শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৮ শা'বান ১৪৪১

Beta Version
সর্বশেষ:
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন ৫ এপ্রিল তথ্য গোপন করে এই মহামারী এড়ানো যাবে না: রিজভী বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ ছাড়িয়ে, প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৪৮ হাজার করোনা সর্তকতায় আজ থেকে কঠোর অবস্থানে সেনাবাহিনী ঘর থেকে তুলে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা ঢাকা ছাড়লেন ৩২৭ জাপানি বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ সাধারণ ছুটিতে ব্যাংকে লেনদেনের সময় বাড়ল করোনায় মৃত ব্যক্তির থেকে ভাইরাস ছড়ায় না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি উপজেলা থেকে করোনার অন্তত দুজনের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে আরও দুজন করোনা রোগী শনাক্ত ,২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা যাননি কেউ: এমআইএস
৬১

কিয়ামতের বড় আলামতগুলো প্রকাশের দ্বারপ্রান্তে

তারেকুজ্জামান তারেক

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২০  

বর্তমানে আমরা এমন একটি সময় অতিক্রম করছি, যখন প্রতিটি মুহূর্ত ভয় ও আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। মরার ভয়, গুম হওয়ার ভয়, ধর্ষণের ভয়, জুলুমের ভয়, সম্পদ লুটপাটের ভয়, মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হওয়ার ভয়- চারিদিকে আজ কেবল ভয়েরই প্রতিধ্বনি। এই যে একবিংশ শতাব্দীতে হঠাৎ করেই হুহু করে ফিতনার দ্বারগুলো খুলে যাচ্ছে, একে একে তাসবিহের দানার ন্যায় ফিতনাগুলো ধেয়ে আসছে, মানুষের জীবন জুলুম-অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে; আপনি ভাবছেন চলমান এসব ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই ঘটছে! জি না, এসব স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ হলো মহাপ্রলয়ের অগ্রিম সংকেত। অধিকাংশ মানুষ কিয়ামতকে দূরে ভাবে; অথচ কিয়ামত তাদের চৌকাঠে কড়া নাড়ছে।

কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে এভাবেই ফিতনার স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। ক্রমেই পৃথিবী অশান্ত হয়ে উঠবে। জুলুম-অনাচারে পৃথিবী কানায় কানায় ভরে যাবে। অকল্পনীয় সব পরিস্থিতির শিকার হবে মানুষ। বাবার হাতে মেয়ে, ভাইয়ের হাতে বোন ধর্ষিতা হবে। দুধের বাচ্চা থেকে শুরু করে আশি বছরের বুড়ি- কেউই এ নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। মানুষ দেদারসে মরতে থাকবে। কারণে-অকারণে নিহত হতে থাকবে। প্রকোপ এতটাই বেশি হবে যে, হত্যাকারীও জানবে না, কেন সে হত্যা করছে, আর নিহত ব্যক্তিও জানবে না, কেন তাকে হত্যা করা হচ্ছে। মানুষের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। অশ্লীলতার সয়লাব ও চারদিকে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে যাবে।

বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত পৃথিবীতে যে পরিমাণ বিপর্যয় ও ফিতনা এসেছে, একবিংশ শতাব্দীর মাত্র এ বিশ বছরেই তার কয়েকগুণ বেশি ফিতনা প্রকাশ পেয়েছে। এ মাত্রা আরও দ্রুতই বাড়বে এবং জুলুম তার শেষ স্তরে পৌঁছবে। এরপর প্রতীক্ষিত সে ইমাম আসবেন এবং মহাপ্রলয়ের আগ দিয়ে নতুন করে পৃথিবীতে শান্তির কেতন উড়াবেন। কিয়ামতের বড় আলামত প্রকাশ হওয়ার আগে যতগুলো ছোট আলামতের কথা হাদিসে এসেছে, আমাদের অনুসন্ধান মতে তার ৯০% আলামতই চলে এসেছে। বর্তমানে ফিতনার যে গতি, তাতে বাকি ১০% পূরণ হতে কতদিন লাগবে, আল্লাহই ভালো জানেন। তবে খুব বেশি যে দেরি নেই, সেটা হলফ করেই বলা যায়।

সার্বিক বিবেচনায়ই সময়টি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নাজুক ও ভয়ংকর। যতটা না ভয়ংকর জান ও মালের ক্ষেত্রে, তার চেয়ে শতগুণে বেশি ভয়ংকর ইমান ও আমলের ক্ষেত্রে। এ সময়ে মুমিনরা সকাল-বিকাল কাফির হতে থাকবে; যেমনটি সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে। আকিদা-মানহাজ সব গড়বড় হয়ে যাবে। আলিমরা দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাত বিক্রি করে দেবে। নামসর্বস্ব আলিম নামের জাহিলরা ধর্মীয় নেতায় পরিণত হয়ে নিজেরাও ধ্বংস হবে এবং অনুসারীদেরও ধ্বংস করবে। ‘কিতাবুল ফিতান’ ও ‘আশরাতুস সাআহ’ অধ্যায়গুলোতে যা পড়েছি, প্রায় সবই আজ বাস্তবে ঘটতে দেখছি। খুব ভয়ে দিন কাটছে। প্রতিদিন ইমানকে যাচাই করে দেখতে হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন।

   এই দিন