এই দিন

শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

Beta Version
সর্বশেষ:
ভবনে বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করেছে ডিএনসিসি রোগীদের সেবা নিশ্চিত না হলে আন্দোলন : ছাত্রলীগ জুন থেকে গার্মেন্টস শ্রমিক ছাটাই শুরু হবে: রুবানা হক মানুষকে সুরক্ষিত করতে প্রাণপণে চেষ্টা করছি: প্রধানমন্ত্রী জামালপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক করোনায় আক্রান্ত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে শনাক্ত আড়াই হাজার, মৃত্যু ৩৫ জনের বাংলামোটরে বিহঙ্গ বাসের ধাক্কায় নিহত ২
৬১৩

দুর্গা নয়, যেখানে পূজা করা হয় অসুরকে

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

খলনায়কই এখানে নায়ক। বিনাশের বদলে তিনিই পূজা পান। প্রথা ভেঙে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে আজও পূজিত হন ‘রাক্ষস’ অসুর। কারণ এখানকার পূজারিরা আজও মনে করেন, তাদের কাছে দেবরূপী অসুরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল।

এসব শুনলে চমকে উঠবেন যেকোনও মানুষই। কিন্তু এ ধরনেরই ব্যতিক্রমী পূজা দেখা যাবে ভারতের কয়েকটি স্থানে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের উড়িশ্যা, আসাম এবং ছত্তিশগড়সহ আরও কয়েকটি জায়গায় দুর্গাপূজার সময় দুর্গার পরিবর্তে পূজা করা হয় অসুরের।

দুর্গা অসুর হিসাবে যাকে বধ করেছিলেন, সেই মহিষাসুরের পূজা করছেন শালবনির মানুষ। করবেন স্মরণসভাও। নানা অকথিত কাহিনি তুলে ধরা হবে ওদের সমাজের মানুষের কাছে। ওরা মূলত আদিবাসী এবং কুরমি সম্প্রদায়ের একাংশ। দুর্গা নয়, মহিষাসুরকেই দেবতাজ্ঞানে মনে মনে পূজা করেন তারা। তাদের বিশ্বাস, হুদুড় দুর্গা তথা মহিষাসুরকে কোনও প্রকৃত যুদ্ধের মাধ্যমে পরাস্ত করা হয়নি। নীতিহীন যুদ্ধে পরাস্ত করে তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল। তাই তারা আজও মহিষাসুরকেই দেবতা বলে মানেন। যার হাতে মহিষাসুর বধ হয়েছিলেন, সেই দুর্গাকে তারা আজও ‘বিদেশি’ বলেই মানেন।

পূজা ও স্মরণসভা উপলক্ষে মহিষাসুরের মূর্তি বানানো হয়। ওই মূর্তির সামনেই ইতিহাস তুলে ধরেন আদিবাসী সমাজের কর্তাব্যক্তিরা। শালবনির কেন্দাশোল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওই অসুর স্মরণের আয়োজন করেছে এম কে খেরয়াল রাস্কৌ মহল। সপ্তমীর দিনই হচ্ছে ওই পূজা।

সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা কৃষ্ণকান্ত মাহাতো, সভাপতি রাজু সরেন, সম্পাদক কমল হাঁসদা, রাম হাঁসদারা জানান, তারা আজও মনে করেন, আদিবাসীদের আদি পুরুষ অনার্য সম্প্রদায়ের হুদুড় দুর্গা তথা মহিষাসুর এক বিদেশি আর্য রমণীর দ্বারা অন্যায়ভাবে নিধনের ফলে ভারতের ভূমিপুত্র আদিবাসী খেরওয়ালরা দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হারিয়েছিল।

ইতিহাস থেকে তারা জেনেছেন, মহিষাসুরকে নীতিহীন যুদ্ধে পরাস্ত করে আর্যাবর্ত নামে আর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আর্যপক্ষ যখন বিজয় উৎসবে মেতে উঠেছিল, সেই সময় সাঁওতাল, মুণ্ডা, কোল, কুরমি, মাহালি, কোড়াসহ খেরওয়াল গোষ্ঠীর আদিবাসীরা তাদের বশ্যতা স্বীকার করেনি। নিজেদের মান বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নারীর ছদ্মবেশে দাঁশাই নাচ ও কাঠিনাচের মাধ্যমে অন্তরের দুঃখ নিয়ে তারা আনন্দের অভিনয় করতে করতে সিন্ধুপাড় ছেড়ে আসাম, ঝাড়খণ্ড, উড়িশ্যা ও দক্ষিণ ভারতের বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। সেই মহান রাজার নিধন ও দেশ হারার বেদনা বুকে নিয়ে সেই থেকেই আদিবাসীরা তাদের পিতৃপুরুষ মহিষাসুরের স্মরণে ‘হায় রে হায় রে’ শব্দযোগে আজও দাঁশাই নাচ ও কাঠিনাচ করে চলে।

সাঁওতালি দাঁশাইয়ের বিধি অনুযায়ী, ওইসময় পাঁচদিন দেবী দুর্গার মুখ দর্শন বন্ধ ছিল। এখনও অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী শোকপালন করতে গিয়ে ওই দিনগুলিতে বাড়ি থেকে বের হন না। তারা মনে করেন, দুর্গোৎসবের প্রকৃত ইতিহাস চাপা দেওয়ার চেষ্টায় উচ্চবর্ণীয় পণ্ডিতরা ধর্মের রং মিশিয়ে মহিষাসুরকে অশুভ শক্তি হিসাবে মিথ্যা প্রচার করেন।

এই দুর্গোৎসব শুভ শক্তির পরাজয় ও অশুভ শক্তির জয়ের পূজা। তাই তারা দুর্গার বদলে মহিষাসুরকেই আসল দেবতা মনে করে সপ্তমীর দিন তাকে স্মরণ করে ‘শহিদ দিবস’ পালন করে থাকে।

   এই দিন