এই দিন

বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭   ১৩ সফর ১৪৪২

Beta Version
   এই দিন
সর্বশেষ:
থেরাপির জন্য মিরপুরের সিআরপিতে ইউএনও ওয়াহিদা বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ কারাগারে একমাত্র নারী বন্দি মিন্নি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি মনোযোগী হতে হবে আজ ‘পানি ভবন’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন রিফাত হত্যা মামলার রায়, মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি এমসি কলেজে গণধর্ষণ: পাঁচদিনের রিমান্ডে মাসুম আদালতে আসামিরা, রায় কিছুক্ষণ পর বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১০ লাখ ১২ হাজার আজ রিফাত হত্যার রায়,আদালত প্রাঙ্গনে কঠোর নিরাপত্তা
৯৩

মায়ের লাশ আটকে ছেলেকে নির্যাতন চিকিৎসকদের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মারা যান মুক্তিযোদ্ধা ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা ইসাহাক আলীর স্ত্রী পারুল বেগম (৬৫)। অবহেলায় মায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদ করেন ছেলে শিক্ষা কর্মকর্তা রাকিবুল। এরপর একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক জোটবদ্ধ হয়ে রাকিবুলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মারধরের পর মা পারুল বেগমের লাশ আটকে রেখে ছেলেকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এ সময় ইন্টার্ন ডাক্তাররা হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করেন। এখানেই শেষ নয় পরে ছেলে রাকিবুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পাঁচ ঘন্টা পর মুচলেকা দিয়ে স্ত্রীর লাশ রামেক হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে আনেন মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী।

মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী অভিযোগে বলেন, তার স্ত্রী পারুল বেগম (৬৫) ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার ভোরের দিকে মাথায় প্রচণ্ড ব্যথায় প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

সকাল ৭টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে পৌনে ৮টার দিকে প্রথমে পারুল বেগমকে পাঠানো হয় ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে তখন কোন ডাক্তার ছিল না। রোগী বেশ কিছুক্ষণ মেঝেতেই পড়ে ছিলেন।

আধাঘন্টা পর পারুল বেগমকে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় পারুল বেগমের ছেলে রাকিবুল হক লিটন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন ডাক্তার শোভন সাহার কাছে গিয়ে তার মাকে দেখার জন্য অনুরোধ করেন।

শোভন সাহা বলে দেন তার ডিউটি শেষ। পরের ডাক্তার এসে দেখবেন। এরপর লিটন যান আরেক ইন্টার্ন ডাক্তার আব্দুর রহিমের কাছে।

সেও জানিয়ে দেয় যে এখন বের হবে। রোগী দেখতে পারবে না। এভাবেই কেটে যায় আধ ঘন্টা। শেষে কোন চিকিৎসা ছাড়াই পারুল বেগম মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগে বলেন, চিকিৎসা ছাড়াই মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ছেলে রাকিবুল ওয়ার্ডের ভেতরেই উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করছিলেন আর ডাক্তারদের অভিশাপ দিচ্ছিলেন। এসময় ইন্টার্ন ডাক্তার শোভন সাহা ও আব্দুর রহিমসহ আরও কয়েজন এসে তাকে গালাগাল দিয়ে ওয়ার্ড থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন।

রাকিবুলের সঙ্গে দুই ইন্টার্ন ডাক্তারের ধ্বস্তাধস্তি হয়। এরপরই এই দুই ইন্টার্ন অন্যদের ফোন করে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডেকে নেয়। পরে রাকিবুলকে আটক করে বেধড়ক মারধর চলে কিছুক্ষণ।

শেষে দুপুর সোয়া ১টার সময় মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর লাশ নিয়ে যান। তবে পুলিশ ডেকে পারুল বেগমের ছেলে রাকিবুলকে রাজপাড়া থানার ওসির কাছে হস্তান্তর করে ইন্টার্নরা।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজপাড়া থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ইন্টার্নি ডাক্তাররা ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের সব ওয়ার্ডে চিকিৎসা বন্ধ করে বসে ছিল। খবর পেয়ে আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে রামেক হাসপাতাল ইন্টারর্ন চিকিৎসক পরিষদের নেতা মিজান বলেন, পারুল বেগমের ছেলে রাকিবুলের হামলায় ইন্টার্ন ডাক্তার শোভন ও রহিম আহত হয়েছে। তাদের জখমের ধরণ কেমন জানতে চাইলে ইন্টার্ন নেতা মিজান বলেন, কিছুটা আহত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর