শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Beta Version
সর্বশেষ:
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন ৫ এপ্রিল তথ্য গোপন করে এই মহামারী এড়ানো যাবে না: রিজভী বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ ছাড়িয়ে, প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৪৮ হাজার করোনা সর্তকতায় আজ থেকে কঠোর অবস্থানে সেনাবাহিনী ঘর থেকে তুলে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা ঢাকা ছাড়লেন ৩২৭ জাপানি বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ সাধারণ ছুটিতে ব্যাংকে লেনদেনের সময় বাড়ল করোনায় মৃত ব্যক্তির থেকে ভাইরাস ছড়ায় না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি উপজেলা থেকে করোনার অন্তত দুজনের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে আরও দুজন করোনা রোগী শনাক্ত ,২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা যাননি কেউ: এমআইএস
২৯১৩

দিন দিন নিজেকেই ছাড়িয়ে যাচ্ছেন বান্নাহ

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

পবিত্র ঈদুল আজহায় টেলিভিশন এবং ইউটিউবে একাধিক নাটক প্রচারিত হলেও ঘুরে-ফিরে সামনে এসেছে কয়েকটি নাটকের নাম। তার মধ্যে এগিয়ে থাকা অন্যতম নাটকটি হলো, মাবরুর রশিদ বান্নাহ পরিচালিত ‘আশ্রয়’।  

গল্পের গাঁথুনী আর নির্মাণশৈলিতায় দর্শকদের কাছে এক নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন হালের এই জনপ্রিয় পরিচালক। আর তাই দর্শকদের কথা ভেবে ভিন্ন ধাঁচের কাজে আত্মনিয়োগ করেন বান্নাহ।

ঈদে আকবর হায়দার মুন্নার গল্পে নির্মিত ‘আশ্রয়’ নাটকটি দেখার পর মানুষের আত্মতৃপ্তির শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নাটকটি নিয়ে নানাজন নানাভাবে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন। 

শিল্পী, সাংবাদিক ও লেখক আমিরুল মোমেনীন মানিক লিখেছেন, ‘সংস্কৃতির চলমান দাহকালে সবাই যখন গড্ডালিকায়, তখন বিরলপ্রজ কেউ কেউ পরিবর্তনের পতাকা তুলে ধরেন। আমাদের আশা দেখান, নিশিস্তব্ধ সময়কে আলো দিয়ে ভরিয়ে দিতে চান।

হ্যাঁ, বলছি বাংলা নাটকে বাঁকবদল আনার লড়াকু বিপ্লবী Mabrur Rashid Bannah'র কথা।

সেই আটপৌরে গল্প, একই প্লট আর নাগরিক ঘ্যানঘ্যানানিতে আমরা যখন চিন্তার উদারাময়ে আক্রান্ত, ঠিক এরকম সময়ে বান্নাহ ভাই নির্মাণ করলেন ‘আশ্রয়’। ‘আশ্রয়’ যেন বাংলা নাটকের ইতিবাচক পরিবর্তনের-ই মাইলস্টোন । চেনা গল্প অথচ অদ্ভূতভাবে তুলে ধরলেন ক্যামেরার ফ্রেমে । কঠিন হৃদয়েও বইয়ে দিলেন এক পশলা বৃষ্টি।

মোশাররফ করিম, তাহসান খান, তিশা ও মমকে ভেঙে-গড়ে হাজির করলেন নতুন মহিমায়। স্বার্থান্ধ নাগরিক জীবনে আমরা যখন যৌথ খামার ভেঙে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হচ্ছি, পরম শ্রদ্ধেয় বাবা-মায়ের আশ্রয় থেকে হারিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তখনই সমাজের অন্ধত্ব ঘুঁচাতে কঠিন আঘাত হানলেন বান্নাহ ভাই, এই নাটক দিয়ে।

যারা আশ্রয় দেখেন নি, তারা এখনই দেখুন। ভালো না লাগলে মন ভরে আমাকে গালি দেবেন। আর ভালো লাগলে বাবা-মা’য়ের প্রতি যত্নবান হোন, বান্নাহ ভাইকে শুভকামনা জানান।

মাবরুর রশিদ বান্নাহ ভাই, এই দাহকালে আপনিই আলোঘর। আপনাকে টুপিখোলা স্যালুট।’

অন্তর চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, ‘আশ্রয়’ মানুষের হৃদয়ে গাঁথানো এক গল্প, যা মানুষ খুব সহজে ভুলতে পারবে না। 

দীপ আহমেদ নামে আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অভিনয় যদি কোনো শিল্প হয় তবে 'নুসরাত ইমরোজ তিশা' সেই শিল্পের রানী। তাহসানের নাটকের ছোট্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অসাধারণ অভিনয় ছিলো এই নাটকে।
'মোশাররফ করিম' আবার প্রমান করলেন এখনো তিনি ফুরিয়ে যান নি। মোট কথা এই গল্প, মেকিং আর শেষের দিকের এক একটা সংলাপ ডেলিভারিতে আপনার চোখে পানি আসতে বাধ্য।
Mabrur Rashid Bannah দিন দিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, আমার দেখা এখন পর্যন্ত সেরা কাজ "আশ্রয় "

ইউটিউবে ‘আশ্রয়’র কমেন্ট বক্সে সাদ্দাম নামের এক দর্শক লেখেন, ‘নাটকটি দেখার পর ১০ মিনিট রাতে অঝোরে কাঁদলাম। এই প্রথম কোনও নাটক দেখে কাঁদলাম। আল্লার কাছে হাজারো শুক্রিয়া যে আমার বাবা মা এখনও বেঁচে আছেন, আর আমার কাছেই আছেন। নাটক তো এমনই হওয়া উচিৎ।’

মো. ইব্রাহিম খলিল নামের একজন লিখেছেন, ‘ভাষা হারিয়ে ফেললাম। কী লিখবো, নাটক নাকি বাস্তব জীবন। অদ্ভুত সুন্দর কাহিনী, আমি কাঁদতে ভুলে গিয়েছিলাম। আজ চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না।’

এবারের ঈদে মাবরুর রশিদ বান্নাহর ১৪টি নাটক প্রচারিত হলেও সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছেন ‘আশ্রয়’ নাটকটি দিয়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আসলে একটা কাজ প্রশংসিত হওয়ার মূলে থাকে গল্প। ‘আশ্রয়’র গল্পটি অনেক সুন্দর। যা এক নজরে আমার দৃষ্টি কাড়ে। তখনই বুঝেছিলাম, এটি প্রশংসিত হবে। কাজটিও ছিল খুব গোছানো। তাছাড়া অনেকে প্রশ্ন করেছে এক নাটকে এতগুলো অভিনয় শিল্পীকে (মোশাররফ করিম, জাকিয়া বারী মম, তাহসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা) একসঙ্গে করলেন কীভাবে? আসলে এর গল্পটাই ছিল এমন, গল্প শুনে কেউ মুখ ফেরাতে পারেনি। শুটিং চলাকালীন ইউনিটের সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছিল। 

একটা সফল প্রোডাকশনের জন্য টিম মেম্বারদের সহায়তাটা খুব দরকার উল্লেখ করে এই নির্মাতা বলেন, আসলে এটি নির্ভর করে টিমের উপর। আমি খুব সুন্দর ও গোছানো একটি টিম তৈরি করেছি। এর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আর মানসম্মত নাকি মানহীন, এর বিচার করবে দর্শক। এখন পর্যন্ত আমার কোনো নাটক নিয়ে দর্শকদের নেতিবাচক মন্তব্য পাইনি। 

তবে বান্নাহ’র আজকের এই অবস্থানে আসতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। জানালেন সে কথাও। তিনি বলেন, আমি ৫৭টি মিটিং করে হতাশ হয়েছি। প্রায় ১ বছরের মতো কোনো কাজ পাইনি। অবশেষে আমার বাবা, আমার পাশে এসে দাঁড়ান। আমার প্রথম নাটক ‘ফ্লাশব্যাক’ এর প্রযোজক তিনি। নাটকটি ২০১১ সালে ১৬ ডিসেম্বর এনটিভিতে প্রচার হয়। আমি চাইনি, পরিবারের সাহায্য নিয়ে এগিয়ে যেতে। কিন্তু পরিবারের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়েছি। এতবার রিজেক্ট হওয়ার পরও আমি হাল ছাড়িনি। বরং হতাশা আমাকে আরও জেদি করে তুলেছে। জেদ করা যায় কিন্তু জেদের ওপর থাকতে সবাই পারে না। আমি জেদের উপর থাকতে পারি।

‘আশ্রয়’ ছাড়াও ঈদুল আজহায় বান্নাহর ‘লেডি কিলার-২’, ‘ডেইট’, ‘থার্ড জেন্ডার’, ‘মুগ্ধ ব্যাকরণ’ নাটকগুলো দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

জনপ্রিয় এই নাট্য নির্মাতা বলেন, ‘আশ্রয়’ নাটকে যা দেখানো হয়েছে, এমনটা আমাদের সমাজে এখন অহরহ ঘটছে। নাটকটি দেখে কেউ যদি নিজেদের ভুল বুঝতে পারে, সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা।

তিনি বলেন, ‘আশ্রয়’ করতে গিয়ে সবাই অনেক কষ্ট করেছেন। তাদের পরিশ্রমের কারণে দর্শকদের আমরা ভালো কাজ উপহার দিতে পেরেছি। এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা কাজ হয়ে থাকবে।

এদিকে ঈদুল আজহায় প্রচারিত নাটকগুলো নিয়ে ‘বাংলা নাটক’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে দর্শক তাদের ভালো লাগা-মন্দ লাগার কথা জানান। একপর্যায়ে তারা সেরা কাজ বাছাইয়ের জন্য একটি পুল ক্রিয়েট করে ভোটিং ব্যবস্থা চালু করেন। সেখানে মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র ‘আশ্রয়’ নাটকটি ‘সেরা’ বলে বিবেচিত হয়।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর