এই দিন

মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২৯ ১৪২৭   ২৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beta Version
   এই দিন
সর্বশেষ:
এবছর সিপিজের অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শহিদুল আলম হাটে হাটে উঠেছে গরু, নেই ক্রেতা দুই সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু
১২৮

ওয়াসার এমডির রোষানলে কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২০  

ঢাকা ওয়াসার নতুন অর্গানোগ্রাম, আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্বেচ্ছারিতা বন্ধে ঢাকা ওয়াসার শ্রমিক ইউনিয়ন ফের উত্তাল। ওয়াসায় পর্যাপ্ত শ্রমিক থাকার পরেও আউটসোর্সিংয়ে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে সিবিএকে এবং নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদেরকে অকার্যকর করার চেষ্টা করছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ওয়াসা ভবনের সামনে টানা পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা।

এমডির স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ, চরম স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড এবং নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপের কাছে শ্রমিক-কর্মচারীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

ঢাকা ওয়াসা সেবাধর্মী বাণিজ্যিক এই প্রতিষ্ঠানে ৩০০ থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় হয়েছে। এই টাকা অর্জিত হয়েছে আমাদের এসব শ্রমিক-কর্মচারীর মাথার ঘামের বিনিময়ে। এজন্য শ্রমিক-কর্মচারীদের ওয়াসার এমডি প্রকৃত পাওনা পরিশোধ করেন না।

ঢাকা ওয়াসা শ্রমিক ইউনিয়ন সিবিএ'র সাধারণ সম্পাদক আশকার ইবনে শাইখ খাজা এই প্রতিবেদককে বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার ক্ষমতা বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদদলিত করেন। তিনি একের পর এক কর্মচারী বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা শহরে ১০০ টি পাম্পকে মনুষ্যবিহীন জনশূন্যভাবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমডি। এতে অসংখ্য শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে।

সহ-সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম হারুন বলেন, ঢাকা ওয়াসার শ্রমিকদের ন্যায় দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকা হবে। ওয়াসার অর্গানোগ্রাম এমডির ইচ্ছে মতো তৈরি করা হয়েছে। এখানে কর্মকর্তাদের স্বার্থ বাস্তবায়ন করে শ্রমিকদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। ফলে নিজ নিজ অধিকার রক্ষায় ওয়াসার শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছে।

এসব বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ঢাকা ওয়াসা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিতভাবে অবগত করা হয়। এরপরও তার ন্যূনতম বোধোদয় পরিলক্ষিত হয়নি বলেও জানান আন্দোলরত শ্রমিকরা। তাছাড়া, ওয়াসার অনেক কর্মচারীকেই তার রোষানলে বদলির তোপে পড়ে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, ‘এমডির স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ঢাকা ওয়াসা শ্রমিক-কর্মচারীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আজ দেশের এ কঠিন দুঃসময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকা রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে নামতে আমরা বাধ্য হয়েছি।’

আন্দোলনের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি দাবি দাওয়া তুলে ধরেছেন ঢাকা ওয়াসা শ্রমিক ইউনিয়ন সিবিএ নেতারা। এগুলো হলো: নিয়মিত কর্মচারী শূন্য, সেটআপ (অর্গানোগ্রাম) বাতিল, অনিয়ন্ত্রিত আউটসোর্সিং নিয়োগ বন্ধ, পূর্বের ন্যায় ডাবল রেট ওভার টাইম দেওয়া, কোভিড-১৯ এর মধ্যে হয়রানিমূলক বদলি বাতিল, সব এপিওদের রাজস্ব পরিদর্শক, এলডিএসহ পি়ও পদে পদোন্নতি দেওয়া, সর্বোপরি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মীমাংসিত সব দাবি বাস্তবায়ন এবং সময়োপযোগী কাজের উপযুক্ত পরিবেশ ও সরঞ্জাম দেওয়া।

প্রসঙ্গত, সারা পৃথিবীর মানুষ এক কঠিন দুঃসময় অতিক্রম করছেন। যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মানুষ বাঁচার আকুতিতে প্রার্থনারত, সেসময় ঢাকা ওয়াসার কর্মচারীরা রুটি-রুজির তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চাকরি বাঁচানো ও ন্যায্য পাওনা আদায়ে আন্দোলন করছেন। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

   এই দিন
এই বিভাগের আরো খবর