এই দিন

বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭   ১৩ সফর ১৪৪২

Beta Version
   এই দিন
সর্বশেষ:
থেরাপির জন্য মিরপুরের সিআরপিতে ইউএনও ওয়াহিদা বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ কারাগারে একমাত্র নারী বন্দি মিন্নি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি মনোযোগী হতে হবে আজ ‘পানি ভবন’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন রিফাত হত্যা মামলার রায়, মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি এমসি কলেজে গণধর্ষণ: পাঁচদিনের রিমান্ডে মাসুম আদালতে আসামিরা, রায় কিছুক্ষণ পর বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১০ লাখ ১২ হাজার আজ রিফাত হত্যার রায়,আদালত প্রাঙ্গনে কঠোর নিরাপত্তা
৮৯

শ্রীমঙ্গলে বেগুনি রঙের ধানক্ষেত দেখতে ভিড়

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

দিগন্তজোড়া সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে এক খণ্ড বেগুনি রঙের জমি। দূর থেকে চোখ পড়লে মনে হয় সবুজের মাঝে কেউ যেন লেপ্টে দিয়েছে বেগুনি রং। সবুজ ধান ক্ষেতের মধ্যে বেগুনি রঙের ক্ষেতটি দেখে মনে হতে পারে কোনো আগাছা বা বালাই আক্রান্ত ধানক্ষেতের দৃশ্য। কিন্তু এর কোনটিই সত্য নয়! এটি এমন এক ধানের জাত, যার পাতা ও কাণ্ডের রং বেগুনি। সাধারণ কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এই ধানের পরিচিতি বেগুনি রঙের রঙিন ধান। চিরাচরিত সবুজ ধান ক্ষেতের বদলে এক টুকরো জমিতে বেগুনি রঙের ধানের চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শ্রীমঙ্গলের  কৃষক মো. ছালেহ আহমদ।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রথমবারের মতো বেগুনি রঙের ধানের চারা রোপণ করেছেন তিনি। চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার আশীদ্রোন তিতপুর গ্রামে নিজের ৪৫ শতক জমিতে বেগুনি রঙের ধানের চারা রোপণ করেন ছালেহ আহমদ । দৃষ্টিনন্দন এই ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কৃষক ছালেহ আহমদ নিজ আগ্রহের বসে এই ধান চাষাবাদ করেছেন। ভিন্ন রঙের ধানক্ষেতটি সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারীদের দৃষ্টি কেড়েছে। এখন পর্যন্ত ধানক্ষেত ভালো অবস্থায় রয়েছে।

কৃষক ছালেহ আহমদ বলেন, মৌলভীবাজারের আমার মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকে বেগুনি রঙের পাঁচ কেজি ধানের বীজ সংগ্রহ করি। পরে বীজতলার মাধ্যমে প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে এই ধানের চারা রোপণ করি।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ধানক্ষেতের অবস্থা ভালো। দেশের অন্যান্য সাধারণ ধান গাছের মতোই এই জাতের ধানের চাষ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, তার আবাদ করা বেগুনি রঙের ধানক্ষেত দেখে আশপাশের কৃষকরাও এই ধান চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আমারও আশা যদি ধানের ফলন ভালো হয়, তবে আমি আগ্রহী কৃষকদের চাষাবাদ করতে এই ধানের বীজ দেব।

একই এলাকার কৃষক ছালিক মিয়া  বলেন, আমরা আগে পরে আর কখনো এই রঙের ধান গাছ দেখি নাই। দেখে মনে হচ্ছে এই জাতের ধানগাছ দেশীয় জাতের চেয়ে ফলন বেশি হবে।  ছালেহ ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যদি তার ধানের ফলন ভালো হয়, তবে ভবিষ্যতে আমাদেরও ইচ্ছে আছে আবাদ করার।

উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো.মাকুসুর রহমান বলেন, এই ধানের জাত শ্রীমঙ্গলে প্রথম আবাদ করা হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষককে সঠিক পরামর্শ দিচ্ছি এবং খোঁজ খবর নিচ্ছি।

এ বিষয়ে কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, বেগুনি রঙের এই ধানগাছ সাধারণ ধানগাছের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে। তা ছাড়া এই জাতের গাছে পোকা-মাকড়ও কম আক্রমণ করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষক ছালেহ আহমেদের বেগুনি রঙের ধানক্ষেতটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছি। ধানের ফলন কি রকম হবে তা জানতে ধান কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে এই ধানের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ের অবস্থা বিবেচনায় ধানটির জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ দিন এবং ফলন একরে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। যা আনুমানিক শতাংশে ২০ কেজি (৪ থেকে ৫ টন প্রতি হেক্টরে) হতে পারে। এই ধানের চাল হবে বেগুনি ও সুস্বাদু।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর