোলাগুলি হয়েছে। দুপুরের দিকে নয়া বাজারের দিক থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কু-লী উড়তে দেখলাম। পরে শুনেছি নয়া বাজারের কাঠের আরত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে দুপুর বেলায় আমার বাসার জানালা দিয়ে রেললাইনের দিকে তাকিয়েছিলাম, আজকের কাঁটাবনের রাস্তাটি ছিলো রেললাইন, দুই দ্বারে বস্তি। আমি দেখলাম, একজন তরুণ, যার বয়স ২৪ বা ২৫ বছর হবে। তাকে সেনাবাহিনীর লোক ধাক্কা দিতে দিতে রেললাইনে ফেলে দিলো। ছেলেটি হাত জোর করে কিছু বলছিলো, ঠিক ওই মুহূতেই বেয়নট চার্জ করা হলো তার বুকের ওপরে। 

দৃশ্যটি ছিলো খুবই হৃদয়বিদারক। এমন দৃশ্য আমি জীবনেও দেখিনি। মাথাটা ঘুরে যাচ্ছিলো, বসে পড়ি। এভাবে ২৬ তারিখ কাটল উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়। ২৭ তারিখ সকালে ২ ঘন্টা সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার করা হয়েছিলো। আমি পথে বের হয়েছিলাম কিছু বাজার করে আনব। কিন্তু যখন মহসিন হল-এর মাঠের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম, কিছু মানুষ জটলা করে আছে। গিয়ে দেখি প্রায় ৬টি মৃতদেহ পড়ে আছে। রাতে গরিব মানুষেরা… বারান্দায় ঘুমাত, তাদের ওপর গুলি করা হয়েছে। ওখানে শুনলাম ইকবাল হল-এর… এখানে ওখানে ছড়িয়ে আছে ছাত্রদের লাশ। শুনলাম, ড. মনিরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছে। আর জগন্নাথ হল-এ অসংখ্য ছাত্রকে হত্যা করে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। কারও হাত, কারও পা বের হয়ে আছে। এসব শোনা ও দেখার পর আর আমার বাজার করা হয়নি। আমি আমার মহসিন হল-এ ফিরে আসি।

পরিচিতি : ইতিহাসবিদ

   এই দিন