এই দিন

শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৪ ১৪২৭   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Beta Version
   এই দিন
১৫৯২

খোকনে নারাজ ছিলেন কাউন্সিলররা, তাপসে ফিরছে আস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২০  

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন সাঈদ খোকন। তিনি অবিভক্ত ঢাকার প্রথম মেয়র মোহাম্মদ হানিফের সন্তান। সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। দলীয় বিভিন্ন সূত্র বলছে, মেয়র হিসেবে তার ব্যর্থতাকেই বড় করে দেখা হয়েছে। ফলে তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়ার চিন্তা করেনি দল। 

অন্যদিকে নগর ভবনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অবমূল্যায়ন করারও অভিযোগ রয়েছে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে। তিনি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দ্বারা বেষ্ঠিত ছিলেন। ঠিকাদারদের মাধ্যমে কমিশন নিয়ে কাজ দিতেন। ২০ পার্সেন্ট কমিশন না দিলে কাজ দেওয়া হতো না এমন অভিযোগ চাউর রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

এছাড়া স্থানীয় কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ত না করে ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজগুলো করতেন সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে। যার কারণে উন্নয়ন কাজে কোনো জবাবদিহি ছিলো না। 

কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তাদের অধিকাংশই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকার কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে আমাদের জানানো হতো না। সব প্রকল্প সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন বিভিন্ন ঠিকাদারদের কমিশনের মাধ্যমে দিয়ে দিতেন। 

বরখাস্ত হওয়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বিক্রি করতেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। এতে আরও জড়িত ছিলেন বরখাস্ত হওয়া প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারও। 

অতিবর্ষণ ও মেঘা প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারদের বিক্রি করে কমিশন নিতেন সাঈদ খোকন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, আমার এলাকায় কি কাজ হতো আমি নিজেও জানতাম না। শোনা যেতো তিনি (সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন) কমিশন নিয়ে ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে দিতেন। যার কারণে এলাকায় কি উন্নয়ন কাজ হচ্ছে তা ঠিকভাবে জানা সম্ভব হতো না। এছাড়া কাজের জাবাদিহি না থাকায় উন্নয়ন কাজগুলো ঠিক মতো করা সম্ভব হয়নি। 

কাউন্সিলরদের সঙ্গে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের কোনো সমন্বয় ছিলো না বলেও জানান বর্তমান এই কাউন্সিলর। 

সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের সফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর রতন বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের একটি স্বপ্ন থাকে কেউ কাউন্সিলর, কেউ এমপি বা কেউ দলীয় নেতা হবেন। সাঈদ খোকন মেয়র ছিলেন তিনি কতটুকু সফল কতটুকু ব্যর্থ আমি শুধু একটা উদাহরণ দেই। তার মাধ্যমে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর খোঁজে নিবেন। ওনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও অবিভক্ত ঢাকার প্রাণ পুরুষ মেয়র হানিফের সন্তান। ওনি দ্বিতীয়বার যখন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। তখন ওনার সহকর্মী ছিলেন ৭৫ জন কাউন্সিলর এবং ২৫ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর। এই ১০০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে একজন কাউন্সিলর কেউ মনোনয়ন কেনার সময় সঙ্গে পাননি এবং জমা দেওয়ার সময়ও কোনো কাউন্সিলর তার সঙ্গে যাননি।

তিনি বলেন, ওনার ১০০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১ জন কেউ তিনি মনোনয়ন কেনা ও জমা দেওয়ার সময় সঙ্গে নিতে পারেননি। আপনার এই প্রশ্নে আমার উত্তর। সাঈদ খোকন কতটুকু সফল আর কতটুকু ব্যর্থ এটা এখন সবাই বুঝে নিবে আশা করি। 

সাঈদ খোকন মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ বছরে বেশ কিছু সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিনি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেননি। উল্টো বিভিন্ন ধরনের বেফাঁস বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা যানজটমুক্ত করার প্রতিশ্রুতিসহ নির্বাচনের আগে ও পরে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে তিনি দলেরও মধ্যে বিতর্কিত হয়েছেন। 

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বিপুল ভোটে বিজয় হয়ে নগর ভবনের চেয়ারে বসেছেন। এ কারণে নগর ভবনের কার্যক্রমে গতি ফিরে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন নির্বাচিত কাউন্সিলররা। একই সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সম্মান ফিরে পাবে বলেও জানান তারা।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর