এই দিন

রোববার   ৩১ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭   ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

Beta Version
সর্বশেষ:
আজ দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর সাড়ে চার কিলোমিটার সরকারের সব খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাবিহীন: ফখরুল গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত ১৭৬৪ জন, মৃত্যু ২৮ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা, বিক্ষোভে জ্বলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনোপোলিস সোমবার থেকে বাস চালু, ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা থাকবে
৪২৩

দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন যে ১০ সাহাবি

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০১৯  

দেড় হাজার বছর আগে মক্কার হেরা পর্বতের গুহায় যখন ধ্যানমগ্ন মুহাম্মদ (স)-এর কাছে আল্লাহ জিব্রাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রথম ওহী নাজিল করেন, তখন এই দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন একা। এরপর কাছের লোকদের কাছে একের পর এক এই জীবনব্যবস্থা প্রচার করতে শুরু করেন হজরত মুহাম্মদ (স)।

যারা রাসুলের (স) আহ্বান মেনে নিয়ে তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সহযোগী হয়েছেন ও মৃত্যু পর্যন্ত ইমানের ওপর টিকে ছিলেন, তাদের বলা হয় ‘সাহাবি’। সাহাবিদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- তার সঙ্গীগণ কাফিরদের মোকাবেলায় কঠোর এবং নিজেরা পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল। তুমি তাদের দেখবে আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তৎপর, রুকু ও সিজদায় অবনত। তাদের মুখমণ্ডলে অজুর চিহ্ন থাকবে, তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপই এবং ইনজিলেও।’ (সুরা আল–ফাতহ: ২৯)।

মুহাম্মদ (স.) নিজেও তার সাহাবীদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘তোমরা আমার সাহাবিদের গালি দেবেনা। কসম সেই সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করো তবুও তাদের যেকোনো একজনের অর্ধেক পরিমাণ যবের সমতুল্য হবে না।’

অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘আমার সাহাবিরা আকাশের তারকাসদৃশ। তাদের কোন একজনকে গ্রহণ করলে তোমরা সঠিক পথ পাবে। আর আমার সাহাবীদের পারস্পরিক মতপার্থক্য তোমাদের জন্য রহমতস্বরূপ।’

সাহাবিদের এই বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কারণ অনেক। সেই সময়ে মুহাম্মদ (স)-এর চরম দুর্দিনে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার পাশে থেকেছেন, তার সেই সংগ্রামে হাজারো নির্যাতন সহ্য করেছেন, দুনিয়ার সব ভোগ-বিলাসিতা ত্যাগ করেছেন, সামাজিক প্রতিপত্তি বিসর্জন দিয়েছেন- পৃথিবীর আর কোনো যুগের মানুষের পক্ষেই তা করা সম্ভব হবে না।

এসব সাহাবির মধ্যে কিছু সাহাবী আছেন, যাদের আবার বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়েছে। এমন ১০ জন বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন সাহাবিকে বলা হয়, ‘আশারায়ে মুবাশশারা’। পৃথিবীতে থাকতেই আল্লাহ তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন।

মুহাম্মদ (স) বলেন, ‘আবু বকর জান্নাতি, উমর জান্নাতি, উসমান জান্নাতি, আলী জান্নাতি, তালহা জান্নাতি, জুবায়ের জান্নাতি, আবদুর রহমান ইবনে আওফ জান্নাতি, সাদ জান্নাতি, সাঈদ জান্নাতি, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ জান্নাতি।’ (সুনানে তিরমিজি-৩৬৮০)।

তারা ছাড়া আরও কিছু সাহাবীকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। যেমন- খাদিজা বিনতে খুওয়ালিদ (রা), আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রা), উক্কাশা বিন মুহছিন প্রমুখ। তবে এই দশজনকে ‘আশারায়ে মুবাশশারা বা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশব্যক্তি’ বলা হয়, কারণ এক হাদিসে একসাথে তাদের সবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব সাহাবীর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে তুলে ধরা হলো:

আবু বকর সিদ্দিক

আবু বকর সিদ্দিক (রা) মুহাম্মদ (স)-এর জন্মের দুই বছর পর জন্মগ্রহণ করেন ও তার মৃত্যুর দুই বছর পর ২৩ আগস্ট ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা এবং প্রথম মুসলিমদের অন্যতম। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। মুহাম্মদ (সা)-এর শ্বশুর ছিলেন। রাসুল (সা)-এর মৃত্যুর পর তিনি খলিফা হন এবং মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দেন। নবি (সা)-এর প্রতি অতুলনীয় বিশ্বাসের জন্য তাকে ‘সিদ্দিক’ বা ‘বিশ্বস্ত’ উপাধি দেন মুহাম্মদ (স)।

উমর ইবনুল খাত্তাব

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর জন্ম ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে এবং মৃত্যু ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং প্রধান সাহাবিদের অন্যতম তিনি। আবু বকরের মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব নেন। উমর ইসলামী আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন। ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল ফারুক (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেয়া হয়। আমিরুল মুমিনিন উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়েছে।

উসমান ইবনে আফফান

উসমান ইবন আফফান ৫৮০খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেন ও ১৭ জুন ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। তিনি ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা। ৬৪৪ থেকে ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। খলিফা হিসেবে তিনি চারজন খুলাফায়ে রাশিদুনের একজন। উসমান ‘আস-সাবিকুনাল আওয়ালুনের’ (প্রথম পর্বে ইসলাম গ্রহণকারী) অন্তর্ভুক্ত। তিনি সেই ৬ জন সাহাবীর মধ্যে অন্যতম, যাদের ওপর মুহাম্মদ (সা.) সন্তুষ্ট ছিলেন।

আলী ইবনে আবু তালিব

আলী ইবনে আবু তালিব ৬০০ খিষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন ও ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। তিনি ইসলামের চতুর্থ ও খুলাফায়ে রাশেদিনের শেষ খলিফা। আলী মুহাম্মদ (স.)-এর চাচাতো ভাই ও আবু তালিবের পুত্র। শিশু বয়স থেকেই মুহাম্মদ (স.)-এর সঙ্গে লালিত-পালিত হন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম নবী (স.)-এর সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। বালকদের মধ্যে এবং পুরুষদের তিনি সর্বপ্রথম নবুয়তের ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। আলী ছিলেন একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। বদর যুদ্ধে বিশেষ বীরত্বের জন্য মুহাম্মদ (স) তাকে ‘জুলফিকার’ নামক তরবারি উপহার দিয়েছিলেন।

তালহা ইবনে উবাউদুল্লাহ

তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ ছিলেন ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম আটজনের অন্যতম। তিনি রাসুল (সা)-এর একজন ঘনিষ্ঠ সাহাবি ছিলেন। উহুদের যুদ্ধে ও উটের যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তিনি অধিক পরিচিত। দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি মারা যান।

জুবাইর ইবনুল আওয়াম

জুবাইর ইবনুল আওয়াম ইসলামের প্রথম দিককার সাহাবী। তিনি আশারায়ে মুবাশশারার ১০ সাহাবীর একজন।

আবদুর রহমান ইবনে আওফ

আবদুর রহমান ইবনে আওফ ৭২ বছর বয়সে ৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। প্রথমে তার নাম ছিল আবুদল আমর বা আমরের দাস। ইসলাম গ্রহণের পর মুহাম্মদ (স) তার নাম পাল্টে দেন। তিনিও প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারী আট সাহাবীর একজন ও আশারায়ে মুবাশশারা। প্রথমে আবদুর রহমান আবিসিনিয়ায় ও পরে মদিনায় হিজরত করেন।

সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস

সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস ১৭ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে ১৭তম ব্যক্তি। ৬৩৬ সালে পারস্য বিজয়ের নেতৃত্ব ও শাসনের জন্য অধিক পরিচিত এই সাহাবীকে ৬১৬ ও ৬৫১ সালে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে চীনে পাঠানো হয়েছিল। ধারণা করা হয়, চীনে যাওয়ার সময় নৌ-রুটে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে থেমেছিলেন। বাংলাকে ইসলামের সাথে পরিচয় করানোর ক্ষেত্রেও তার অবদান আছে বলে মনে করা হয়।

সাইদ ইবনে জায়িদ

সাইদ ইবনে জায়িদ খলিফা উমার (রা)-এর ভগ্নিপতি, অর্থাৎ উমরের বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাবের স্বামী। তিনি ছিলেন প্রাথমিক পর্যায়ের ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবীদের একজন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও তিনি ছিলেন পৌত্তলিকতা থেকে মুক্ত। সাইদ ৬৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়ার শাসনামলে আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ

আবু উবাইদা আমর ইবনে আবদিল্লাহ ইবনুল জাররাহ (৫৮১-৬৩৮ খিষ্টাব্দ) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ বলে অধিক পরিচিত। তিনি খলিফা উমার ইবনুল খাত্তাবের সময় রাশিদুন সেনাবাহিনীর একজন সেনাপতি ছিলেন।

আবু উবাইদা ৫৮৩ সালে বণিক আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরাইশদের বনু আল হারিস ইবনে ফিহর গোত্রের সদস্য ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও তিনি অন্যতম অভিজাত কুরাইশ বলে গণ্য হতেন। তার অমায়িকতা ও সাহসিকতার জন্য তিনি খ্যাত ছিলেন।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর