এই দিন

রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

Beta Version
   এই দিন
১৫৭

ডায়াবেটিসে যাপিত জীবন ব্যবস্থা

আমিনা শাহানাজ হাশমি (পুষ্টিবিদ)

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২০  

১৪ ই নভেম্বর আমরা পালন করলাম বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এই দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল" ‘ডায়বেটিস-সেবায় পার্থক্য আনতে পারেন নার্সরাই"।

  সারাবিশ্ব আজ এ সমস্যায় মুখোমুখি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস রোগীরা বেশ ঝুঁকির মধ্যে পার করছে। বাংলাদেশ আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। সারা বিশ্বে আক্রান্ত মানুষের ৪২ কোটি বেশি যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে।

এটি এমন একটি রোগ যার কোন শেষ নেই বা কখনোই নির্মূল হবে না।একটি সুশৃঙ্খল জীবন ব্যবস্থা, একটি রুটিন মাফিক জীবন, কিছু খাদ্যভ্যাস, আর নিয়মিত ব্যায়াম এই রোগটি কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই রোগটি নির্মূল করার তেমন কোন ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে নিয়ন্ত্রণ করার মতো কৌশল আবিষ্কৃত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের চারপাশে যেসব খাবার গুলো আছে তার থেকে আমাদের প্রতিদিনের দৈনিক খাদ্য তালিকা তৈরি করে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন অবশ্যই পুষ্টিকর ও সুষম খাবার হয়।

   যেসব নিয়মগুলো আমরা মেনে চলবো

        #  প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সকালের মুক্ত আবহাওয়া কিছুক্ষণ শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করা যায় ।প্রকৃতিতে যে আবহাওয়া রয়েছে তা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খুবই উপকারী এবং একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

          # খাবারের সময় একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে খাবারের সময় টা কি আমরা ৬ টি ভাগে ভাগ করে নিতে পারি। যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন তারা অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা পরপর কিছু না কিছু খাবার খেতে  চেষ্টা করবেন।

           # প্রতিটি মানুষের জন্য শর্করা অপরিহার্য অপরিহার্য। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য প্রয়োজন জটিল শর্করা। যা ভেঙ্গে ডায়াবেটিস রোগীদের দেহে কম গ্লুকোজ তৈরি করবে এবং রক্তের গ্লুকোজ এর পরিমাণ বাড়াবে না বা শর্করার পরিমাণ বাড়াবে না। যেমন লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত ইত্যাদি। তবে মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো ডায়বেটিস রোগীদের এড়িয়ে চলাই ভালো।

       #  প্রোটিন বা আমিষ খেতে হবে, তবে লাল মাংস কম খাওয়াই ভালো। প্রোটিন এর মধ্যে মাছ, মুরগি, দুধ, ডিম ,বাদাম জাতীয় খাবার ইত্যাদি খেতে পারেন।

       # প্রতিদিন রঙিন শাকসবজি ও ফল খেতে হবে ,এতে আছে খনিজ, আশ ও ভিটামিন। প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন কিছু না কিছু আঁশযুক্ত খাবার খেতে হয়।

     #  ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে হবে ডায়াবেটিস রোগীরা ভিটামিন-সি গ্রহণের পাশাপাশি ডায়াবেটিকস কম থাকবে ও ইউনিটি তৈরি হবে।

     # প্রতিদিন নিয়ম করে অবশ্যই বাড়ির রোদ যুক্ত স্থানে কিছু সময় অন্তত 30 থেকে 45 মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে। এতে করে আপনার সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে যা শরীর হাতের ব্যথা দূর করবে ও আপনার শরীরে ইউনিটি তৈরি করবে।

      #  রান্নায় অবশ্যই তেলের পরিমাণ কম ব্যবহার করতে হবে। তবে ওমেগা যুক্ত তেলের ব্যবহার করা যায় ।যেসব খাবারে  ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড রয়েছে যেমন ইলিশ মাছ, টুনা মাছ, রূপচাঁদা মাছ, বাদাম ইত্যাদি সপ্তাহে অন্তত দুদিন হল খেতে হবে।

   #  বাইরের প্যাকেটের খাবার বা বাইরের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

    # পানীয় বা কৃত্রিম জুস খাওয়া যাবে না এতে রক্তের চিনির পরিমাণ বাড়বে। ধূমপান অ্যালকোহল গ্রহণ বর্জন করতে হবে।

   # প্রতিদিন ঘুমানোর আগে টক দই বা সর তোলা আধা কাপ দুধ খেতে পারেন ।এতে করে আপনার ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হবে এবং আপনি সুস্থ থাকবেন।

ডায়াবেটিস নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো প্রয়োজন নেই ।নিয়মমাফিক জীবন ,হালকা ব্যায়াম, নিজের কাজ নিজে করা ইত্যাদিতে অভ্যস্ত হোন। যেকোনো ধরনের বাইরের খাবার বর্জন করুন এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবন পরিচালনা করুন অবশ্যই আপনি সুস্থ থাকবেন।
 

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর