এই দিন

বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

Beta Version
সর্বশেষ:
জুন থেকে গার্মেন্টস শ্রমিক ছাটাই শুরু হবে: রুবানা হক মানুষকে সুরক্ষিত করতে প্রাণপণে চেষ্টা করছি: প্রধানমন্ত্রী জামালপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক করোনায় আক্রান্ত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে শনাক্ত আড়াই হাজার, মৃত্যু ৩৫ জনের বাংলামোটরে বিহঙ্গ বাসের ধাক্কায় নিহত ২
৮৭০

মশার আক্রমণে যেভাবে পতন হয়েছিল নমরুদের

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০১৯  

কালে কালে প্রত্যেক নবী-রাসূলগণকে তাওহীদের বাণী প্রচার করতে গিয়ে কঠিন সব পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। লাঞ্চিত ও নির্যাতিত হতে হয়েছে খোদাদ্রোহী নাফরমানদের হাতে। প্রতিটি নবী-রাসূলের যুগেই এমন জালিমদের বাস ছিল এবং প্রত্যেককে একই পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ সকল পাপিষ্ঠ অহংকারীদের পরিণতি হলো ধ্বংস। এরকমই একজন অহংকারী খোদাদ্রোহী বাদশা ছিল নমরুদ। যার অহংকারের সীমা এতটাই লঙ্ঘন হয়েছিল যে খোদা তার সৃষ্টির ক্ষুদ্রতম একটি জীবকে দিয়ে নমরুদের পতন ঘটিয়েছিল, যা ইতিহাসের সকল অহংকারীদের জন্য শিক্ষা স্বরূপ।

নমরুদের অহংকার ও পতনের ঘটনা

পরিচিতি:

নমরুদ শব্দটির উৎপত্তি মূলত ‘নমর ও উদ’ বা, ‘নমরা ও উদু’ শব্দ দুটি থেকে যার অর্থ হচ্ছে জাজ্জ্বল্যমান আলো। কারো কারো মতে আবার এ নামের অর্থ বিদ্রোহী, অর্থাৎ খোদার বিরুদ্ধে দ্রোহীতার কারণে তাকে এ নামে ডাকা হত।

রাজাদের রাজা নমরুদ:

নমরুদের রাজা হওয়ার সম্পর্কে নানান কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। কারো কারো মতে, শিকারে পারদর্শীতার ক্ষমতাকে অলৌকিক মনে করে মানুষ তাকে তাদের রাজা বানিয়ে নেয়। আবার আরেক কাহিনী অনুযায়ী, নমরুদের যখন যুবক তখন তার গোত্র হেমিটিকদের সঙ্গে বিরোধী গোত্র জাফেটিকদের যুদ্ধ হয়, যুদ্ধে জাফেটিকদের বিজয় লক্ষণ দেখা দিচ্ছিল, ঠিক তখনি নমরুদ কুশাইট নামক এক ক্ষুদ্রগোত্রের ক্ষুদ্র এক বাহিনী নিয়ে অতর্কিত আক্রমনের মাধ্যমে তাদের উভয়কে পরাজিত করে সকল মানুষের রাজা বনে যান। শিনার ভূ-খণ্ডের বাবিল, কালনেহ, আক্কাড ও উরুক এবং শিনারের বাইরে নিনেভ, অশুর, রিহোবৎ , কালাহ এবং রজেন নিয়ে তার সাম্রাজ্য গঠিত হয়।

নূহের মৃত্যুর পরের বছর মিসরে ৪২টি রাজ্যের রাজ্যপতিদের একটি সম্মেলন হয় যেখানে নমরুদ রাজার রাজা (কিং অব কিংস) উপাধিতে ভূষিত হয়। এই খ্যাতি ও সম্মানের শিখরে পৌঁছে তার মানসিকতার পরিবর্তন আসে এবং নিজেকে দেবতা বলে দাবি করে এবং তার প্রার্থনা করার আদেশ দেয় আর তখন থেকেই প্রজারা তাকে উপাস্যরূপে তার পূজা ও অর্চণা শুরু করে।

হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম:

হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম হয় নমরুদের মন্ত্রী আজর এর ঘরে। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর জন্মগ্রহণ উপলক্ষে আজর তার বাড়ীতে নিমন্ত্রণের ব্যবস্থা করেন। অতিথিদের মধ্যে নমরুদের বেশকিছু উপদেষ্টা ও গণক ছিল। মধ্যরাতে ভোজন-পান শেষে সবাই যখন গৃহত্যাগ করছিল, তখন ওই উপদেষ্টা দল উর্দ্ধদিকে তাকিয়ে দেখল, পূর্বদিক থেকে একটা নক্ষত্র ছুটে এসে আকাশের চারদিকের চারটি বড় নক্ষত্রকে একে একে গিলে ফেলল। তখন গণকরা বিষয়টি গণনা করে জানতে পারে যে, ‘পৃথিবীতে এক শিশুর আগমণের কথা যার ভাগ্য নির্ধারিত এ জগৎ ও পরজগৎ জয়কারী হিসেবে।’ তারা অবিলম্বে নমরুদকে বিষয়টি জানাল।

নমরুদ শিশুটির জন্মগ্রহণ সম্পর্কে তার উপদেষ্টাদের জিজ্ঞাসা করল। তার উপদেষ্টারা নমরুদকে বলল যে শিশুটি তার মন্ত্রী আজরের ঘরে জন্ম নিয়েছে। নমরুদ এ কথায় বিষ্মিত হয়ে উঠলেন! কারণ আজর ছিল নমরুদের একজন বিশ্বস্ত এক কর্মচারী।

আজর ছিল মূলত দেবমূর্তি নির্মাতা, যার কারণে সমাজে তার সম্মান ও প্রতিপত্তি ছিল। তাই তারা আজরকে না চটিয়ে শিশুটিকে অর্থ-সম্পদের বিনিময়ে হস্তগত করতে চেয়েছিল কিন্তু এ প্রস্তাবে আজর অসম্মতি জানাই এবং একটি প্রবাদ বলে যে ‘এ তো এমন এক প্রস্তাব যা এক গাধাকে দেয়া হয়েছে। গাধাকে বলা হয়েছিল যে , ‘আমি তোমাকে গোলাভর্তি যব দেব, যদি তুমি তোমার মাথাটা কেটে ফেলার অনুমতি দাও।

গাধা উত্তর দিয়েছিল, ‘যদি আমার মাথাই কেটেই ফেল তবে গোলাভর্তি যব আমি কি করব?’ এ কথা দিয়ে আজর নমরুদকে বোঝাতে চাইল যে, এত সম্পদ দিয়ে কি হবে যদি তা ভোগ করার জন্যে কোনো উত্তরাধিকারীই না থাকে।

এ কথা শুনে নমরুদ রেগে যায় এবং তাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসে। একপর্যায়ে আজর তার কথায় রাজি হয় এবং তিনদিন পরে নিজের সন্তানের পরিবর্তে তার এক দাসীর সন্তানকে নমরুদ এর হাতে তুলে দেন। নমরুদ ওই শিশুকে তখনি হত্যা করে।

হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ:

হজরত ইব্রাহিম (আ.) দশ বছর সকলের থেকে আড়ালে এক গুহায় বসবাস করত। হয়ত নির্জনে বসবাস করার জন্য বাল্যকাল থেকেই হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রকৃতি এবং স্রষ্টাকে নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেছিল। অবশেষে সে আসল স্রষ্টাকে চিনতে পারে। আর তাই তার গোত্রের লোকদেরকে দেবদেবীর অসারত্ব দেখিয়ে দিতে সে সব মূর্তি ভেঙ্গে দেয় এবং বলে যারা নিজেদের রক্ষা করতে পারেনা তারা তোমাদের কীভাবে রক্ষা করবে।

এর ফলে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে বন্দী করা হয় এবং নমরুদের দরবারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নমরুদ তাকে জিজ্ঞেস করেন যে, ‘হে ইব্রাহিম, তোমার প্রতিপালক কে?’ হজরত ইব্রাহিম (আ.) জবাব দিলেন, ‘যিনি এক, যার কোনো শরীক নেই, যিনি আরশের অধিপতি।’

নমরুদ রেগে গিয়ে তার লোকদের বললেন, ‘ওকে পুড়িয়ে ফেল; সাহায্য কর তোমার দেবতাদেরকে, যদি একান্তই তাদের জন্য কিছু করতে চাও।’

নমরুদ বলল, ‘একটি অগ্নিকুণ্ড তৈরি কর, আর হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে জ্বলন্ত আগুনে ফেলে দাও। আর পাহারা দাও যেন তার কোনো সাহায্যকারী তাকে সাহায্য করতে না আসে।’

লোকেরা একজায়গায় লাকড়ি যোগাড় করে সেগুলোতে তৈল ও ঘি ঢেলে তাতে অগ্নিসংযোগ করল। সাতদিন পর পূর্ণ অগ্নিকুণ্ড তৈরি হল কিন্তু সমস্যা হলো হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করার জন্য কেউ আগুনের ধারের কাছেও পৌঁছাতে পারছিল না। এ সময় ইবলিস পর্যটকের বেশে সেখানে পৌঁছে চড়ক গাছ তৈরির পরামর্শ দিল। এই মহতী উদ্যোগকে সফল করতে জনগণকে ব্যাপক উৎসাহ জুগিয়েছিল। তার পরামর্শে একটা চড়ক গাছ তৈরি করা হয়।

কথিত আছে, চড়ক গাছ এর সাহায্যেও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে নিক্ষেপ করা সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ হজরত জিব্রাইল (আ.) চড়ক ঘোরানোর সময় বাঁধা সৃষ্টি করছিল। তখন আবার ইবলিসের পরামর্শে চড়ক ঘিরে নগ্ন নারী নৃত্যের জন্য হজরত জিব্রাইল (আ.) সেখান থেকে সরে গেলে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে নিক্ষেপ করে তারা।

হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষিপ্ত করার সময় হজরত জিব্রাইল (আ.) তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি কি আমার সাহায্য চাও?’ হজরত ইব্রাহিম (আ.) বললেন, ‘আমার কেবল আল্লাহর সাহায্য দরকার।’ তখনই মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে অগ্নি, তুমি হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর জন্যে শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’ (৩৭: ৯৭)

হজরত ইব্রাহিম (আ.) চল্লিশ দিন পর্যন্ত অগ্নিকুণ্ডে ছিলেন। এরপরেও লোকেরা দেখল হজরত ইব্রাহিম (আ.) সম্পূর্ণ সুস্থ জীবিত অগ্নিকুণ্ড থেকে বেরিয়ে এসেছে। এতে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর সম্প্রদায়ও হতবাক হয়ে পড়েছিল।

খোদাকে হত্যার ব্যর্থ প্রয়াস:

একদা নমরুদ স্বপ্ন দেখল, ‘অগ্নিকুণ্ড থেকে খোলা তরবারি হাতে নিয়ে এক লোক বেরিয়ে তার দিকে দ্রুত দৌঁড়ে আসতে লাগল। এ অবস্থা দেখে নমরুদো দৌঁড় দিলেন ওই ব্যক্তি তখন একটা ডিম ছুঁড়ে মারল তার দিকে এবং ডিম মাটিতে পড়ে ভাঙ্গা মাত্র বিশাল এক নদীতে পরিণত হলো। সেখানে তার সকল সৈন্য-সামন্ত ডুবে গেল, কেবল তিনি ও তার তিনজন সঙ্গী জীবিত ছিলেন আবার দেখলেন ওই নদী পুনরায় ডিমে পরিণত হয়েছে এবং পরে তা থেকে এক পেঁচা উড়ে এসে ঠুঁকরে তার দুই চোখ তুলে ফেলল।’

গণকেরা এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে ভবিষ্যদ্বাণী করল, হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর হাতে নমরুদের পরাজয় ঘটবে। এই কথা শুনে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে হত্যার জন্য লোক পাঠালেন কিন্তু তারা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে পেলেন না, এতে নমরুদ রেগে গিয়ে খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং স্বর্গে যাওয়ার জন্য একটি বিশাল টাওয়ার বানাতে বলেন তার লোকদের। তারা সেটা নির্মাণও করে কিন্তু সেটা কোনো কাজেই আসলোনা। হঠাৎ একদিন সেই টাওয়ার বিশাল শব্দ করে ভেঙ্গে পড়ল।

এই টাওয়ার ধ্বংসে নমরুদের নিজের সন্তানসহ অনেক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটে তবুও নমরুদের স্বর্গ জয়ের আকাঙ্খা থেমে যায়নি। এই সময় তার পরিষদের একজন তাকে অদ্ভূত এক পরামর্শ দিল। তার পরামর্শে চারটি বৃহৎ শকুন পালন করা হল। অতঃপর শকুন চারটিকে কয়েকদিন অভুক্ত রেখে সিন্দুকের চার কোনায় বেঁধে দৃষ্টির সীমানায় ঝুলিয়ে দেয়া হল মাংসের টুকরা।

নমরুদ ও তার সেনাপতি প্রস্তুত হয়ে সিন্দুকে আরোহণ করে উর্ধ্বপানে উড়ে চলল। উর্ধ্ব আকাশে যখন পৌঁছাল অর্থাৎ যেখান থেকে আকাশ বা পৃথিবীর কিছুই আর দেখা যায়না। এরপর নমরুদ তীর নিক্ষেপ করার প্রস্তুতি নিলেন। তারপর একের পর এক তারা তীর উপরের দিকে নিক্ষেপ করলেন। সে সময় মহান আল্লাহ তায়ালা হজরত জিব্রাইল (আ.)-কে বললেন, ‘আমার এই বান্দা যেন নিরাশ না হয়।’ 

মহান আল্লাহর কথা শুনে হজরত জিব্রাইল (আ.) তীরের মাথায় রক্ত লাগিয়ে তা ফেরত পাঠাল, (কথিত আছে, হজরত জিব্রাইল (আ.) তীরের অগ্রভাগে রক্ত লাগানোর জন্য পশু, পাখি ও জলজ জীবের কাছে রক্ত চেয়েছিল কিন্তু ‘বেলে মাছ’ ছাড়া রক্ত দিতে কেউ সম্মত হয়নি। তাই বলা হয় বেলে মাছের শরীরে কোনো রক্ত নেই।) যাতে নমরুদ বুঝতে পারে, তিনি হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর খোদাকে হত্যা করতে পেরেছে। তীর নিক্ষেপ শেষ হলে নমররুদ পৃথিবীর বুকে ফিরে আসে।

মাটিতে অবতরণ করার পর নমরুদের রক্ষীরা নিক্ষিপ্ত সব তীরগুলো কুড়িয়ে নিয়ে আসল। যেগুলো পাওয়া গেল তার সবগুলোই ছিল রক্তরঞ্জিত। নমরুদ রক্তমাখা তীরগুলো দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল এবং বলে উঠল, ‘নিশ্চয়ই আমরা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর খোদা এবং স্বর্গের সব বাসিন্দাদের হত্যা করতে সমর্থ হয়েছি এবং তার সাক্ষ্য বহন করে তীরে লেগে থাকা রক্তই।’

মশার সঙ্গে যুদ্ধ:

খোদা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে জানিয়ে ছিলেন, ‘ইব্রাহিম! নমরুদকে সতর্ক করে দাও তার ওপর শাস্তি আসার আগেই।’ সুতরাং হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের কাছে গেলেন তাকে সতর্ক করার জন্য কিন্তু তাকে দেখে উৎফুল্ল হলেন নমরূদ এবং বললেন, নিশ্চয় আমরা তোমার খোদাকে হত্যা করেছি। সঙ্গে সঙ্গে তীরগুলো দেখালেন।’

হজরত ইব্রাহিম (আ.) বলে উঠলেন, আমার স্রষ্টা চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। তখন নমরুদ বলেন, তিনি যদি মারা না যান, তবে তার সৈন্যদলকে একত্রিত করতে বলো। আমিও আমার সৈন্যদল নিয়ে ময়দানে সমবেত করছি।

এই কথা শুনে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাকে বলেছিলেন, আল্লাহকে ভয় করেন, তিনিই তো আপনাকে রাজ্য ও রাজত্ব দান করেছেন আর তিনিই পরজগতের প্রতিফল দাতা।

নির্দিষ্ট দিনে নমরুদের সৈন্যবাহিনী ময়দানে সমবেত হলেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন কোথায় তোমার রবের সেনাদল।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) দূরে আকাশের দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখালেন। দূরে কালো রঙের একটা মেঘ দেখা যাচ্ছিল যখন সেটা কাছে চলে এলো, লাখ লাখ মশার গুণগুণ শব্দে ময়দান মুখরিত হলো। কিন্তু ফেরাউন অবজ্ঞার সুরে বললেন, এ তো মশা! তুচ্ছ প্রাণি, তাও আবার নিরস্ত্র। এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি সৈন্যের মাথার ওপর মশা অবস্থান নিল। অতঃপর তাদের বুঝে উঠার পূর্বেই মশাগুলো তাদের নাক দিয়ে মস্তিস্কে প্রবেশ করল। তারপর দংশন করা শুরু করল। সৈন্যদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলো। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তীরন্দাজরা উর্ধ্বে তীর নিক্ষেপ আর পদাতিক সেনারা নিজেদের চারপাশে অন্ধের মত তরবারি চালাল, যার ফলে একে অপরকে নিজেদের অজান্তেই আহত বা নিহত করে ফেলল।

নমরুদের ভয়ংকর মৃত্যু:

মশার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নমরুদ পালিয়ে প্রাসাদে চলে আসল। এসময় একটি দূর্বল লেংড়া মশা তাকে তাড়া করল এবং কিছুক্ষণ মাথার চারপাশে ঘুরে নাসিকা পথে মস্তিস্কে ঢুকে পড়ল। তারপর মগজে দংশন করা শুরু করল। নমরুদ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে উন্মাদের ন্যায় প্রাসাদে প্রবেশ করল এবং যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে পাদুকা খুলে নিজের মাথায় আঘাত করতে শুরু করল। পাদুকা দিয়ে আঘাত করলে মশা দংশনে বিরত থাকে বাকি কোনো কিছুর আঘাতে দংশন বন্ধ করেনা। অবশেষে মাথায় মৃদু আঘাত করার জন্যে একজন সার্বক্ষণিক কর্মচারি নিযুক্ত করল নমরুদ।

সুদীর্ঘ ৪০ বছর তাকে এই দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছিল। সে সময়ই হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার সাক্ষাতে বললেন, হে নমরুদ! নিজের মাথায়, নিজের পাদুকা দ্বারা আঘাতের জন্যে, গোলাম নিযুক্ত করে রাখা জঘন্য। আরও বলল, এখনও সময় আছে, আল্লাহকে সর্বশক্তিমান এবং অদ্বিতীয় বলে স্বীকার করে নিতে কিন্তু নমরুদ বলল, ‘হে ইব্রাহিম! আমিই দুনিয়ার অধিশ্বর। অন্য খোদাকে আমি স্বীকার করি না। তখন হজরত ইব্রাহিম (আ.) বুঝতে পারলেন যে যাকে আল্লাহ তায়ালা পথ প্রদর্শন করেননি, সে কখনো সঠিক পথ খুঁজে পাবে না। তিনি হতাশ মনে ফিরে চলে এলেন।’

   এই দিন