এই দিন

বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭   ১৩ সফর ১৪৪২

Beta Version
   এই দিন
সর্বশেষ:
থেরাপির জন্য মিরপুরের সিআরপিতে ইউএনও ওয়াহিদা বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ কারাগারে একমাত্র নারী বন্দি মিন্নি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি মনোযোগী হতে হবে আজ ‘পানি ভবন’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন রিফাত হত্যা মামলার রায়, মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি এমসি কলেজে গণধর্ষণ: পাঁচদিনের রিমান্ডে মাসুম আদালতে আসামিরা, রায় কিছুক্ষণ পর বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১০ লাখ ১২ হাজার আজ রিফাত হত্যার রায়,আদালত প্রাঙ্গনে কঠোর নিরাপত্তা
১৩৯

‘বাবার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে থাকতে চাই’

এম এ আহাদ শাহীন

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২০  

মশিউর রহমান মোল্লা সজল। সাধারণ সম্পাদক, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগ। তিনি ঢাকা-৫ আসনের সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে। এলাকায় রাজনৈতিক, সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আছেন বহুদিন ধরেই।

পিতার মৃত্যুর পর ঢাকা-৫ শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন-প্রত্যাশী।

করোনাকালীন সময় ও নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন দৈনিক এইদিনের সঙ্গে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন এম এ আহাদ শাহীন

এইদিন: করোনাকালে কিভাবে মানুষের সঙ্গে কাজ করছেন...

মশিউর রহমান সজল: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিটা যখন আস্তে আস্তে বিস্তার লাভ করে। সেটার প্রভাবে আমাদের জনসাধারণ লকডাউনের মধ্যে ঘরে থাকায় তাদের আয়ের সীমাবদ্ধতা ছিলো। তখন থেকে আমরা স্ব উদ্যোগে আমাদের পক্ষ থেকে কখনো চাল, ডাল, কখনো নগদ অর্থ দেওয়া শুরু করি। এটা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।

আমি যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই করোনাভাইরাসের সচেতনতা নিয়ে কথা বলছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলতে বলেছে সেগুলো নিয়ে আমি জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমি নিজের অভিজ্ঞতাও তাদের কাছে তুলে ধরছি।

গত এপ্রিলের ২৭ তারিখে আমার মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়। আমি নিজেও একজন করোনা রোগী ছিলাম। শুরুতে বেশ ভালোভাবে আক্রান্ত হয়েছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনাদের অনেকের দোয়ায় আমি মোটামুটি সুস্থ হয়ে যাই। আমি সেই অভিজ্ঞতাগুলো সাধারণ মানুষের সাথে শেয়ার করি। সেই অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে যেটা আমার ছিলো যে, যেকোনা সময় আমরা অসুস্থ হলে আমাদের পরিবারের যে সদস্যরা আছে তারা যদি সেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করে। মানসিকভাবে যদি তাকে সাহসের জায়গাটায় তাকে আনার চেষ্টা করে তাহলে কিন্তু সে অনেকটাই সুস্থ থাকে।

বিশেষ করে করোনাভাইরাসের বেশ কিছু নিয়মকানুন আছে। যেগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে। যেমন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আমরা যেন বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুই বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করি। একটু দূরত্ব বজায় রেখে আমরা কথা বলি। এই নিয়মগুলো মেনে চললেই হবে।

অনেক হাসপাতালেও এখন ট্রিটমেন্ট দিচ্ছে। আমরা যদি সেই রোগীটাকে একটা ঘরে আইসোলেশনে রেখে তার সেবা যত্ন করি তাহলে আমার ধারনা, সে হাসপাতালের চেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ নিতেই হবে। যার মধ্যে যে উপসর্গগুলো দেখা দিচ্ছে, যে লক্ষণগুলো দেখা দিচ্ছে সেই লক্ষণগুলো প্রতিরোধ করার জন্যে কি ওষুধের প্রয়োজন আছে ডাক্তারের সাথে কথা বলে সেই ওষুধগুলো সেবন করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তাহলেই আমরা করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতির মধ্যে সুস্থ থাকতে পারবো।

যদিও ইতোমধ্যে আমাদের প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন রকম পদক্ষেপের কারণে উন্নত বিশ্বে করোনা যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে, যে হারে ওইখানে মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। কি অত্যাচার চলে গেলো। ইতালি, ফ্রান্সসহ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও মৃত্যুহার অনেক বেশি। সেই জায়গাটায় আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আক্রান্তের সংখ্যা যতটুকু আছে মৃত্যুর সংখ্যা সেই পরিমাণে হচ্ছে না আল্লাহর রহমতে। আর সুস্থও হয়ে যাচ্ছে। এখানে সুস্থ হওয়ার সংখ্যাটা অনেক বেশি।

এইদিন: মানুষের যখন কাজ ছিলো না তখন তাদের জন্য কি করেছেন...

মশিউর রহমান সজল: আমরা এখনও সেটা অব্যাহত রেখেছি। সারা বাংলাদেশে কিছু পরিবার আছে। তাদের আত্মসম্মানবোধটা অনেক বেশি। নিম্নমধ্যবিত্ত অবস্থায় যারা অবস্থান করছেন। সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আমরা একটি টিম করি। সেই টিম করে রাতের বেলা আমরা যাই। কারণ, সেই খাবারটা যদি দিনের বেলায় নেওয়া হয় তাহলে সে একটু অস্বস্তিবোধ করে। সেই ঘরগুলোতে রাতের বেলা আমরা চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, তেলসহ আরও কিছু যথাসম্ভব পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখনও করে যাচ্ছি।

যদিও একেবারে যেই পরিমাণে দেওয়া উচিত চাহিদার সাথে সঙ্গতি রাখতে পারছি না। কারণ আমরা সব ব্যক্তিগত উদ্যোগে দিচ্ছি। ত্রাণের বিষয়ে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ সফল। তিনি নিজে যেভাবে তার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আমাদের যে এলাকাগুলো আছে, সেগুলো সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে যেভাবে প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছে।

তাতে কেউ এই সংকটকালীন সময়ে না খেয়ে মারা গেছে গণমাধ্যমে কোথাও এমন কোনো খবর বের হয়নি। কোনো না কোনো ভাবে আমাদের দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে যতটুকু সম্ভব সেই দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তার চেয়ে অনেক বেশি আমাদের নেত্রী বিভিন্ন মাধ্যমে করে যাচ্ছেন। যেকারণে খাবারের সংকট কিন্তু এখনও হয়নি আল্লাহর রহমতে।

এইদিন: নির্বাচনে এলাকার জন্য প্রতিশ্রুতি কি...

মশিউর রহমান সজল: আমার বাবা যেটা করতেন সারা বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই উন্নয়নের যাত্রাটা যেন অব্যাহত থাকে। সেই দিক থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী হিসেবে যেভাবে কাজ করা উচিত সেভাবে প্রথমত করা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে আমাদের প্রাণ প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত যে বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছেন, তার জায়গাটায় সহযোগী হওয়ার চেষ্টা করব আমি। সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাটা হচ্ছে, আমি আমার বাবার মত প্রাণ প্রিয়নেত্রীর আস্থাভাজন আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হতে চাই।

যদি নেত্রীর দোয়া-সহযোগিতা থাকে তাহলে আমাদের এই এলাকায় একজন সংসদ সদস্যের যা যা করণীয় ইনশাআল্লাহ সব কিছু করা সম্ভব হবে। আমার বাবা ৪ বার এমপি ছিলেন। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন একজন জননেতা ছিলেন। যার কারণে টানা ৫ বার জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছেন। ৪ বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

২০০১ এ সারাদেশেই আওয়ামী লীগের একটা বিপর্যয় ঘটানো হয়েছিলো। সেকারণে ওই সময় আমরা পরাজিত হই। আর ২০০৮ এ যখন এক এগারোর কুশীলবদের চক্রান্তের কারণে আমার বাবাও কারাবরণ করেছিলেন। সেই সময়টায় জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আর সেই জায়গাটায় ছায়া প্রার্থী হিসেবে সবার অনুরোধে আমাকে কাজ করতে হয়েছিলো।

পাঁচটি নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাবার পাশে থেকে ৪ বার, আর ১ বার একেবারে প্রার্থীর জায়গাটা থেকে এই অভিজ্ঞতাটা আমার আছে। বাবা কোন কাজ করতে গিয়ে কিছুটা সমালোচিত হয়েছেন, আর কোন কাজ করার পরে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন এই বিষয়গুলো আমি লক্ষ্য করেছি।

বাবা কিভাবে এখানে সংগঠনকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করেছেন সেগুলো আমি দেখেছি। এইদিক থেকে সংগঠনকে কিভাবে শক্তিশালী করতে হয়, আওয়ামী লীগকে কি ভাবে শক্তিশালী করতে হবে, সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিয়ে পাশাপাশি সংসদ সদস্যের যে কাজগুলো আছে, যেই কাজগুলো করলে সমালোচিত হয় সেই কাজকে মাথায় রেখে এবং কি কাজগুলো করলে পরে প্রশংসিত হয় সেভাবে কাজ করে যাবো।

এইদিন: গণসংযোগ শুরু করেছেন কিনা...

মশিউর রহমান সজল: গণসংযোগটা আমার আজকে নতুন না। আমাদের গণসংযোগ চলছে বাবা যখন থেকে রাজনীতি করেন তারপর থেকেই। আমাদের প্রতিদিনই গণসংযোগ। সেটা যখন নির্বাচন আসে শুধু নির্বাচনকে লক্ষ্য করে শুধু গণসংযোগ করি বিষয়টা এরকম না।

এইদিন: এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে...

মশিউর রহমান সজল: এলাকাবাসীর কাছে আমি দোয়া চাই। এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাই। এলাকাবাসীর পরামর্শ চাই। এলাকাবাসীর দোয়া-সহযোগিতা পরামর্শে আল্লাহর অশেষ রহমতে জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন এবং এলাকাবাসী তারা যদি দোয়া করেন। ভোট দিয়ে আমাকে আমার বাবার জায়গাটায় আসার সুযোগ করে দেন তাহলে আমি আমার প্রাণ প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন আস্থাভাজন আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে এই ঢাকা-৫ আসনে সর্বস্তরের জনগণের আপদ-বিপদে পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর