এই দিন

সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

Beta Version
   এই দিন
১৩০

বন্যার পানি বিপদসীমার উপরে, গাইবান্ধায় পানিবন্দি দেড় লাখ মানুষ

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২০  

গাইবান্ধায় নতুন করে আরো দুই ইউনিয়নসহ ৪০টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার ৬ উপজেলা ৪০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৭ মানুষ।

সোমবার (২৭ জুলাই) ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি শহর পয়েন্টে বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি কাটাখালী পয়েন্টে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাঙালী নদীর বোচাদহ গ্রামে বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ ও কোচাশহর ইউনিয়নের বোচাদহ, বালুয়া, ছয়ঘরিয়া, শ্রীপতিপুর, কুমিড়াডাঙা, পুনতাইর, পাছপাড়া, গোপালপুর, জিরাই, সোনাইডাঙ্গা, হরিনাথপুর-বিশপুকুর, কাজিরচক, পচারিয়া, মাদারদহ, কাজিপাড়া, ফরিকরপাড়া, পানিয়াসহ ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

অপরদিকে গাইবান্ধা জেলা শহর সংলগ্ন কুপতলা, খোলাহাটি, ঘাগোয়া, গিদারী ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকায় বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব ইউনিয়নগুলোর বসতবাড়ি এবং সড়কগুলোতে এখন হাটু পানিতে নিমজ্জিত। এছাড়া গাইবান্ধা পৌরসভার অনেক নিচু এলাকাগুলোতেও পানি উঠে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে সোমবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত ৩২ দিন যাবত তিন দফা বন্যায় জেলার ৬ উপজেলার ৪০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২৫৮ গ্রামের ৩৯ হাজার ৮৩৭টি পরিবারের ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৭ মানুষ বন্যায় পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যার্তদের জন্য ১৭২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৯২টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৭ হাজার ৭৭৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি তাদের অনেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউবা বাড়িতেই মাচা করে অবস্থান করছেন। 

সাড়ে ৪ মাস যাবত করোনাভাইরাসের কারণে গোটা জেলায় বেকারত্ব বেড়েছে। তার উপর তিন দফা দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দুর্গত এলাকায় কর্মহীন মানুষগুলো চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে। 

গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিস্কাশন সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। সরকারি ত্রাণ তৎপরতার তুলনায় একেবারে কম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এক মাস ধরে বন্যার পানি আটকে থাকায় উপদ্রুত এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনমজুর এবং স্বল্প আয়ের লোকজন চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যেসব পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিভিন্ন উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে তারা বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ.কে.এম ইদ্রিস আলী জানান, বন্যার্ত মানুষের জন্য গত ২৮ জুন হতে ২৭ জুলাই পর্যন্ত জিআর চাল ৬১০ মেট্রিক টন, জিআর ক্যাশ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশু খাদ্য বাবদ ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্য বাবদ ৯ লাখ টাকা এবং শুকনা খাবার ৭ হাজার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর