এই দিন

বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭   ১৩ সফর ১৪৪২

Beta Version
   এই দিন
সর্বশেষ:
থেরাপির জন্য মিরপুরের সিআরপিতে ইউএনও ওয়াহিদা বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ কারাগারে একমাত্র নারী বন্দি মিন্নি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি মনোযোগী হতে হবে আজ ‘পানি ভবন’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন রিফাত হত্যা মামলার রায়, মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি এমসি কলেজে গণধর্ষণ: পাঁচদিনের রিমান্ডে মাসুম আদালতে আসামিরা, রায় কিছুক্ষণ পর বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১০ লাখ ১২ হাজার আজ রিফাত হত্যার রায়,আদালত প্রাঙ্গনে কঠোর নিরাপত্তা
১২৩

সমস্যাটা কোথায়, বোরখায় না বাঙালিয়ানায়?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: ডেইলি স্টার

ছবি: ডেইলি স্টার

পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত শিশু ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলছেন বোরখা পরিহিত মা। রাজধানী পল্টন ময়দানে শুক্রবার মা-ছেলের ক্রিকেট খেলার এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনায় মুখর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। অনেকেই ছবিটিতে খুঁজে পেয়েছেন মা-ছেলের অসাধারণ বন্ধন। বাধা অতিক্রম করেই নারীর এগিয়ে যাওয়ার গল্পও খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। কিন্তু এর বিপরীত চিত্রও আছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, বোরখা পরা মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি। এই ছবিকে আবহমান কালের বাঙালিয়ানার অন্তরায় হিসেবেও অভিহিত করেছেন অনেকে। কেউ কেউ এই ছবিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, বাংলাদেশ কী তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে রুপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

এই ছবিটি নিয়ে এবার মন্তব্য করেছেন বিখ্যাত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। যারা বোরখা পরাকে নারী স্বাধীনতার অন্তরায় হিসেবে তুলে ধরছেন তাদের একহাত নিয়েছেন ফারুকী। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—আসল সমস্যাটা কোথায়? বোরখায় না আবহমান কালের বাঙালিয়ানায়?

দৈনিক এই দিনের পাঠকদের জন্য ফারুকীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো —

“আসল সমস্যাটা কোথায় ? বোরখায় না আবহমান কালের বাঙালীয়ানায়? এবার প্রশ্ন “আবহমান কালের বাঙালীয়ানা” কোনটা? ব্যাপারটা কি এমন যেটা এতো কাল ধরে সাধারণভাবে বাংলাদেশে চলে আসছে? তো বাংলাদেশে তো একসময় কালচার ছিলো মেয়েরা সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে যাবে না! মেয়েদের পনেরো বছর হইলে বিয়ে দিয়ে স্বামীর ঘরে পাঠাইয়া দিতে হবে! মেয়েরা চাকরী করতে পারবে না! তারও আগে ছিলো সতীদাহ প্রথা! আমরাতো সেইসব কালচাররে ঝাড়ু পিটা কইরা তাড়াইয়া দিছি! নাকি? তার মানে আবহমান কালের বাঙালীয়ানাটা ধইরা না রাখলেও আমাদের মধ্যবিত্ত কালচারাল পুলিশদের সমস্যা নাই! সমস্যা কি তাইলে বোরখায়? কারন এটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসছে? তো আমরা কি বাইরের কিছু নিবো না? তাইলে তো সালওয়ার কামিজ, প্যান্ট-শার্ট, শর্ট এগুলাও আমাদের বাতিল করতে হয়! নাকি? এক সময় এই বাকোয়াজ পাহারাদারগুলা রক-পপ মিউজিকরে অপসংস্কৃতি বইলা চুঙ্গা ফুঁকাইছিলো দিনের পর দিন! আবহমান শুনলেই তাই আমি চশমার ফাঁক দিয়া একটু ভালো কইরা তাকাইয়া দেখি! 
আমার অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে কোনটাতেই সমস্যা নাই! বোরখাতেও নাই, বিকিনিতেও নাই! যতক্ষণ পর্যন্ত জবরদস্তি না হচ্ছে! 

আগেও বলছি, যে হুজুর ফতোয়া দেয় নারী প্যান্ট-টি শার্ট পরতে পারবে না, হেন করতে পারবে না, তেন করতে পারবে না, তার সাথে আমাদের কিছু লিবারেলদের খুব পার্থক্য পাই না, যখন তাদের বোরখা নিয়া ফতোয়া শুনি! তখন আমার ইনাদেরকে একেকজন সেক্যুলার আমির হামজা মনে হয়! 

আমাদের পরের প্রজন্ম এইসব পেটি এবং ফালতু জ্ঞানালাপ থেকে আশা করি দুরে থাকবে! তাদের মন চাইলে শর্ট পইরা ঘুরবে, মন চাইলে আপাদমস্তক ঢাইকা ঘুরবে!! তার গা ঢাকা বা খোলা রাখার কারনে তাকে আমরা আলাদা করে জাজ করবো না, বৈষম্য করবো না- এইটুকু আলো আমাদের দাও গো সাঁই!”
 

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর