এই দিন

মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৫ ১৪২৭   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Beta Version
   এই দিন
সর্বশেষ:
আগাম আট সপ্তাহের জামিন পেলেন এমপি নিক্সন চৌধুরীর ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিচার শুরু দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনেও উত্তাল নর্থ সাউথ ক্যাম্পাস সম্রাটের জামিন নামঞ্জুর যুক্তরাষ্ট্রে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প,সুনামির সতর্কতা সারা দেশে মধ্যরাত থেকে নৌ-ধর্মঘট রাজধানীর পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ
২০১০৯

স্কুল বিক্রি করে দেয়া সেই অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়ালেন তৌহিদ হোসেন

মাহফুজ উদ্দিন খান

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০  

‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এখন কী করবো বলেন? মানুষ সন্তানের লাশ ফেলে দেয় না? এখন আমাকে ওটাই মনে করতে হবে - আমার সন্তান মারা গেছে, আমাকে এটা ফেলে রেখেই চলে যেতে হবে।’

স্কুল বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলতে গিয়ে এভাবেই নিজের মনের কথা বিবিসির কাছে তুলে ধরেছিলেন ফুলকুড়ি স্কুলের পরিচালক তাকবীর আহমেদ। লকডাউনের কারণে আয় না থাকায় এবং ব্যয় ভার বহন করতে না পারায় স্কুল বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এই অধ্যক্ষের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলা অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) এর সাধারণ সম্পাদক ও ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ হোসেন।

ফিফোটেকের এই কর্ণধার পরের দিন ফুলকুড়ি স্কুলের পরিচালক তাকবীর আহমেদ এর সাথে দেখা করে তাঁর স্কুলের বকেয়া ভাড়া পরিশোধের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন। এছাড়াও ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত স্কুলের সার্বিক দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সময়মত শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা হবে বলেও জানান। তাঁর এই সহযোগিতা পেয়ে স্কুলের পরিচালক ও অধ্যক্ষ তাকবীর আহমেদ ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ তাকবীর আহমেদ আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমরা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছি। স্কুলটি আমার সন্তানের মতো। করোনার এই সময়ে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা নিজেরাই অনেক কষ্টে আছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছিলাম না। স্কুল ভবনের ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছিলাম।তাই স্কুলটি বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু এমন সময় ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ হোসেন আমার পাশে দাঁড়ালেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই।

এদিকে ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ হোসেন বলেন, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমি চেষ্টা করেছি ১৭ বছরের একটি স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। আজ থেকে ১৭ বছর আগে জীবনের কঠিন লড়াইয়ে নেমেছিলেন অধ্যক্ষ তাকবীর আহমেদ। একটা মানুষের ১৭ বছরের কষ্ট করোনাভাইরাসের কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে না। তাকবীর ভাইকে কথা দিয়েছি, স্কুলটা বন্ধ হবে না। আগামী ৬ মাসের জন্য স্কুলের দায়িত্ব নিয়েছি।

স্কুলের কার্যক্রম চালুর বিষয়ে তৌহিদ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে বাচ্চাদের পড়ালেখা শুরু হবে। যেহেতু এখানে ছাত্রছাত্রীরা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান, তাদের পক্ষে অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব না। তাই আমরা নতুন একটা পরিকল্পনা করেছি, শিক্ষকরা সাপ্তাহিক একদিন বাচ্চাদের বাসায় গিয়ে তাদেরকে পড়ালেখা করাবে। তাহলে তারা লেখাপড়ার সাথে সংযোগ থাকতে পারবে। গত চার মাস তারা একদমই পড়ালেখার সাথে যুক্ত ছিল না। আল্লাহ চাহেতো আগামী সপ্তাহ থেকে স্কুলের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।

টেকনো বিডি এর চেয়ারম্যান শাহ্‌ ইমরাউল কায়ীশ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল্লাহ এইচ কাফি মানসিক এবং আর্থিকভাবে স্কুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফিফোটেকের কর্ণধার তৌহিদ হোসেন।
 

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর