এই দিন
ব্রেকিং:
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর

মঙ্গলবার   ০৭ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২২ ১৪২৭   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beta Version
সর্বশেষ:
উত্তরে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে খাদ্য সংকট সন্তানরা ফেরার পরই সমাহিত হবেন এন্ড্রু কিশোর
১৭৭

বুকের ওপর হাতি তুলতে পারতেন যে বাংলাদেশি তরুণী

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২০  

বিশালদেহী এক হাতি নিজের বুকের ওপরে তুলতে পারবেন? ভাবতেই তো অবাক লাগে! হাতির পা বুকের ওপর পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তো হাড়গোর সব দুমড়ে-মুচড়ে পুরো দেহ চেপ্টা হয়ে যাওয়ার কথা! কিন্তু এই অসম্ভবকে কিন্তু ঠিকই একজন সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন এক তরুণী।

নিজের বুকের ওপর আস্ত একটি হাতি তুলে নিতে পারতেন এই মেয়ে। তার নাম রেবা রক্ষিত। জন্ম এই বাংলাদেশেই।

১৯৩০ সালে অবিভক্ত বাংলার কুমিল্লা জেলার এক হিন্দু পরিবারে জন্ম নেন রেবা। ছোটবেলা থেকেই ডানপিটে মেয়ের ব্যাপক আগ্রহ ছিল খেলাধুলা আর শরীরচর্চায়। স্কুলে পড়ার সময় বাংলাদেশ থেকে কলকাতা চলে যায় রেবার পরিবার। সঙ্গে অনিবার্যভাবেই চলে যেতে হয় রেবাকেও।

সেখানে গিয়ে তিনি ভর্তি হন ‘‌জাতীয় ক্রীড়া ও শক্তি সংঘ’ নামে এক যোগচর্চা কেন্দ্রে। তারপর যোগচর্চা চলে বিষ্টু ঘোষের আখড়ায়। তখন রেবার বয়স মাত্র এগারো বছর।

বুকের ওপর তোলার কৌশল শেখানো হতো বিষ্টু ঘোষের ব্যায়াম চর্চা কেন্দ্রে। প্রথমে কয়েকদিন গিয়েই পালিয়ে এসেছিলেন রেবা। তবে বিষ্টুবাবু কথা দিয়েছিলেন, হাতির সমান হবে তার শক্তি।

পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিক থেকেই রেবা সার্কাসে খেলা দেখাতে শুরু করেন। জীবনের নব অধ্যায়ের সূচনা এখান থেকেই। বিষ্টু ঘোষের হাত ধরে বুকের ওপর দিয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে নেওয়া রপ্ত করে ফেলেছিলেন সহজেই। এরপরে যোগ শিক্ষক দেখতে চাইলেন তার ছাত্রী বুকের ওপর হাতি তুলতে পারে কিনা। এক সার্কাসের মালিকের সঙ্গে কথা বলে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও করে ফেলেন।

ট্রায়ালে ঠিক হয় পঞ্চাশ–‌ষাট মন ওজনের বাচ্চা হাতি রেবার বুকের উপর দিয়ে হেঁটে যাবে। ট্রায়ালে পাস করলেন রেবা। এরপরই ফাইনাল শো। বাড়ির সমস্ত বাধা ছুঁড়ে ফেলে মেয়ে চলে গেল বুকে হাতি তুলতে। বিশাল হাতি চলে গেল রেবার বুকের ওপর দিয়ে। নির্বিকার রেবা। যেন কিছুই হয়নি!

এদিকে সঙ্গে সঙ্গেই ভারতজুড়ে এই খবর চাউর হয়ে যায়- একটা মেয়ে নাকি বুকে হাতি তুলছে! তৎকালীন বোম্বের সার্কাস থেকে ডাক আসে রেবার। প্রথমে রাজি না হলেও পরে মেনে নেন সবাই। ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া মেয়ে ফের চলল বুকে হাতি তুলতে। বোম্বের সেই সার্কাস কলকাতায় তাঁবু ফেলল। ‘‌শো’‌ দেখতে এসেছিলেন ভারতের তৎকালীন স্পিকার শৈল মুখার্জী।

সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, বাঙালি এক মেয়ে হাতি বুকে তোলার ‘অজব’ খেলা দেখবে বলে। মেয়ের চেহারা দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন স্পিকার। এ খেলা দেখাতে মানা করেছিলেন। এরইমধ্যে হাতি হেঁটে চলে গেল মেয়ের বুকের ওপর দিয়ে। তারপর রেবা সাধারণভাবেই উঠে দাঁড়াল। যেন সকালের আড়মোড়া ভাঙছে!

ওই অনুষ্ঠানের পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি এই তরুনীকে। বুকের ওপর হাতি তোল হয়ে গিয়েছিল রেবার সকাল-বিকালের অভ্যাস। ছুটির দিনে তিন বেলাই থাকতো এই হাতির শো। নেপালের মহারাজাও একবার রেবার খেলা দেখতে গিয়েছিলেন ভারত।

তখনকার দিনে শো প্রতিদিন ১২৫ টাকা। ছুটির দিনে সেটা হয়ে যেত ২০০ টাকা। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬২ টানা আট বছর ধরে একইভাবে দেশ-বিদেশে বুকে হাতি তোলার খেলা দেখাতেন রেবা। একসময় হাতির খেলা না থাকলে তাঁবু ফাঁকা যেত।

হাতির পায়ের চাপ যখন শরীরে পড়ত, সেই চাপ যে কি জিনিস রেবাই জানতেন! চোখের কোনে রক্ত জমতে শুরু করেছিল রেবার। ডাক্তার দেখানোর পর তাকে বলা হলো হাতির খেলা এখন থেকে আর করা যাবে না। তবে শেষবার বুকের ওপর কাঠের পাটাতন আরেকবার হাতি তুলেছিলেন রেবা। এরপর আর সার্কাসে খেলা দেখাননি তিনি। এই কৌশল দেখিয়েই শেষ পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় বেসামরিক পদক ‘পদ্মশ্রী’ পেয়েছিলেন রেবা।

তবে শেষ জীবনটা নীরবেই কেটেছে এই নারীর। ২০১০ সালে রেবা মারা যান। সেটাও একেবারে নীরবে-নিভৃতে। এমনকি জানা যায়নি তার মৃত্যুর তারিখটাও।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর