এই দিন

রোববার   ৩১ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭   ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

Beta Version
সর্বশেষ:
আজ দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর সাড়ে চার কিলোমিটার সরকারের সব খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাবিহীন: ফখরুল গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত ১৭৬৪ জন, মৃত্যু ২৮ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা, বিক্ষোভে জ্বলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনোপোলিস সোমবার থেকে বাস চালু, ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা থাকবে
৭২

জামাত ও জুমায় সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ

প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২০  

বিশ্ব আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ও জনগণ চরম উদ্বিগ্ন। এ সংকটময় মুহূর্তে আমাদের তাওবা, ইস্তেগফার ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে।

একটি হাদিসে আছে ইসলামে কোনো কুলক্ষণ ও সংক্রমণ নেই, অন্য হাদিসে আছে ‘তোমরা কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকো, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।’ (বুখারি : ৫৭১৭)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘কেউ যেন রোগাক্রান্ত উট সুস্থ উটের সঙ্গে না রাখে।’ (বুখারি : ৫৭৭১)। প্রথম হাদিস ও পরের দুটি হাদিসের মধ্যে বাহ্যিকভাবে বিরোধ মনে হলেও বাস্তবে বিরোধ নেই। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও হাদিস বিশারদ ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এখানে মূলত প্রথম হাদিসটিতে মানুষের বিশ্বাসকে ঠিক করা হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম ছাড়া রোগ নিজে নিজে সংক্রমিত হতে পারে না। পরবর্তী হাদিসগুলোতে মানুষকে এ ধরনের অবস্থায় দূরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম হাদিসের সম্পর্ক হলো বিশ্বাসের সঙ্গে আর পরের হাদিসগুলোর সম্পর্ক হলো আমলের সঙ্গে। তাই এ সংকটময় কালে আমরা জামাত ও জুমায় উপস্থিতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করব। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না আসার জন্য বলা হয়েছে, যাঁরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত; যাঁদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে; যাঁরা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন; যাঁরা ওইরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন; যাঁরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত; বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল, নারী ও শিশু; যাঁরা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ও যাঁরা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন।

যাঁরা জুমা ও জামাতে যাবেন তাঁরা সবাই সব ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। অজু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নাত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, জীবাণুনাশক দিয়ে মসজিদ ও ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা মেনে চলবেন। হঠাৎ হাঁচি-কাশি এসে গেলে টিস্যু বা বাহু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাতারবন্দি হবেন।

এ হচ্ছে সতর্কতা ও সাবধানতার বিষয়। সর্বোপরি মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এ সংকটময় মুহূর্তে পূর্ণরূপে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর