এই দিন

মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২৯ ১৪২৭   ২৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beta Version
   এই দিন
সর্বশেষ:
দেশের স্বাস্থ্যখাতে কোথাও কোন সিন্ডিকেট নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৩ এবছর সিপিজের অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শহিদুল আলম হাটে হাটে উঠেছে গরু, নেই ক্রেতা দুই সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু
২৭৯

লকডাউন করলে মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে আমি প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২০  

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বলেছেন, লকডাউন করলে মানুষের জীবন থেমে যাবে না।  সরকার যখনই লকডাউন করবে। আমাদের সিটি করপোরেশন থেকে চিঠি আসলে আমি অবশ্যই প্রস্তুত আছি মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এছাড়া কোনো বাজার প্রয়োজন হলে আমাদেরকে জানালে তার বাসায় বাজার পোঁছে দিবো। 

করোনাকালে এলাকার কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন হাসিবুর রহমান মানিক।

এই জনপ্রতিনিধি বলেন, করোনা যখন মার্চ মাস থেকে শুরু হয়, আমি ঘোষণা দিয়েছি যেহেতু আমি জনপ্রতিনিধি আমার এলাকায় সর্বোচ্চ সেবাগুলো যেন ওয়ার্ডবাসী পায়। আমি ঘোষণা দিয়ে দুটি মোবাইল নাম্বারে এসএমএস এর মাধ্যমে এই পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। ঈদের আগে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, লবণ, দুধ, চিনি, সেমাইসহ সব ধরণের খাবার দিয়েছি। সবাইকে এসএমএস এর মাধ্যে বাসায় বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছি। লাইন ধরে যাতে কারো খাবার না নিতে হয়। 

করোনাভাইরাস কারো সংস্পর্শ পেলে আরোও বেড়ে যায় জানিয়ে কাউন্সিলর মানিক বলেন, যখন তিনশ-চারশ লোক ছিলো তখনই কিন্তু বাংলাদেশে লকডাউন ছিলো। এখন প্রতিদিন ৩ হাজার/ ৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। আর এখন লকডাউনও নেই। মানুষের অসচেতনার কারণেই আক্রান্তের হার বেড়ে যাচ্ছে। তাই আমার ওয়ার্ডের জনগণ যেন সব সময় নিরাপদে থাকে তার জন্যে প্রথম থেকেই আমি মাইকিং থেকে শুরু করে সব ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছি। যাতে তারা ঘরে বসে সেবা পায়। 

২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এলাকাবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমি সবাইকে বলবো সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন সেভাবে মেনে চলুন। সব ধরণের সেবা আমি আপনাদের কাছে পৌঁছে দিবো। আমি জনপ্রতিনিধি। আমার দায়িত্ব আপনাদের সেবা দেওয়া। সেভাবেই আমি কাজ করে আসছি। সেই চিন্তা করেই প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে ১ মিনিটের সবজি বাজার পরিচালনা করে যাচ্ছি। সেই সবজি বাজারে আমি প্রায় ৪/৫টা আইটেম রাখি। 

তিনি বলেন, আশপাশের লোকজনও যাতে দূরত্ববজায় রেখে নিতে পারেন। এতে কোনো টাকা পয়সা লাগে না। শুধু মাত্র তার আইডি কার্ড বা যে বাসায় বসবাস করে সেখানের বিদ্যুৎ বিল হলেই ফ্রি সবজি নিতে পারেন। এলাকাবাসী যেন অনন্ত দূরত্ববজায় রেখে সবজি নিতে পারেন। 

এলাকাবাসীর পাশে থাকার কথা জানিয়ে কাউন্সিলর মানিক বলেন, এই মুহুর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কারণ আমি প্রতিনিয়ত মানুষের পাশে থাকতে চাই। যার কারণেই আমার এই উদ্যোগ। যতদিন করোনাকালীন সময় থাকবে ততদিন পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বুধবার এই সবজির বাজার চালাবো। আমি নিজ তহবিল থেকে এ বাজারটা করছি। 

এখনও পযর্ন্ত কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। 

আমি মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন তোমরা যেভাবে বাসায় বাসায় গিয়ে ভোট চেয়েছো, এসময় যাদের বাসায় খাবার দরকার তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দেও। আমি এমনটি করে যাচ্ছি। এই কাজে আমি পিছিয়ে নেই, আমার ত ভয় নাই বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মানিক।

নিজে করোনায় আক্রান্তের কথা জানিয়ে কাউন্সিলর মানিক বলেন, আমি নিজেও করোনা আক্রান্ত ছিলাম। এপ্রিলের ২৫ তারিখে আমি পজেটিভ। মে মাসের ১১ তারিখ নেগেটিভ হই। তারপরেও আমি কাজ করে গিয়েছি। কাউকে তখন বলিনি পজেটিভ। নইলে সবাই আতঙ্কগ্রস্থ থাকতো। এলাকাবাসী খাবার থেকে বঞ্চিত হতো। তখন আমি হাজার হাজার মানুষকে খাবার দিয়েছি। আল্লাহর রহমত আমার বউ-বাচ্চা পজেটিভ হয়নি। নেগেটিভ হয়েছে। আমি একমাত্র পজেটিভ ছিলাম। মানবসেবা করলে আল্লাহই রক্ষা করে। সেই সব চিন্তা করেই দূরত্ববজায় রেখে কাজগুলো করছি। এভাবেই আমি কাজ করে যাবো। এজন্য আমি মনে করি সবার সহযোগিতা একান্তকাম্য। 

এলাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি কোয়াটারগুলোতে যেমন জজ কোয়াটার, আজিমপুর কলোনীতে সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত হয়ে মারাও গিয়েছে। কিন্তু অন্যান্য জায়গায় আক্রান্তের সংখ্যা কম। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ডকে রেডজোন ঘোষণার বিষয়ে কাউন্সিলর মানিক বলেন, আমার ওয়ার্ড রেডজোন ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু লকডাউন এখনও করা হয়নি। কেন করা হয়নি তাও জানি না। আমাদের মধ্যে সমন্বয়ের কারণে এই ঘটনাগুলো ঘটছে। যদি রেডজোন ঘোষণা করার আগে আমাদের সাথে সমন্বয় করতো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনকে অভহিত করতো। কোনো নোটিশ করত। তাহলে কিন্তু আমরা পদক্ষেপ নিতে পারতাম। 

এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে জানতে চাইলে ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, ডেঙ্গুর জন্য আমরা সকালে লার্ভিসাইডিং বিকালে ফগার দিচ্ছি। ইতিমধ্যে এবছরের মাঠব্যাপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আমাদের মাননীয় মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আমরা ৮ টা থেকে লার্ভিসাইডিং দিচ্ছি ৪ ঘন্টা। অন্যদিকে আড়াইটা থেকে ৪ ঘণ্টা ফগার দিচ্ছি। এখন সবাই ঘরে থাকছে। ঘরে থেকে নিজের আঙিনাকে পরিস্কার রাখছে। আমরা সিটি করপোরেশন থেকে যত ধরণের সহযোগিতা করা দরকার করবো। আমরা ত আর কাউকে ঘরের ভিতরে গিয়ে মশার ওষুধ দিতে পারি না। তাই নিজের আঙিনায় যেন স্বচ্ছ জমাট পানি না থেকে সেদিকে আমরা সজাগ থাকবো। তাহলেই আমাদের ডেঙ্গু নিধন সম্ভব। না হলে সিটি করপোরেশন একার দ্বারা সম্ভব নয়। 

সচেতন নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। আরও সচেতন হয়ে আমাদের এদেশটাকে নিজের মনে করে পরিবার যেমন নিজের তেমনি দেশটিও নিজের মনে করে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা এই ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাবো ইনশাআল্লাহ বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর